somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ঈদ উল আযহা পর্যবেক্ষণ :)

১০ ই অক্টোবর, ২০১৪ দুপুর ১২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১- "গরু একটি শান্ত ও নিরীহ প্রাণী" ছোটবেলায় বই এ "গরু" রচনায় পড়া এই বাক্যটি ৮০% ক্ষেত্রে ভুল! গরু কিনে হাট থেকে ফিরে আসার সময়, যেই ব্যক্তির গরু দড়ি ছিঁড়ে অলিম্পিকে দৌড়ানো প্রতিযোগীর মতো দৌড়ায়- তাকে জিজ্ঞেস করলে বুঝতে পারবেন গরু কতটা নিরীহ আর শান্ত।

২- ঈদ ছিল সোমবার, বাসের কন্ডাক্টর 'মামা'রা শুক্রবার থেকেই "মামা, সামনে ঈদ, ভাড়া একটু বাড়ায় দিয়েন, সারাবছর তো চাই না!"... বুঝলাম, কিন্তু তাই বলে ঈদের এত আগে থেকেই? হয়তো তারা "শুভ কাজে দেরি করতে নেই" প্রবাদ দ্বারা বেশ মোটিভেটেড ;)

৩- হাজারবার বলার পড়েও যারা কথা শুনে না, তাঁদেরকে বাঙালি বলা হয়- এত বলেছিলাম কেও গরুর ছবি ট্যাগ কইরেন না, এটা ত্যাগের ঈদ, "ট্যাগের" না- শেষ পর্যন্ত ঠিকই ট্যাগ খাইলাম বেশ কয়েকটা। আর লক্ষ করে দেখেছি ট্যাগ খাওয়া ছবিতে গরুর যেই ছবি থাকে তার সাথে বাস্তবে গরুর কোন মিল নাই বললেই চলে। এই ছবির গরুগুলোর মাথা বড় আর পেট ছোট হয়- বুঝলাম না কিছু! জানার আছে অনেক কিছু।

৪- পৃথিবীটা দিন দিন ছোট হয়ে আসছে- নায়িকাদের কাপড় থেকে টেলিভিশান এর প্রসস্থতা- সব। সেই জোয়ারে এখন ঈদের শুভেচ্ছা জানানোতেও শর্টফর্ম চলে এসেছে। ইনবক্সে একজন লিখেছি- শুঈমু। মানে কি? তিনি কার সাথে শুতে চাচ্ছেন? কেন চাচ্ছেন? শুতে চাইলে সেটা আমাকে জানাবেন কেন? কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না, লজ্জার বশে জিজ্ঞাসাও করতে পারছিলাম না। অবশেষে অনেক কষ্টে বুঝলাম "শুঈমু" মানে হল- শুভ ঈদ মুবারক। :/

৫- রোজার সময়কার খিদে বাঙালি মুসলমানের এখনও যায় নাই, পারলে কাঁচাই গরুর মাংস খেয়ে ফেলে! স্বয়ং গরুর শরীরে যতটুকু মাংস, তার চেয়ে বেশি গোমাংস এখন অনেক আদম সন্তানের শরীরে- অথচ এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। অনেক কে দেখলাম, আত্মীয় স্বজন আর গরিবদের মাংস বিলাতে আগ্রহী নন। "আমার গরু আমি খাবো, যত খুশি তত খাবো" তত্ত্বে বিশ্বাসী। অনেক কিছুতে "হাড্ডাহাড্ডি" লড়াইয়ে অংশ না নিলেও, কুরবানির ঈদের বাঙালি হাড্ডির লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে- তারা গরিবদের মাংসের পরিবর্তে হাড্ডি বেশি দান করে "দাতা হাতিম তাইয়ের দূর সম্পর্কের আত্মীয় আমি" হওয়ার চেষ্টা চালায় এবং মনে মনে আমোদ লাভ করে এই ভেবে "আজ কত দান করলাম গরিবদের!"।

৬- কুরবানি ঈদে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে নিম্ন মধ্যবিত্তরা- না আছে উচ্চবিত্তের মতো গরু কেনার সামর্থ্য, না বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাংস চাইতে পারে নিম্নবিত্তের মতো। এরকম একজনকে দেখলাম, কুরবানি ঈদের আগের দিন এক কেজি মাংস আলাদা করে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। উচ্চবিত্তরা গরু কুরবানি করে্‌ আর এই মধ্যবিত্তরা নিজেদের 'স্বপ্নকে' কুরবানি করে।

৭- গরু খেয়েছেন- উত্তম কথা। তো গরুর জবাইয়ের ছবি তুলে সেটাও ট্যাগ করতে হবে? আমার চেহারা কি কসাইয়ের মতো যে আমাকে ট্যাগ করে বোঝাচ্ছেন "দেখ দেখ, এভাবে গরু জবাই দিতে হয়!" নরমাল কমন সেন্স কি নাই ভাই আপনাদের? আর ঈদ শেষ হওয়ার পড়ে যেই আবর্জনা জমা হয়, সেটা পরিষ্কার করতে কি এত সমস্যা? এটাও তো আপনার একটা দায়িত্ব হওয়া উচিত। জলদি আবর্জনা পরিষ্কার করেন, নাইলে কবি তার কবিতার লাইন চেঞ্জ করে লিখবেন- "গোবরের আর মুতের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই!"

