somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হযরত আবু যর গিফারী (রাঃ) - খলিফা মুয়াবিয়ার অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করায় যাকে মরুভূমিতে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিলো

১৪ ই মে, ২০২২ রাত ৯:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ইসলামী আইন অনুযায়ী দেশ চললেই কি দেশে সুখ-শান্তি ফিরে আসবে? দেশে কোন দরিদ্র মানুষ থাকবে না? অন্যায়-অবিচার বন্ধ হওয়ে যাবে? যারা বলেন যে, ইসলামী শাসন আসলেই, সব কিছুর সমাধান হয়ে যাবে, তারা মিথ্যা বলেন। তাহলে কেন মহানবী (সা)-এর শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের একজন আবু যর গিফারী (রা)-কে মরুভূমিতে কপর্দক শূন্য অবস্থায় মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিলো?

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছিলেন- ''আমার লোকদের মধ্যে আবু যরের আত্মত্যাগ ও আল্লাহভীতি মরিয়ম তনয় ঈসা'র মতো।''... অথচ, এই মানুষটিকেই ইসলামী রাজ্যের শাসনকর্তার নির্দেশে নির্বাসনে থাকার সময় মরুভুমিতে মৃত্যুবরণ করতে হয়।

আরবে তখন খলিফা উসমান-এর শাসন চলছে। হযরত উসমান নিজ বংশের মানুষদের বিশ্বাস করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছিলেন। অথচ, এই মানুষগুলো এই সুযোগ নিয়ে নিজ দেশে অশান্তির কালো আগুন ছড়াতে লাগলো। এইসব লুটেরারা এই সুযোগে রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিজেদের করতলে নিয়ে নিলো।

হযরত মুয়াবিয়া তখন সিরিয়ার গভর্নর। হযরত আবু যর গিফারী, খলিফা হযরত উমর (রাঃ)-এর শাসনামল থেকেই সিরিয়াতে অবস্থান করছিলেন। আবু যর সেখানে উপদেশ প্রদান, ধর্ম প্রচার, সৎপথ প্রদর্শন এবং মহানবী (সাঃ)-এর পরিবারের মানুষদের মহত্ত্ব সম্পর্কে সিরিয়ার মানুষদের ওয়াকিবহালে ব্যস্ত ছিলেন। হযরত উসমান যখন শাসক হলেন, এরপর থেকেই হযরত আবু যর খলিফা উসমানের সমালোচনা করতে থাকেন। গভর্নর হযরত মুয়াবিয়া এটা পছন্দ করতেন না। তাই, তিনি খলিফার নির্দেশে জীনবিহীন একটি উটে করে হযরত আবু যরকে মদিনা পাঠিয়ে দেন।

মদিনাতে পৌঁছেও তিনি শাসক হযরত উসমানের বিরোধীতা করতে লাগলেন। হযরত উসমানকে দেখতে পেলেই তিনি পবিত্র কুরআনের এই আয়াতটি পাঠ করতেন-

''...আর যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জিভূত করে এবং তা আল্লাহ'র রাস্তায় ব্যয় করে না তাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তির সংবাদ দাও। সে দিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব এবং পৃষ্ঠদেশে দাগ দেওয়া হবে। সেদিন বলা হবে, এটিই সেই (জিনিস) যা তোমরা নিজেদের জন্যে পুঞ্জিভূত করতে।'' [আল-কুরআন, ৯ঃ ৩৪-৩৫]



এক পর্যায়ে, হযরত মুয়াবিয়া হযরত আবু যরকে মদিনা থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই সাথে বলে দেন, তাঁর যাওয়ার সময় কেউ যেন তাঁকে বিদায় জানাতে না আসেন। কিন্তু, হযরত মুয়াবিয়ার কথা অমান্য করে হযরত আলী (আ), হযরত হাসান (আ), হযরত হুসাইন (আ), হযরত আকীল (রাঃ), হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর (রাঃ) এবং হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাঃ)- এই ৬ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হযরত আবু যর (রাঃ)-কে বিদায় সংবর্ধনা দিতে আসেন। সেই সমাবেশে হযরত আলী (রাঃ) বলেন-

