
প্রথমতঃ কোন ভালো মুসলমান অন্য কোন মানুষের (মুসলমান/অমুসলমান) দুর্দশা দেখে আনন্দ পেতে পারে না।
দ্বিতীয়তঃ ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা (সাঃ)-এর উপর তায়েফে যখন আক্রমন হলো, তিনি আল্লাহর ফেরেশতাদের মানা করেছিলেন প্রতিশোধ নিতে। অর্থাৎ, আল্লাহ'র গজব থেকে তায়েফবাসীদের বাঁচিয়েছিলেন।
ইন্টারনেটে, তথাকথিত ইসলামের ধ্বজাধারীরা করোনা পরিস্থিতিকে আল্লাহ'র গজবের সাথে তুলনা করেছেন। তারা সমীকরণ দাঁড় করাচ্ছেন, কেন পশ্চিমাদের উপর এমন দূর্বিপাক নেমে এসেছে। একটা ভিডিওতে দেখলাম, পবিত্র কোরআন শরীফের সূরা রোমের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন তারা এই ভাবে- সেই সূরাতে রোমের ধ্বংসের কথা বলা হয়েছে। সাধু একটু সাবধান!
এটা মনে রাখা জরুরী যে, এক সময়ে রোম ছিলো অগ্নি-পূজারীদের দখলে। আর এখন? ইটালীর জনগণের সিংহভাগ হযরত ঈসা (আঃ)-এর অনুসারী। তা-ও যে সে খ্রিস্টান নন, ৭৮.৯% ক্যাথলিক। তাহলে, কোরআনে বর্ণিত রোমের সাথে বর্তমান রোমের মিল রয়েছে কি?
আরেকটি ভিডিওতে দেখলাম, বক্তা এই বলে ভয় দেখাচ্ছেন যে, আল্লাহর গজব যখন আসে, তখন ভালো মানুষেরাও রক্ষা পায় না। কত্ত বড় ভুল একটি ধারণা। অথচ, নবীদের উদাহরণ থেকে আমরা জানতে পারি, যুগে যুগে কিভাবেই না খোদাতায়ালা ভালো মানুষদের রক্ষা করেছেন! এমনকি, তাঁর পাঠানো আজাব বা গজবের সময়েও নবীদের দিয়ে খোদা ভালো মানুষদের বাঁচিয়েছেন।
আমরা এখনো জানি না, করোনা ভাইরাস আল্লাহর পাঠানো গজব না পরীক্ষা। গজব হলে ভালো মানুষদের চিন্তা নেই। কিন্তু, এটা আল্লাহর পক্ষ থএকে পরীক্ষা হলে, কেউই রক্ষা পাবার কথা নয়। সবাইকেই আল্লাহ পরীক্ষার মাঝে ফেলতে পারেন।
তাই, আবারো বলছি, সাধু সাবধান!
আল্লাহ আপনাদের কোরআন ভালো ভাবে বোঝার ও সুন্নাহ পালন করার তওফিক দান করুন এই কামনা করি।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




