somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইরানের প্রতি আমেরিকার ‘একমাত্র ভালো' কাজ!!

০৮ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ৭:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিরোনাম দেখে হয়ত কিছুটা ধাক্কা খাবারই কথা! যেই ইরানকে অনাবরত নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে অ্যামেরিকা, তারা কিভাবে ইরানের উপকার অথবা ইরানের জন্য ভালো কিছু করতে পারে!!


আজ হতে ৩৭ বছর আগে ১৯৮০ সালের এ দিনে মার্কিন সরকার ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে।

ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের ১৪ মাস পর এই পদক্ষেপ নেয় তৎকালীন মার্কিন সরকার যা আজও বজায় রয়েছে। ইসলামী বিপ্লব ব্রিটেনের নিয়োগ-করা ও মার্কিন মদদপুষ্ট পাহলাভি সরকারকে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে বিলীন হতে বাধ্য করায় মার্কিন সরকার কখনও এই বিপ্লবের সঙ্গে শত্রুতার অবসান ঘটায়নি।

গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ইরানের বিপ্লবী ছাত্ররা ৫২ জন ছদ্মবেশী কূটনীতিককে ৪৪৪ দিন আটকে রেখেছিল। বিমান অভিযান চালিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করতে গিয়ে অলৌকিক ধুলি-ঝড়ের আঘাতে বিধ্বস্ত হয় মার্কিন বিমান ও হেলিকপ্টার। ফলে নির্বাচনে ভরাডুবির শিকার হয়েছিল ডেমোক্রেট-দলীয় প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। এসব ঘটনায় বিশ্বব্যাপী মার্কিন সরকারের সম্মান ও দাপট ক্ষুন্ন হয় মারাত্মকভাবে।

আসলে সেইসব চপেটাঘাত কখনও ভুলতে পারেনি বলদর্পী মার্কিন সরকার। ফলে মার্কিন সরকার তার কথিত কূটনীতিকদের অপমানের প্রতিশোধ নেয়ার জবাবে ইরানের সঙ্গে আজকের এই দিনে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। শুধু তাই নয়, ইসলামী বিপ্লবের সূচনা থেকেই ইরানের ইসলামী সরকার-ব্যবস্থাকে সব সময়ই অপদস্থ ও পর্যুদস্ত করতে চেয়েছে মার্কিন সরকারগুলো। আর এ কারণেই ইরাকের সাদ্দামকে দিয়ে মার্কিন সরকার ইসলামী ইরানের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিল ৮ বছরের যুদ্ধ। কিন্তু বিশ্বের পরাশক্তিগুলোসহ ২৬টি সরকারের প্রত্যক্ষ এবং সর্বাত্মক সহায়তা নিয়েও সাদ্দাম ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দীর্ঘ-মেয়াদী কোনো সাফল্যই অর্জন করতে পারেনি।

সাদ্দামকে দিয়ে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার মার্কিন সরকার ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো দিনকে দিন জোরদার করতেই থাকে।

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের কিংবদন্তীতুল্য রূপকার মরহুম ইমাম খোমেনী তার দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার মার্কিন উদ্যোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বলেছিলেন, এই পদক্ষেপ হচ্ছে ইরানি জাতির প্রতি মার্কিন সরকারের ‘একমাত্র ভালো কাজ’, কারণ মার্কিন সরকারগুলো কূটনৈতিক সম্পর্কের অপব্যবহার করে দশকের পর দশক ইরানি জাতির ওপর জুলুম করেছে এবং লুট করেছে তাদের সম্পদ।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বলা হয়, মার্কিন সরকার যার বন্ধু তার শত্রুর অভাব হয় না। এটা স্পষ্ট মার্কিন সরকারের সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকলে গত ৩৭ বছরে ইসলামী ইরানের জন্য অনেকে বেশি সংকট ও সমস্যা সৃষ্টি করতো মার্কিন সরকার। তাই ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকাটা ইরানি জাতির জন্য শাপে বর হয়েছে বলেই বেশিরভাগ বিশ্লেষকরা মনে করেন। ইরানের নেতৃবৃন্দ ও জনগণ মার্কিন ও ব্রিটিশ সরকারের কপট চরিত্রের কারণে এ দুই সরকারকে যথাক্রমে ‘বড়’ ও ‘বুড়ো শয়তান’ উপাধি দিয়েছে।

মার্কিন সরকার এখনও রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক, সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রসহ নানা ক্ষেত্রে ইসলামী ইরানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে সব মার্কিন ষড়যন্ত্রই একের পর এক ব্যর্থ হয়েছে। ঈমানের শক্তিতে বলীয়ান ইরানের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবী জাতি নানা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন করাতেই মার্কিন ষড়যন্ত্রগুলো ব্যর্থ হয়েছে একের পর এক।

সুত্রঃ পার্সটুডে
(সংগৃহীত)

না আমার ব্যাক্তিগত মতামত আজ আর তুলে ধরলাম না কেননা আমার মন্তব্য আর সংগৃহীত লেখাটির মধ্যে কোন পার্থক্য নাই।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ৭:৩১
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×