
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলাকে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর অগ্নিসংযোগের বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার জন্য এবং বাংলাদেশে হিন্দুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে ভারত যে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, সেই বার্তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যও রাষ্ট্রদূতকে বলেছেন"।
এর মাত্র তিন দিন আগেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে যে বিবৃতি দিয়েছিল, তার তুলনায় সুষমা স্বরাজের এই বক্তব্য ছিল অনেক বেশি কঠোর।
কিন্তু এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু মহল্লায় আরও এক দফা হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে।
ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে তারপর যখন টুইট করলেন, তখন তিনি স্পষ্ট জানালেন যে ভারত এই ঘটনায় 'গভীরভাবে উদ্বিগ্ন' এবং শুধু তাই নয়, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের একেবারে সর্বোচ্চ পর্যায়ে তারা প্রতিকার দাবি করছেন।সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলাপ করার কথা বলার বিষয়টিও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
গত চব্বিশ ঘন্টায় বাংলাদেশের একাধিক কূটনৈতিক সূত্রে কার্যত স্বীকারও করেছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেভাবে তাদের রাষ্ট্রদূতকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার কথা বলেছেন, সেটাকে তারা কূটনৈতিক সৌজন্যের পরিপন্থী বলেই মনে করছেন। একজন রাষ্ট্রদূত যে দেশে নিযুক্ত তিনি যখন সে দেশের সরকারের সঙ্গে কোনও বিষয়ে কথা বলতে চান, তখন তাকে সেটা করতে হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই। এর বাইরে কখনও কখনও দুটো দেশের মধ্যে বিশেষ সম্পর্ক থাকতেই পারে, এমনকি কোনও রাষ্ট্রদূতের হয়তো স্বাগতিক দেশের সরকার প্রধানের কাছে সরাসরি যোগাযোগও থাকতে পারে। কিন্তু সরাসরি কোন একজন রাষ্ট্রদূত কোন দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের কাউকে তলব করতে পারে না। অথচ কূটনৈতিক রীতিকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে সুষমা স্বরাজের এই বার্তা নিঃসন্দেহে ভিন্ন অর্থ বহন করে।
ঠিক এখানেই সুষমা স্বরাজের টুইট নিয়ে আমাদের আপত্তি। যদিও দুই দেশের সুসম্পর্কের স্বার্থে ঢাকা বিষয়টি নিয়ে সরকারিভাবে কোনও প্রতিবাদ জানায়নি বা বিবৃতিও দেয়নি। অবশ্য প্রতিবাদ না জানানোয় আমাদের নিজেদেরই রাষ্ট্র হিসেবে দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