৮-কুরবানি ঈদের প্রায় সবাই বলেন- মনের পশুকে কুরবানি দিতে। আফসোসের ব্যাপার হল, আশেপাশে বেশিরভাগ "মনহীন" মানুষকে দেখি- যাদের মনই নাই, তারা মনের পশুকে কুরবানি দিবে কীভাবে? জানিনা!

৯- কর্পোরেট ব্যবসা এখন ত্যাগের উৎসবেও চলে এসেছে- গরুর সাথে ছবি ( গালভরা এক নামও আছে এটার- কাউফি) তুলো, সেন্ড করো- পুরস্কার জিতে নাও। দুই দিন পড়ে যেই পশুকে কুরবানি করব, তা সাথে কীভাবে ৩২ দাঁত দেখিয়ে কাউফি তুলে সেটা আবার সবাইকে ট্যাগ করে- সেটা জানা নাই। আমিও স্রোতে গা ভাসাতে গেছিলাম, গরুর সাথে কাউফি তুলতে ( ফেসবুকে পোস্ট করার ইচ্ছা থেকে নয়)... কিন্তু গরু আমাকে লেজ দিয়া বাড়ি দিল। গরুর কাছে আমি এমন আচরণ একেবারেই আশা করি নাই, চেহারা দেখে তো তাকে ভদ্রই মনে হচ্ছিল- যেমনে বাড়ি দিল যেন মনে হয় আমি তারে টিজ করতে গেছিলাম।বুঝলাম- চেহারা দেখে মানুষ বা গরু- কাওকেই যাচাই করা উচিত না।

১০- অদ্ভুত হলেও সত্য- দারুণ এক ঈদ কেটেছে এবার। ১৩ বছর আগের স্কুল- বগুড়া ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এর পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান ছিল- দারুণ হয়েছে অনুষ্ঠান। ১৩ বছর আগের বেশ কয়েকজন বন্ধুকে খুঁজে পেয়ে জড়িয়ে ধরার মাঝে যেই অনুভূতি আছে- সেটার কাছে কোটি টাকার অনুভূতি তুচ্ছ। একদিনের ব্যবধানে আরও নতুন অনেক বন্ধু বানানো, নাচানাচি করা, সোলস আর শিরোনামহীনের কনসার্ট, চারবেলা খাবার, ক্রেস্ট- টিশার্ট, নেমপ্লেট, সাবান পাওয়া , সবশেষে দুর্দান্ত আতশবাজির খেলা- এত আনন্দ অনেকদিন স্পর্শ করা হয় নাই। বিশেষ ধন্যবাদ প্রিয় ছোটবেলার বন্ধু, ক্লাস ক্যাপ্টেন Mahbub Alam Saikat কে। অনেক জ্বালিয়েছি তাকে এই দুইটা দিন - সে আর তার পরিবার সবকিছু হাসিমুখে সহ্য করে করেছে। ভাবতে ভাল্লাগে- এরকম কিছু বন্ধু আমার আছে। ১৩ বছর আগের সম্পর্ক, কিন্তু এর রেশ থাকবে সারাজীবন :)
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাসের ঘর বনাম বাস্তব হিসাব

লিখেছেন মোবারক, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২০

পরিবারে বড় ভাই হওয়া মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ত্যাগী বা মহান হয়ে যাওয়া নয়। আমাদের সমাজে একটি অলিখিত নিয়ম রয়েছে যে, পরিবারের প্রথম সন্তান মানেই তিনি অনেক ত্যাগ করবেন এবং ভাইবোনদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসার মোল্লা হুজুর থেকে আপনার সন্তানকে নিরাপদ রাখুন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

গতকাল রাতে একটা বাচ্চার পা**র ছবি দেখেছিলাম ফেইসবুকে, অনেকেই শেয়ার করেছেন। পা কেটে হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার সাপোজিটরি দিতে গিয়ে দেখে গর্তের মতো হয়ে গেছে। মাদ্রাসার হুজুরে বিকৃত কাজ করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×