কারবালার ব্যাপারে শিয়া-সুন্নি সকল মুসলিমই একমত। যারা ইয়াজিদকে
নির্দোষ বলতে চান তারা ঐতিহাসিক সত্যকে ঘুরিয়ে ফেলতে চান।
প্রকৃত মুসলিমরা কখনো ইয়াজিদের সমর্থন করতে পারে না এবং করেনি।

শোহাদায়ে কারবালার কথা মানুষ কখনো ভুলবে না। এখানে নবী-
পরিবারের উপর জুলুম করা হয়েছে। ইমাম হুসাইন শাহাদাত বরণ করে
এমন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যা কিয়ামত পর্যন্ত সব মানুষ স্মরণ রাখবে।
কারবালার আত্মদান ও ইমাম হুসাইন (আ)-এর আন্দোলনকে খাটো
করে এবং একে গৌণ করার জন্যে ইনিয়ে-বিনিয়ে নানা ঘটনার বর্ণনা
দেয়া হচ্ছে। বলা হয় এ ঘটনা হটাৎ করেই এদিনে ঘটে গেছে এবং
ইয়াজিদ নির্দোষ। সে এই ঘটনার জন্যে অনুতপ্ত। আরও বলা হয়
ইমাম হাসান ও হুসাইন (আ) প্রাণ দিয়ে উম্মতের গোনাহ মাফ করে
গেছেন- যেভাবে খ্রিস্টানরা বলে, যিশু ক্রুশে জীবন দিয়ে তাদের পাপ
মোচন করে গেছেন! এভাবে কারবালা সম্পর্কে ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে ইমাম
হুসাইনের আন্দোলনের প্রকৃত ঘটনাকে ধামা চাপা দেয়ার চেষ্টা করা
হচ্ছে।
ইয়াজিদ ক্ষমতায় এসেই ইমাম হুসাইনের উপর চাপ প্রয়োগ করে
জোরপূর্বক বাইয়াত আদায়ের চেষ্টা করে। বাইয়াত না করলে তাঁকে হত্যা
করতে হবে বলে আদেশ দেয়। ইমাম হুসাইন (আ)-এর শাহাদাতের পর
সে বিজয়-উল্লাস করে।
আজকে যারা বলে ইয়াজিদ কিছুই জানতো না, যত দোষ সব ইবনে
জিয়াদের আর শিমারের। তাহলে স্বাভাবিক প্রশ্ন সে ইবনে জিয়াদ ও
শিমারকে মৃত্যুদণ্ড দেয়নি কেনো?
‘মুসলমানদের মধ্যে যখন ঐক্য ও স্থিতিশীল অবস্থা থাকে তখন মুসলমানেরা
শিল্প, বিজ্ঞান, কলা, সাহিত্য, গবেষণা ইত্যাদিতে চরম উন্নতি সাধন করে।
তখন মুসলমানদের মধ্যে গড়ে ওঠে ইবনে সিনা, আল বিরুনি, আল গাজ্জালি,
আল ফারাবি প্রমুখ। আর যখন পরস্পর ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হয় তখন তাদের
মন মগজ ব্যস্ত থাকে বিবাদে। তখন কোন মহান কাজ তাদের দিয়ে হয় না।
রাসুলের সুন্নতকে শিয়া-সুন্নি সবাই আঁকড়ে ধরেছে, আর রাসুলের আদর্শকে
সবাই ভালবাসে, তাহলে কিসের বিভেদ?
সাম্রাজ্যবাদীরা সবসময়ই 'ডিভাইড এন্ড রুল' তথা 'ভাগ কর ও শাসন কর'
নীতিতে বিভিন্ন ভ্রান্ত মতবাদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ
তৈরি করছে।’
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



