একটা সময় ছিল যখন আমাদের দেশের পুরুষদের পোশাক হিসেবে লুঙ্গীর
ব্যাপক প্রচলন ছিল।আর আজ লুঙ্গি পড়াকে অনেকেই লজ্জার অনুষঙ্গ মনে করে।
সবাই পশ্চিমা পোশাক পরে নিজেকে সাহেব-বাবু হিসেবে পরিচিত করতে চায়!!

কিন্তু আজ বলবো ঢাবি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হোসেনের কথা যে কিনা বাঙ্গালী
ঐতিহ্যবাহী লুঙ্গী পড়তেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।
খাবারের দোকানে কাজ করা তরুণ, সিগারেট বিক্রেতারাও আজকাল লুঙ্গি
পরেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। সবাই প্যান্ট পরেন। কিন্তু এই
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে লুঙ্গি পরে ঘুরে বেড়ান।
ক্লাসও করেন লুঙ্গি পরে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত এই ব্যতিক্রমী
শিক্ষার্থীর বাড়ি স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ নেওয়ার জন্য বিখ্যাত
মেহেরপুরের মুজিবনগরে।
বাবা শাহার আলী স্বাস্থ্য বিভাগের পরিদর্শক। মা আয়েশা সিদ্দিকা গৃহিণী।
তিন ভাই, এক বোনের মধ্যে শাহরিয়ার বড়। জানালেন, বাবা তাঁর আসল বন্ধু।
ছোটবেলা থেকে তিনিই সাহিত্যের বই কিনে দিতেন। প্রতিটি বইমেলার সময়
কিছু টাকা আলাদা করে দিতেন বই কেনার জন্য।
এবারের মেলার সময় বাবা কম টাকা দিয়েছেন জানিয়ে শাহরিয়ার বলেন,
‘মন খারাপ হয়েছিল। বাবাকে না জানিয়ে ১৫ হাজার টাকা ধার করে বই কিনে
ফেলেছি। সেই টাকা এখনো শোধ করতে পারিনি। বাবা মাসখরচের যে টাকা
দেন, তা থেকেও বই কিনে ফেলি। মাসের শেষের কটা দিন কষ্ট করে চলি।’
শাহরিয়ার বই পড়তে ভালোবাসে, না সে শুধু পাঠ্য বইয়ের মাঝে নিজেকে বন্দী করে
রাখতে চায় না,শুধু নম্বর পাওয়ার জন্য পড়তে ভালো লাগে না তাঁর বরং জ্ঞান
অর্জনের জন্য বই পড়েই অধিকাংশ সময় কাটিয়ে দেয় সে।
শাহরিয়ারের বন্ধুরা তাঁকে মেধাবী বলেই মানেন। তাঁর লুঙ্গি পরাকে পাগলামো নয়,
বুদ্ধিবৃত্তিক সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসার উদাহরণ হিসেবেই দেখতে চান তাঁরা।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. তানজীম উদ্দিন বলেন,
‘আমার মনে হয়েছে, স্রোতের বিপরীতে দাঁড়ানোর জন্য যে মানসিক শক্তি দরকার,
তা এই ছেলের আছে। এ কথাও ঠিক, ব্রিটিশ শাসকেরা যদি লুঙ্গি পরতেন, আমরাও
লুঙ্গি পরতাম। এ ধরনের ব্যতিক্রমী চিন্তার মানুষ এখন কম। আমরাও এ ধরনের
চিন্তার মানুষকে দূরে ঠেলে দিই। থাকুক না কিছু ব্যতিক্রম।’
সব থেকে ভাল লেগেছে শাহরিয়ার যে শুধু ঐতিহ্যবাহী লুঙ্গীকে ধরে রেখেছে তাই নয়
বরং সে অন্যের অধীনে চাকুরী করবার থেকে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজে খামার করবার
স্বপ্ন দেখে, স্বপ্ন দেখে দেশি ঐতিহ্য, দেশী ধানের জাতগুলো রক্ষা করবার।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০১৭ দুপুর ১:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



