somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রাণ ভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মেয়েদের সম্ভ্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদেরই দায়িত্ব।

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা নতুন করে সংকটে পড়েছেন তাদের মেয়েদের নিয়ে। উখিয়া এবং টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে ঠাঁই নেওয়া এ সব মেয়েদের বয়স ১৪ থেকে ২০ বছর। যাদের অধিকাংশই অবিবাহিত।
কম বয়সী ও অবিবাহিত রোহিঙ্গা মেয়েদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে তাদের দূর্বলতার সুযোগ নিতে চাচ্ছেন দালালরা। এমনকি দালালরা কক্সবাজারসহ চট্টগ্রামের দিকে নিয়ে যাওয়ারও আশ্বাস দিচ্ছেন এসব সুন্দরী মেয়েদের। এ নিয়ে তরুণীরা যেমন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তেমনি আস্থাহীনতায় পড়েছেন তাদের পরিবারও।

একটি সিন্ডিকেট টেকনাফের উখিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের সুন্দরী মেয়ে দেখলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তারা। সুন্দরী মেয়েদের টার্গেট করে নানাভাবে কু-প্ররোচনা দিচ্ছে। রোহিঙ্গা তরুণীদের বলা হচ্ছে, নিজ ভিটেতে থাকার জন্য বসত বাড়ি দেওয়া হবে। তাতে কোন প্রকার টাকাও দিতে হবেনা। এটা শুধুই মানবতার খাতিরে বলে আশ্বাস দিচ্ছে ওই সিন্ডিকেট। গার্মেন্টের চাকুরীসহ প্রতিষ্ঠিত করে দেওয়ার আশ্বাসও দিচ্ছেন তারা।

উখিয়ার বালুখালীতে আশ্রয় নিয়েছেন মিয়ানমার মংডু থেকে আসা হামিদুল আজম। তার দুই মেয়ে এক ছেলে। বড় মেয়ে জান্নাতুলের বয়স ১৮ এবং ছোট মেয়ে পারুলের বয়স ১৪। জান্নাতুল দেখতে খুবই রুপসী। হামিদুল বলেন, প্রাণের ভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছি। বড় মেয়ে জান্নাতের বিয়েও ঠিক হয়েছিল, পার্শ্ববর্তী একটি ছেলের সাথে। আমরা লাম্বার বিল সিমান্ত দিয়ে ৯ সেপ্টেম্বর শনিবার বাংলাদেশে প্রবেশ করি। কিন্তু আসার পথে দুইজন লোক তাদের বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে। বলেন, শহরে নিয়ে যাবে। চাকুরীর করার সুযোগ করে দেবে। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ে কাজ করে যাচ্ছি বলে একজন আমার বড় মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। আমি তাতে রাজি হয়নি।

একই অভিযোগ করেছেন, টেকনাফে’র ধামনখালীতে আশ্রয় নেওয়া মধ্যবয়সী নুরতাজ। দুটি মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন তিনি। এক ছেলের বউ এনেছেন। কিন্তু ছোট মেয়ে মনোয়ারাকে (১৬) নিয়ে পালিয়ে আসতে হলো তাকে। এখানেই এসেই যতো বিপদ। তার সুন্দরী মেয়েকে নিয়ে সে পড়েছে সমস্যায়। বাবা হারা মেয়েটি কেমন জানি ভীতস্থ। চেষ্টা করেও কথা বলানো সম্ভব হয়নি। মনোয়ারার মা নুরতাজ বলেন, কিছু লোক এসে আমি এবং আমার মেয়েকে নিরাপদে রাখবে বলে অনুরোধ করে। তাকে লোভও দেখাচ্ছে। আমি কিন্তু ভয় পেয়েছি। তিনি বলেন, বাবা আপনারাতো এখানের। আমরাতো এখানে কিছু চিনিনা। অন্তুত নিরাপত্তায় থাকতে পারি মতো কোথাও ব্যবস্থা করা যায়? নুরতাজ বেগম ঝড়ে ভিজে অনেকটা অসুস্থ। অনেক রোহিঙ্গা শরনার্থীরা জানান, লম্পটদের পাশাপাশি কিছু দালালও রয়েছে সুন্দরী মেয়েদের ভাগিয়ে নিতে। অসহায়ত্বের সুয়োগ নিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিয়ের প্রস্তাবও। যা রিতিমতো লোকদেখানো।

