
'আমাকে কেন?' - ঠিক এই কথাটাই বলেছিলেন রাজা রামমোহন রায় যখন তাঁকে পূজার নিমন্ত্রন জানিয়ে রবি ঠাকুরের পিতা পণ্ডিত দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর উপস্থিত হোন। আর, রাজা রামমোহনের সেই কথাটিই দেবেন্দ্রনাথের জীবনে আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে দেয়। নিজের আত্মজীবনীতে তাই তিনি লিখেছেন- ''এ থেকে আমি প্রতিজ্ঞা করিলাম আমি আর তাহাতে (মূর্তিপূজায়) যোগ দিবো না, কোন প্রতিমাকে পূজা করিবো না, কোন পৌত্তলিক পূজার নিমন্ত্রণ গ্রহণ করিব না।'
প্রতিমা পূজার প্রতি তাঁর অভক্তি এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে যে, সামাজিক কারণে কোন পূজার অনুষ্ঠানে গেলে তিনি অন্যদের মত করে ভূমীষ্ট হয়ে প্রণাম না করে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতেন। এমনকি, হিন্দু শাস্ত্রের যেইসব বইতে পৌত্তলিকতার উপদেশ থাকতো, সেগুলোর উপর তাঁর ভক্তি উঠে গিয়েছিলো।
একদিন দেবেন্দ্র বাবু হিন্দু ধর্মের আদি শাস্ত্র উপনিষদ পড়তে গিয়ে পেলেন এই লাইনটি- 'তিনি যা দান করেছেন তা উপভোগ করো।' তখন তাঁর মনে প্রশ্ন জাগলো- 'তিনি কী দান করেছেন?' দেবেন্দ্রনাথের আত্মপলব্ধি- ঈশ্বর তথা পরম ব্রাহ্ম নিজেকেই মানুষের কল্ল্যাণার্থে দান করেছেন। উপনিষদে স্রষ্টা আরো বলেছেন- 'ইককাম ইবাদিতিয়াম', 'তিনি এক এবং অদ্বিতীয়'। 'না তাসসা প্রতিমা আস্থি', 'ঈশ্বরের কোন প্রতিমা নেই'।
রবী ঠাকুরের বাবা ঈশ্বরকে সব জায়গাতে দেখতে চেয়েছিলেন। তাই তো উপনিষদে ঈশ্বর তাঁর কাছে এভাবে ধরা দেন- 'ঈশাবাস্যমিদং সরবং', 'ঈশ্বর দ্বারা সমুদয় জগতকে আচ্ছাদন করো।'
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০২১ রাত ১০:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


