somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাকা অ্যাটাক রে যদি গল্প দিয়ে বিবেচনা করেন?

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ৯:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সিনেমার ব্যাপকতা গল্পকে ছাড়ায় যেতে পারে। এরকম একটা ইঙ্গিত ঢাকা অ্যাটাক আগেই দিয়েছিল। কিন্তু সেটি ঠিক কিভাবে কি হবে সে বোধটি ছিলনা।

মধ্য আশ্বিনের তপ্ত গরমে মুক্তি পেলো ঢাকা অ্যাটাক। নামের মাঝে কেমন একটা বিদেশী মারপিট ভাব। তার সাথে ফিগারওয়ালা নায়ক আর ট্রেলারে দূর্বল ভিএফএক্স নিয়েও প্রবল উত্তেজনা দেখে ঘরে বসে থাকার জো আছে? যদিও ৫০ টাকা টিকিটের সিনেমা দেখতে যেয়ে প্রতিবার ৪৫০ টাকা খরচ হবার চেয়েও বড় ভয় থাকে নায়ক নায়িকাদের অভিনয়ের ভেতরে অভিনয় দেখার যাতনা আর অন্যের থেকে মেরে দেওয়া গল্প আবিষ্কারের বেদনা। তাও ঢাকা অ্যাটাকের একটা আলাদা আপিল তৈরি হয়েছে এর প্রচারনার জন্যে। দেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে নাকি তারা বিশেষ ভাবে দেখিয়েছেন। ভাগ্যিস সাকিব খান একথা বলেন নি। তিনি বললে নির্ঘাত দেশ বলতে এবারও বি-দেশ বুঝাতেন।

যাই হোক গরমের কারণে সকাল সাড়ে এগারটায় প্রথম শো টা দেখার সিদ্ধান্ত নিলাম। সিনেমা শুরু হলো। শুরুতেই অজানা কারণে কারা যেন খুন হতে লাগলো। কেমিকেল ফেক্টোরিতে খুন, রাস্তার কিনারে খুন। খুন করে লাশের গায়ে কিসব অক্ষর আর স্মাইলি রেখে গেলো খুনিরা। বিসিএস চ্যাম্পিয়ন নায়ক অনেক বুদ্ধিমান হওয়ায় কারোর সহযোগিতা ছাড়াই নিজে নিজে সেই ক্লু ধরে ফেললেন। কিন্তু তিনি ধরে ফেলার আগেই একটা স্কুলের বাসে বোম ফুটে কয়েকটা বাচ্চা মারা গেল। নায়ক বুঝলেন এইখানে বোম মারার ক্লু ই ছিল এইসব। বিসিএস বাহিনীর তদন্ত শুরু হলো সেই সাথে গল্প হেব্বি জমে গেলো। এদিকে সাংবাদিক নায়িকা বিসিএস ছিলেন কিনা জানা হয় নাই কিন্তু তিনিও নিজে নিজে তদন্ত শুরু করে দিলেন। মেয়ে বলে কি তার সামর্থ্য নেই? তাছাড়া নায়ক আর নায়িকা বিশেষ সামর্থ্যবান সেটি আমরা সবাই জানি। তাইতো পুলিশের আগেই ছুটতে পারেন নায়িকা। কিভাবে ছুটতে পারেন সেটি কেউ দেখেনি কিন্তু তবুও পুলিশ আর সোয়াতের পূর্বে গহীন জঙ্গলে তিনি চলে যান। গুন্ডা বাহিনীর সাথে পুলিশের বিশাল বন্দুক যুদ্ধে কোন বুলেট প্রুফ জ্যাকেট না পরে উল্টো শার্টের বোতাম খুলে ক্যামেরা হাতে নিয়ে তিনি গুলাগুলি রেকর্ড করতে থাকেন। মেবি পরিচালক আগেই তাকে বলে দিয়েছিলেন যে নায়িকা কোটায় আপাতত আপনি গুলি খাচ্ছেন না। আপনি খাচ্ছেন না।

