ছোটবেলাই আমি খুব ডানপিটে স্বভাবের ছিলাম। স্কুল পালানো থেকে শুরু করে পাড়া প্রতিবেশিদের আম চুরি, ডাব চুরি, সন্ধ্যা বেলায় কাউকে ভয় দেখানো, সমবয়সী অথবা কনিষ্ঠ দের কারনে অকারনে মারার সুবাদে প্রায়ই আব্বুর কাছে বিচার আসতো। এক কথাই বলতে গেলে আমি ছিলাম বদের হাড্ডি। নানাবিধ দুষ্টামির কারনে আমাকে শাস্তি ভোগ করতে হতো । যদিও তখন খারাপ লাগতো কিন্তু, এইসব কারনেই আমার শৈশব হয়তো এত স্মৃতিময়। আমার প্রাপ্ত শাস্তি গুলার মাঝে সবচাইতে common ছিল এইডাঃ আব্বুর কাছে নালিশ আসলে তখন আব্বুর একটাই কাজ থাকতো টা হল আমাকে খুঁজে বের করা এবং ইচ্ছা মতো উত্তম মাধ্যম প্রদান করা। কিন্তু তা ছিল আমার আব্বুর পক্ষে অতিশয় দুষ্কর। কারন আব্বু বয়স এর কারনে বেশি দৌড়াতে পারেননা। তাই আমি ছিলাম বেশীরভাগ সময়ের জন্য চ্যাম্পিয়ন । বরাবরের মতই আব্বু আমাকে ধরতে ব্যর্থ হতেন এবং পরাজিত কণ্ঠে বলতো আজ দুপুরে তোর ভাত বন্ধ। বাড়ীতে তো আমার জন্য রিতিমত কারফিউ জারি হতো। যখন জোহরের নামায পড়তে মসজিদ এ যেতেন, তখন আমি পা টিপে টিপে বাড়ীতে প্রবেশ করতাম। আম্মু আমার জন্য ভাত প্লেট এ বেড়ে রাখতেন, তখন আম্মুই ছিল আমার একমাত্র ভরসা(আব্বুর রাগ না কমা পর্যন্ত)। বিদ্যুৎ গতিতে খাওয়া শেষ করে আবার বেরিয়ে পড়তাম আমি। বরাবরের মতই আব্বু আমাকে খুঁজতে বের হতেন। আমারে দেখলেই হাঁক ছাড়তেন আর ফেরারি না হলেও চলবে এখন বাড়ি চল। আর কোনদিন এমন করবিনা, করলে কিন্তু পরে আর মাফ করুম না। আব্বু সামনে আমি আব্বুর পিছে পিছে বাড়ি যেতাম । বাড়ীতে প্রবেশের সাথে সাথে আব্বু আম্মু কে ধমক এর সুরে বলতো পোলাডা না খাইয়া আছে তারাতারি খাইতে দাও। এই কথা শুনে আম্মু সহ আমরা সবাই হি হি করে হেসে উঠতাম। আমি গ্রামে থাকতে আব্বু আম্মু আমারে নিয়া অন্যদের তুলনায় বেশি চিন্তাই থাকতো আমার দুষ্টামির কারনে। এখনো মনের অজান্তেই হাসি এইসব স্মৃতি মনে পড়লে। শৈশব এর দিন গুলি কে অনেক বেশি মিস করি এখন। শৈশবের সেই উদ্যম , একগুয়েমি, দুষ্টামি, দুরুন্তপনা আজ আমার ভিতর অনুপস্তিত। ইচ্ছে থাকা সত্তেও এখন অনেক কিছু করা প্রায়ই অসম্ভব।
আলোচিত ব্লগ
রাষ্ট্রভাষা নিয়ে জিন্নাহর সেই ভাষণ। কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

জিন্নাহর সেই ভাষণ
সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে ভাষা আন্দোলন নিয়ে জিন্নাহর একটি বক্তব্য যাতে দাবী করা হচ্ছে তিনি নাকি আমাদের ওপর উর্দু যেভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলে এতকাল “প্রচার”... ...বাকিটুকু পড়ুন
গালিব সাহেব, মিথ্যারও তো একটু সামাজিক মর্যাদা আছে!

মির্জা গালিব বলেছেন -
“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে। আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।”
গালিব সাহেব, আপনার কথায় যুক্তি আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
লাউঞ্জ এন্ড ফুড রিভিউ; দ্যা সেন্স

নিয়মিত-অনিয়মিত গত এক যুগ ধরে ভ্রমণ করছি এবং প্রায়োরিটি পাস দিয়ে বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ ব্যবহার করছি প্রায় ৪ বছর ধরে। দীর্ঘ ফ্লাইট, লং ট্রানজিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে ফ্রিতে দৃষ্টিনন্দন,... ...বাকিটুকু পড়ুন
অধরা বালিকা

লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন
যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।
সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।