‘যেকোনো খারাপ সরকারের সবচেয়ে ভয়ানক সময় হলো তখন, যখন সে নিজেই নিজেকে সংস্কার করতে উদ্যত হয়।’ - ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ইতিহাসবেত্তা আলেক্সি দো তকভিল।

১৯৩২ সালে সৌদি রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। রাজতন্ত্রের বদৌলতে সৌদি রাজপরিবারের শত শত সদস্য মামুলি ‘মরুভূমির শেখ’ থেকে কোটি কোটি ডলারের মালিকানা থাকা আন্তর্জাতিক ধনিক সমাজের সদস্য হয়ে গেছেন। সৌদি রাজত্বের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের উত্তরসূরিরা বংশপরম্পরায় রাজ্য শাসন করছেন। কখনো তেমন বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা হয়নি।

তবে বর্তমান সৌদি আরবের রাজা সালমান আর যুবরাজ মোহাম্মাদ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সৌদি আরবে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। নারীদের গাড়ি চালাতে দেওয়া, ওয়াহাবি মতবাদের নিপীড়নমূলক রীতিনীতি থেকে সৌদি রাজত্বকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণাগুলো ইতিবাচক পদক্ষেপ ছিল। কিন্তু যখন সৌদি যুবরাজ ইহুদীদের বন্দনা শুরু করলেন তখন ধীরে ধীরে তাদের আসল উদ্দেশ্য পরিস্কার হতে শুরু করল। এমনকি সৌদি এই যুবরাজ বছরের অধিকাংশ সময়েই অবস্থান করছে আমেরিকায়। আর সেখানে ইহুদি লবির অনেকেই সাথেই নিয়মিত তার যোগাযোগ রয়েছে।

একসময়ের নিষিদ্ধ সিনেমা চালু হয়েছে এই বছর, সৌদি আলেমরা ফতোয়া দিতে শুরু করেছে নারীদের পর্দা করবার তেমন প্রয়োজন নাই। রিয়াদে কনসার্ট, নাইটক্লাব এমনকি ক্যাসিনো চালু করা হয়েছে। সবাই করা হয়েছে কথিত সংস্কারের কথা বলে। মিডিয়ার সামনে প্রকাশ্য ইহিদীবাদের সমর্থন করছে ৩২+ বয়স্ক সৌদি যুবরাজ। ইসরাইলী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সৌদি বিমান বন্দরের। ৭০ বছর পর সৌদি আকাশ দিয়ে পাড়ি দিয়েছে ইসরাইলগামী বিমান। ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন গুলীকে দেওয়া সহায়তা বন্ধ করবার পর বরং তাদের সন্ত্রাসী তকমা দেওয়া হচ্ছে বর্তমান সৌদি সরকারের দ্বারা। গত সাত বছর ধরে সিরিয়ায় ইসরাইলের পক্ষে সন্ত্রাসীদের সাহায্য করছে সৌদি প্রশাসন।

সম্প্রতি ইসরাইলের সেনাদের গুলিতে যখন কয়েক হাজার ফিলিস্থানি হতাহত হয়েছে তখন মার্কিন সংবাদ মাধ্যমে সৌদি যুবরাজ ইসরাইলের ভূমি দখলের পক্ষ হয়ে কথা বলেছে। এমনকি প্রতিদন্ধী ইরানকে ঠেকাতে ইসরাইলের সাথে কাজ করবার ইচ্ছে প্রকাশ করেছে যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান।


সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১১:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



