somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারতের প্রতি আনন্দবাজার পত্রিকা "ঘর সামলান"

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উরিতে হামলার পর থেকে আমরা বিভিন্ন ধরনের খবর শুনে আসছি। কিন্তু এখন খোদ ভারতের একটি পত্রিকার সম্পাদকীয় আপনাদের জন্য তুলে ধরছি আশাকরি ভাল কিছু তথ্য পাবেন।

বী ভৎস অঘটনের মধ্যেও যে রুপালি রেখা থাকিতে পারে, তাহার উদাহরণ উরি। অনেক দিন পর কাশ্মীর সংকট তথা ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক লইয়া ভাবনাচিন্তায় একটি ক্ষীণ রজতরেখা যেন উঁকি দিতেছে। সুসংবাদ, অতি-আক্রমণাত্মক জাতীয়তাবাদী মহলের ‘যুদ্ধু-যুদ্ধু’ চিৎকারের পাশেও সেই নূতন চিন্তার ইশারাসমূহ দৃশ্যমান। বহু-প্রতীক্ষিত একটি স্বীকারোক্তি শোনা যাইতেছে যে, প্রতিরক্ষায় ফাঁক ছিল। বারামুলা-উরি অঞ্চলের সেনা-ছাউনিগুলি সুরক্ষিত নহে, স্বীকৃত হইতেছে। সীমান্ত-পারের জঙ্গিদের আশ্রয়দানে গ্রামবাসীদের ঔৎসুক্য লইয়া ভাবা হইতেছে। অন্যায় রকমে বিলম্বিত এই বোধ, তবু স্বস্তিকর। কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারতীয় নিয়ন্ত্রণ নূতন ভাবে বাড়াইবার প্রস্তাবটি ইহার মধ্যে অত্যন্ত গুরুতর। নিয়ন্ত্রণরেখা অঞ্চলে ভারতীয় পক্ষের ক্রমাগত শৈথিল্যের কারণেই পাকিস্তানি অনুপ্রবেশ ও পাক প্রভাব বাড়িয়া আজিকার এই সংকট। এমন একটি বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কেন এত দিন উদাসীন, বোঝা ভার। উরির সূত্র ধরিয়া পরিস্থিতির কিছুমাত্র পরিবর্তন হইলে পাকিস্তানের সহিত কূটনৈতিক আদানপ্রদানেও একটি প্রত্যয় যুক্ত হইবার কথা। কাঁটাতার বরাবর সদাজাগ্রত সতর্কতা নিশ্চিত করা এবং ক্রমাগত অপর পক্ষের হাতে পর্যুদস্ত হইয়া অপেক্ষা নিজেদের রক্ষা তো সেনাবাহিনীর দায়িত্ব।
অর্থাৎ, পাকিস্তানের প্রতি আক্রমণ শানানোই যথেষ্ট নয়। নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যাসমূহের সমাধান প্রথম জরুরি কাজ। কাশ্মীর লইয়া প্রধানমন্ত্রী মোদী যতই মুখে কুলুপ আঁটিবেন, মন্ত্রী-সান্ত্রিরা যতই বলিবেন ইহা কেবল ‘দুষ্টু লোক’ অর্থাৎ পাকিস্তানি গুপ্তচরদের কাজ, কাশ্মীর সংকট হইহই করিয়া বাড়িবে মাত্র। কেন উপত্যকাবাসীর একাংশ পাক জঙ্গিদের প্রতি এতটা সহানুভূতিশীল, তাহা একটি রাজনৈতিক সমস্যা। সামরিক নহে, রাজনৈতিক পথেই তাহার মীমাংসা দরকার। হুরিয়ত, গিলানি হইতে ইয়াসিন মালিক, সকলকে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ভারতের শত্রু হিসাবে চিহ্নিত না করিয়া বরং কাহারা পাকিস্তান-পন্থী, কাহারা ইসলামি মৌলবাদী এবং কাহারা কাশ্মীরের আজাদি-কামী বিদ্রোহী, সেই বিচার হউক। উপত্যকাবাসীদের কাছে বার্তা যাউক যে তাহাদের ‘নানা’ মতামত শুনিতে ভারত আগ্রহী। এই রাজনৈতিক আগ্রহ এখনও না দেখাইলে উপত্যকার যে অংশটি আজাদিকামী কিন্তু মৌলবাদী বা পাকিস্তানি দালাল নহে, তাহারাও এ বার সেই দিকে সরিয়া যাইবে। মধ্যবর্তী পরিসরটি ধ্বংস হইলে ভারতের অবশিষ্ট কাশ্মীর-আশাও শেষ হইবে।
গত দুই মাসে এই পরিসর আগের তুলনায় অনেকখানি কমিয়াছে। সংকট মোকাবিলায় বিজেপি-পিডিপি রাজ্য সরকারের অক্ষমতা দিল্লির নিকট তাহার বাধ্যতা বলিয়া প্রতিভাত হইয়াছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বদলীয় বৈঠক প্রচেষ্টায় ঐকান্তিকতার তুলনায় উন্নাসিকতাই চোখে পড়িয়াছে। যেন এই বৈঠকের লক্ষ্য যথার্থ সমাধান খোঁজা নয়, সরকারি নীতি ও রণকৌশলের পক্ষে রাজনীতির সমস্ত শিবিরগুলিকে সংহত করা। প্রশ্ন কেবল রাষ্ট্রযন্ত্রীদের সম্পর্কেই নহে, বৃহত্তর সমাজ সম্পর্কেও। সংবাদমাধ্যমও তাহার অংশ। উদারপন্থী কাশ্মীরি মহলেও প্রশ্ন উঠিয়াছে, সতেরো জন জওয়ানের দুঃখজনক অকালমৃত্যুতে ভারতীয় মিডিয়ার যে লাগাতার শোক, তাহার কয়েক শতাংশও কেন এতগুলি কাশ্মীরি প্রাণ বিষয়ে দেখা গেল না, এমনকী গুরুতর আহত শিশুকিশোরদের ছবি পর্যন্ত দেখানো হইল না। তাহারা বিদ্রোহী বলিয়া শোক পালনের যোগ্য নহে? না কি কাশ্মীরি, সুতরাং ‘পূর্ণ নাগরিক’ নহে বলিয়া? ইহা একটি রাজনৈতিক ক্ষোভ। রাবার-বুলেট ছোড়া আর প্রাণে মারা ইহার সমাধান হইতে পারে না, তাহা মোদী-শাহরা জানেন নিশ্চয়।

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:০৯
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×