তদন্ত আগাতে থাকে। শহরে কারা যেন বোম রেখে চলে যায়। সারা শহরে আতংক কিন্তু গাড়ি কোথাও থেমে থাকেনা। সিনেমার গল্পের জন্যে জ্যাম তো আর থেমে থাকতে পারেনা, তাইনা? তাছাড়া বোম ডিস্পোজাল ইউনিটের প্রধান জনাব নায়ক একা হাতে তো সব সামলে নিচ্ছেন ই। এর মাঝে অপরিচিত কে যেন নায়িকাকে ফোন করে দেখা করতে বলে। যেহেতু এখানে একটা টুইস্টের ব্যাপার তাই দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর ভীষণ রিস্ক সমৃদ্ধ ঘটনার নিজে নিজে তদন্ত করতে থাকা নায়িকা সাতপাঁচ না ভেবেই অচেনা লোকের সাথে দেখা করতে রেস্টুরেন্টে চলে যায়। বিপদে পড়লে একেবারে ঠিক সময়ে নায়ক যে এসে নায়িকাকে বাঁচায় এটি এদেশের কোন সে নায়িকা না জানে। এমনকি আর মাত্র কয়েক মিনিট পরে বোম ফুটে হাসপাতাল পর্যন্ত উড়ে যেতে পারে এমন সময়েও নায়িকা যে নায়কের কাছে বারেবারে ছুটে যেতে পারে সেটিও নায়িকার জানা রয়েছে। তাইতো ভীষণ এই রিস্কি মোমেন্টেও বাকী পুলিশেরা নায়িকাকে আটকায় না। যেন এর ফাঁকে একটা স্যাড সং বাজতে পারে। ভীষণ উত্তেজনার কালে এমন সেড সং দর্শকদের আরো উত্তেজিত করে তোলে। এখানেই চিরায়ত বাংলার প্রেম ফুটে উঠে। এখানেই সিনেমাটি দর্শকের হৃদয়ের চিরস্থায়ী আসন ছেড়ে চিরাচরিত সিনেমায় পর্যবসিত হয়।


উপরের সবকিছু মজা করে বলা। মশলা সিনেমায় মশলা থাকবেনা তো কি নুন থাকবে? কিন্তু এসব ছাড়াও ঢাকা অ্যাটাকের কিছু ভাল দিক আছে। আর তা হলো ঢাকা অ্যাটাক তার গল্পের চেয়েও প্রসারিত। গল্পের জন্য যেমন লোকেশন প্রয়োজন ছিল ঠিক সেরকম লোকেশনে গল্পটিকে নিয়ে গিয়েছেন পরিচালক দীপঙ্কর সেন গুপ্ত। দক্ষ ক্যামেরার শুট দেখেছি আমরা। আর দেখেছি মোহাম্মদ কালামের চমৎকার এডিটিং। মূলত তারাই সিনেমাটিকে সুন্দর করে তুলেছেন। আর এইযে অভিনয়ে যতটুকো এক্সপ্রেশন দেবার দরকার ঠিক ততটুকো এক্সপ্রেশন দিয়ে সোয়াত অফিসার এবিএম সুমন আর ভিলেন তাসকিন রহমান সব দর্শকের মন কেড়েছেন এটিই প্রমাণ করে যে দর্শক আসলে এতটুকোই চায়। মূল চরিত্রে শুভর অভিনয়ও আগের চেয়ে ভাল হয়েছে কিন্তু শতাব্দি, নওশাবা, সুমন, তাসকিনদের মত সেরাটা হয়ত তিনি দিতে পারেন নি। আর মাহির অভিনয় তার মতই হলেও তার চরিত্রটি ভীষণ দূর্বল লেগেছে। এমনকি কয়েকটি দৃশ্যে দর্শক রীতিমত বিরক্তও হতে পারে।

সবকিছু মিলিয়ে ঢাকা অ্যাটাক মোটামুটি সুন্দর সিনেমা। প্রথম থেকেই এঞ্জয় করেছি।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ৯:২০
১৬টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রামের জ্ঞানতাপস আচার্য যোগেশ চন্দ্র সিংহ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫২

সাধনপুরের সন্তান আচার্য যোগেশ চন্দ্র সিংহ যিনি নিজের আলোয় আলোকিত করেছিলেন চট্টগ্রামের শিক্ষা-জগৎ।

কোনো কোনো মানুষের জন্মদিন ইতিহাসের ক্যালেন্ডারে একটি সাধারণ তারিখ হয়ে থাকে। আবার কোনো কোনো মানুষের জন্ম একটি জনপদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প- ১০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



দুইজন বয়স্ক মানুষ আমাদের বাসায় আসেন।
তারা গ্রামে থাকেন। ঢাকা এলে আমাদের বাসায় উঠেন। ঢাকা তারা আসেন চিকিৎসা করাতে। ৫/৭ দিন থাকেন। চিকিৎসা শেষে চলে যান। আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই বিবেচনায় সামুর সেরা ব্লগারগণ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪১




সামহোয়্যার ইন ব্লগের উল্লেখযোগ্য ২০ ব্লগার
ক্রম ব্লগার যে কারণে উল্লেখযোগ্য
১ রাজীব নূর দীর্ঘ ১৬+ বছর সক্রিয়তা, বিপুল পোস্ট ও মন্তব্য, জীবনঘনিষ্ঠ লেখা
২ চাঁদগাজী/সোনাগাজী রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষণ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন যে এসব লাল বদর/বাঙ্গালী পাকিস্তানি (বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে বিকলাঙ্গ) আমাদের সাথে লাগতে আসে?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯



১//@দেশ প্রেমিক বাঙালীঃ

তোমাদের মতো জামায়াতি লাল বদরদের/পাকিস্তানি শারমেয়দের/বরাহ শাবকদের.....

এক বছর রাখতে হবে বেলুচিস্তানে। তাহলে তাদের শৈশব থেকে ধোলাই হওয়া মগজ reset হলে হতেও পারে। reset হলে তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×