এমন আরেকজন লিয়াকত আলী। তার দুটি মাত্র মেয়ে। একটি ছোট অন্যটির বয়স ১৭ বছর। মেয়েটির নাম আয়েশা। লিয়াকত বলেন, মেয়েকে নিয়ে এখানে এসেও বিপদ পিছু ধরে রয়েছে। আমার খুব ভয়, না জানি মেয়েটা হাতছাড়া হয়ে যায়। তাই রাতদিন মেয়েকে নিজ হাতে ধরে রেখেছি। দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসেও শান্তি পাচ্ছি না।

উখিয়া টেকনাফের তমব্রু বালুখালী, আঞ্জুমানপাড়া, রহমতের বিল, ধামনখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় কোন কারণ ছাড়া কিছু যুবককে মোবাইল ফোন নিয়ে ছবি তুলতে এবং ভিডিও করতে দেখা গেছে। এদের আচরণ ও গতিবিধি সন্দেহজনক হলেও প্রশাসন এ ব্যাপারে কঠোর না থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সুন্দরী মেয়েদের বাবা-মা। পাশাপাশি আতঙ্কে রয়েছে ওইসব রোহিঙ্গা তরুনীরা।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তায় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি নিয়োজিত রয়েছে। কিন্তু পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সংখ্যা খুব অপ্রতুল হওয়ায় নিরাপত্তার প্রকট সঙ্কট বিরাজ করছে।

আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিচ্ছি এটা যেমন সত্য তেমনি আমাদের মধ্যেই একটি চক্র আবার রোহিঙ্গাদের জিনিসপত্র লুট করছে, তাদের আশ্রয়ের কথা বলে সম্পদ হাতিয়ে নিচ্ছে এবার এই পশুদের চোখ পড়েছে রোহিঙ্গা তরুণীদের ওপর। ধিক এসব লম্পট বাটপারদের ওপর। একটা দেশের মান-সন্মান নষ্ট করতে এসব দুই একটা তুফানই যথেষ্ট। আমরা যখন রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি তখন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব এবং নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন বাড়ানোর পাশাপাশি নজরদারি বাড়ালে লম্পট দালারদের খপ্পর থেকে বাচঁবে, প্রাণে বেঁচে আসা এসব তরুণীরা।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:০৩
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হঠাৎ কেন ঢাকায় র প্রধান?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:২২


দিল্লী দখল ঠেকাতে ঢাকায় চলে এলেন র প্রধান!

হ্যাঁ, ঠিকই শুনলেন। ক'দিন ঐ র‍্যাডিসন ব্লুতে বসে অনেকের হাতে-পায়ে ধরলেন; বললেন, "তোমরা প্লিজ দিল্লী আক্রমণ করো না। আমাদের মিসাইল, অস্ত্র সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী কারা

লিখেছেন কিরকুট, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬


বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী নিয়ে আলোচনা হলেই আমাদের সামনে সাধারণত পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা কিংবা অন্যান্য পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কথা আসে। কিন্তু একটি প্রশ্ন প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া হয় বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবী!

লিখেছেন করুণাধারা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩৩



১)
দেবী খুবই বুদ্ধিমতী এবং সুন্দরী। এক উচ্চাভিলাষী পরিবারে দেবীর জন্ম, এমনই উচ্চাভিলাষী যে তাদের একমাত্র ভাবনা কীভাবে সবাইকে ছাড়িয়ে উপরে ওঠা যায়! দেবীর যখন জন্ম হলো তখন তার ভাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

র-প্রধানের ঢাকা সফর: খবর শুনেই হাসপাতালে ভর্তি পাকিস্তানের হাইকমিশনার !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৭


রসিকতা বাদ দিয়ে বলি, দুটি ঘটনাই সত্যি। বাংলাদেশে RAW এর প্রধান পরাগ জৈন এসেছেন এবং পাকিস্তানের হাইকমিশনার এখন হাসপাতালে আছেন। দুটি ঘটনা আসলে পরস্পরবিচ্ছিন্ন, একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×