somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সদানন্দ সরকারের গল্প : শীষ্ শেষপর্ব (সমাপ্ত)

১৪ ই আগস্ট, ২০১৪ বিকাল ৩:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
চার (শেষ পর্ব)


এই ঘটনার অল্পদিনের মধ্যেই আরাফাত সাহেবের সাথে আমার খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেল। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর সে যেই চা দোকানটায় আড্ডা দেয়, সেখানে চা খেতে যেতেই আরাফাত সাহেব আমাকে দেখে এগিয়ে আসেন ও পল্টনের সেই হোটেলে আমাকে বাধা দেবার কথা স্মরণ করিয়ে নিজেই তার পরিচয় দেন। আমরা একসাথে চা খাই। আলাপের শুরুটা এভাবে হলেও শেষটা খুব খারাপ হয়েছিল। শবে কদরের রাতে একটা সাদা মাইক্রোতে করে আমরা ঘুরতে যাবার নাম করে আরাফাত সাহেবকে নিয়ে যাই প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব বাংলোয়। ইতিপূর্বেই তার সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিহেই পড়েছেন সব। পড়ে খুব হেসেছেন আবার লজ্জাও পেয়েছেন। চীফ অব কমিশনার এসপি মান্নান সাহেব প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব লোক। সম্পর্কে তিনি আমারও মামা শ্বশুর। অর্থাৎ জেসমীনের মামা। তাই আমি আর জেসমীন এ সময় উপস্থিত ছিলাম। আমাদের সম্মুখেই প্রধানমন্ত্রী তাকে ধরে আনার আদেশ দিলেন। আমরা ধরে আনলাম অনেকটা আসামীর মত করে। কেন কি জন্যে তা বুঝতে না পেরেই আমাদের এই আচারণটি পরবর্তীতে খুব লজ্জায় ফেলেছিল।
কেননা আরাফাত সাহেবকে দেখেই প্রধানমন্ত্রী তাকে জড়িয়ে ধওে প্রচ- ভর্ৎসনা ও গালাগাল দিতে শুরু করলেন যেন নিজের ছেলেকে বকছেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনেকটা এমন যে, কত লোক কতভাবে আমার থেকে সুবিধা নিচ্ছে, সাত-পাঁচ বুঝিয়ে দেশের অর্থ রুটে নিতে আসছে। আর আমার ছেলে হয়ে তুমি একটা বস্তিতে পওে আছ? একবার আমার কাছে আসলে কি হত? ভাগ্যিস তোমার আমজনতা পার্টির ফেসবুক আইডিটা আমার ফেসবুকে লিংক দিয়েছিলে, তাইতো খুজে পেলাম। এই সব বন্ধ কর, আমার প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ কর আজ থেকেই।
শুনেতো আমাদেও পিলে চমকে উঠলো। একী বলছেন প্রধানমন্ত্রী, এই আরাফাত তার ছেলে কি কওে হয়? ঈওে জানলাম, প্রধানমন্ত্রীর স্কুল জীবনের বান্ধবীর ছেলে এই আরাফাত সাহেব। যেই বান্ধবীকে তিনি নিজের আপন বোন বলে দাবী করেন। শিশুবেলা আরাফাত সাহেব প্রধাননমন্ত্রীর কোলে শিস্ও করেছেন।
সে যাক, কিন্তু আমাদেও তাজ্জব কওে দিয়ে আরাফাত সাহেব যা বললেন, সেজন্য না প্রধানমন্ত্রী প্রস্তুত ছিলেন, না আমরা কেউ। আরাফাত সাহেব বললেন, খালামনি, আমি তোমার প্রধান উপদেষ্টা হতে পারবো যদি তুমি এই মূহুর্তে দেশের শাসন ব্যবস্থায় কিছু জরুরী সংশোধনী এনে নিজে আগে পদত্যাগ কর।
প্রথম পরিবর্তন আনো তোমার রাষ্ট্রীয় যাবতীয় আইন শৃঙ্খলাতে। পবিত্র কোরআন অনুসারে আদালত ও পুলিশী আইন কার্যকর কর। চুরি করলে হাত কেটে দেবে, ঘুষ, দুর্নীতি, খুন, ধর্ষণ ইত্যাদি প্রমাণ হলেই মৃত্যুদ্বন্ড।
দ্বীতিয়ত পরপর দুইবারের বেশি কেউ একই পদে কখনো থাকতে পারবে না। তুমিও না। দলের চেয়ে দেশ বড় এ মন্ত্রে চরতে হবে প্রতিটি নাগরিককে। তাই এই মূহুর্তে স্বাধথীন নির্বাচন কমিশন গঠন করে, আগামি তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে তুমি পদত্যাগ কর। তবেই আমি তোমার উপদেষ্টা হতে পারবো। যদিও তখন আর তোমার কোনো উপদেষ্টারই প্রয়োজন হবে না। কারণ নিয়ম অনুযায়ি তুমি আর কোনোদিনই প্রধানমন্ত্রী বা দলীয় প্রধান হতে পারবে না। আমি বরং তোমার ছেলের উপদেষ্টা হব তখন। কথাগুলো বলেই আরাফাত সাহেব প্রধানমন্ত্রীর কক্ষ থেকে বের হয়ে গেলেন। ইশারা পেয়ে আমরাও তার পিছু নিলাম। মাইক্রোতে করে তাকে পৌঁছে দিলাম তার ঘরে। ঘরের সব আড়িপাতা যন্ত্র ছড়িয়ে নিলাম। সহকর্মীরা সবাই বিদায় নিলে আমি আনন্দে আরাফাত সাহেবকে জড়িয়ে ধরলাম।
দু ‘দিন পরে চীফ অব কমিশনার থেকে জানলাম, আরাফাত সাহেবের কথাগুলো প্রধানমন্ত্রীকে খুব ভাবনায় ফেলেছে, তিনি এ বিষয়ে জরুরী পরামর্শ সভা করেছেন বিশ্বস্ত কয়েকজনের সাথে। এতে সেনাপ্রধান, পুলিশ প্রধান ও দলীয় মাত্র দুইজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলেই সুন্দর একটি দেশ তৈরি করতে হলে আরাফাত যা বলেছেন তা করার পক্ষে একমত দিয়েছেন। এ সময় প্রদানমন্ত্রী তার ছেলের ভবিষ্যত প্রসঙ্গ তুলে ১৫ই আগস্ট এর মত কোনো ঘটনা যেন আর না ঘটে সেই বিষয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ ক্ষেত্রেও সবাই পবিত্র কোরআনের আইনকে অনুসরণ করার পক্ষে যুক্তি তুলে দরেন। বলেন, এতে করে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের মানুষেরাও শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। সবশেষে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে করনীয় বিষয়ে আলোচনা হয়, এতে আরাফাত সাহেব-এর মতো আরো চারজন মানুষকে খুজে বেরকরার দায়িত্ব দেন প্রদানমন্ত্রী। যাদের হাতে নির্বাচন কমিশনকে ছেড়ে দিতে পারবেন তিনি।

স্বাধীন নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েই পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। বন্ধু আরাফাতকে জড়িয়ে ধরে এ তথ্য জানাতেই তিনি বললেন, আলাহ প্রদানমন্ত্রীর হায়াৎ বাড়িয়ে দিন, তিনি যেন আগামী সুন্দর দিনগুলো আমাদের সাথে আনন্দে কাটাতে পারেন।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×