অনেক বছর আগের কথা।
আচমকা সভ্য সমাজে এসে ঢুকে পড়েছিল এক দল নষ্ট-ভ্রষ্ট জলের কাফেলা। আমরা সভ্য মানুষেরা যাকে আদর করে "বর্ষা" বলি! অতি আদরে নষ্ট হয়ে যাওয়া ছোট ভাই-বোনদের মত সেই জলের দলও ছিল দুরন্ত,বাধাহীন। সকল সীমা অতিক্রম করে তাঁরা অল্প সময়ের মধ্যেই এক বিরাট জল-জাগরণ ঘটিয়ে ফেলল।
ততদিনে জলের প্রতিটি ফোটার বিরুদ্ধে কলঙ্কের বদনাম ছড়িয়ে পড়েছে। তথাকথিত শৌখিন মানুষেরা পা বাঁচানোর কৌশল বের করতে ব্যস্ত ছিল তখন। সেই সুযোগে স্নো-পাউডার মাখানো রাস্তাঘাট; চিকা মারা কালভার্ট। সব মাখা-মাখি হয়ে গেল কলঙ্কময় নোংরা জলে।
আর আমরা, কয়েকজন নিশী-মানব ছিলাম সে জলের সবচে বড় সমঝদার। কারণ, আমরা কলঙ্ক ভালবাসি, কলঙ্কময়ী জল ভালবাসি। জলও আমাদের ভালবাসে হয়তো। দিনের আলোতে আমরা তথাকথিত সভ্য মানুষের প্রতিনিধি। আর রাতের অন্ধকারে জলক্রিয়া-রত নষ্ট-কিশোর! জলের দেহে পা ডুবিয়ে ছোপ-ছোপ শব্দে আমরা সুর তুলি। দলের একজন হঠাৎ গেয়ে উঠে "সখি তোরা প্রেম করিওনা, পিরিত ভাল না...।"
অথচ, জলের সাথেই হয়েছিল আমাদের প্রথম পিরিত!
সরারাত জলের বুকে চলে আমাদের নিষিদ্ধ-বৈঠক। ছই তোলা নৌকায় বিস্তৃত-বিরান জলভূমিতে উদ্দেশ্যহীন ভাবে আমরা যাত্রা করি আজানার খোঁজে। প্রায়ই আমাদের সঙ্গী থাকে দু-একজন নির্লিপ্ত ফেরেস্তা। মাঝে-মধ্যে মেঘ কেটে আকাশে চাঁদ দেখা যায়। চাঁদের আলো যখন তীব্র হয় তখন ফেরেস্তাদের অস্থিরতা দেখে আমরা মজা পাই। তাঁরাও আমাদের মত নোংরা জলে পা ডুবিয়ে বসে থাকে। কলঙ্কময়ী জলের দেহে নিজেকে সপে দেয়। সিগারেট টানার পর সেই জলে কুলি করে! আজান্তে দু-এক ঢোক গিলে ফেলে হিঃ হিঃ করে হাসে।
আমরা তাদের দিকে মুগ্ধ চোখে তাকাই।
জলের সাথে আমাদের প্রেম যখন গভীর থেকে গভীরতর হয়ে আসে, তখন জলে টান পড়ে। পরকিয়ার কলঙ্ক মাথায় নিয়ে তাঁরা ফিরে যায় আপন ঘরে। নদীতে, সাগরে, আকাশে। আমরাও ফিরে আসি। আবারো অপেক্ষা করি। পঞ্জিকায় চোখ বুলিয়ে চন্দ্রের হিসাব রাখি। কখন পূর্ণিমা আসবে। যৌবনে ফুলে-ফেপে উঠা জল আমাদের পায়ে এসে মাথা ঠুকবে। আমরাও সব অভিমান ভুলে রাতের আঁধারে মেতে উঠব নিষিদ্ধ পরকিয়ায়!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