''হে আবু যর। তুমি আল্লাহর নামে ক্রোধ দেখিয়েছিলে। সুতরাং, যার উপরে রাগান্বিত হয়েছিলে, তার বিষয়ে আল্লাহতে আশা রেখো। মানুষ তাদের জাগতিক বিষয়ের জন্যে তোমাকে ভয় করতো, আর তুমি তোমার ইমানের জন্যে তাদেরকে ভয় করতে। কাজেই, তারা যেজন্যে তোমাকে ভয় করে তা তাদের কাছে রেখে দাও আর তুমি তাদেরকে যেজন্য তাদেরকে ভয় করো তা নিয়ে বেরিয়ে পরো। যে বিষয় হতে তুমি তাদেরকে বিরত করতে চেয়েছিলে, তাতে তারা কতই না আসক্ত এবং যে বিষয়ে তারা তোমাকে অস্বীকার করেছে উহার প্রতি তুমি কতই না নির্লিপ্ত। অল্পকাল পরেই তুমি জানতে পারবে আগামীকাল (পরকালে) কে বেশি লাভবান আর কে বেশি ঈর্ষনীয়। এমনকি সমগ্র আকাশ ও পৃথিবী যদি কারো জন্য রুদ্ধ হয়ে যায় এবং সে যদি আল্লাহকে ভয় করে, তবে আল্লাহ তার জন্যে তা খুলে দিতে পারেন।

শুধু ন্যায়পরায়নতা তোমাকে আকর্ষণ করে এবং এবং অন্যায় তোমাকে বিকর্ষন করে। যদি তুমি তাদের জাগতিক বিষয়ের প্রীতি গ্রহণ করতে, তাহলে তোমাকে তারা ভালোবাসতো এবং যদি তুমি তাদের সাথে তাতে অংশগ্রহণ করতে, তবে তারা তোমাকে আশ্রয় দিতো।''


আর, এভাবেই, মদীনা থেকে বের করে দেওয়া হয় হযরত আবু যর (রাঃ)। তিনি তাঁর স্ত্রী-সহ মরুভূমিতে জীবিকার সন্ধানে যখন ঘুরে বেরাচ্ছিলেন, একটু বিশ্রামের জন্যে মরুভূমিতে একটি গাছও খুঁজে পাচ্ছিলেন না, তখন, মৃত্যু তাঁর কাছে এসে দাঁড়ায়। সেই সময়ে তিনি তাঁর স্ত্রীকে বলেন-

''বিচলিত হয়ো না। রাসূল (সাঃ) বলেছেন আমার অসহায় অবস্থায় মৃত্যুবরণ হবে এবং কয়েকজন ইরাকী আমাকে দাফন-কাফন করবে। আমার মৃত্যুর পর আমাকে চাঁদরে ঢেকে রাস্তার পাশে বসে থেকো এবং কোন যাত্রীদল যেতে থাকলে তাদেরকে বলবে- রাসূলের প্রিয় সাহাবী আবু যর মারা গিয়েছে।''
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০২২ রাত ৯:৪৫
২৮টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সত্যিই কি দারিদ্র্য মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৬ শে মে, ২০২২ সকাল ৯:২৩


মাত্র আট বছর বয়সে কবি নজরুলের পিতৃবিয়োগ ঘটে। ওনার মা দ্বিতীয় বিবাহ করেন। এটা কবি মেনে নিতে পারেন নি। মায়ের সাথে তার দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়।
শুরু হয় কঠিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রামের সুন্দর মুহুর্তগুলো।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৬ শে মে, ২০২২ সকাল ১০:১০

গ্রাম্য শিশু বালিকা বেশে।


শিশুটির বয়স খুবই কম। কিন্তু সে মোবাইল চালনায় বিশেষ পারদর্শী। সাজুগুজুর কথা বললে তো কথায় নেই; প্রথম কাজ হলো ঠোঁটে লিপিস্টিক দেওয়া এবং বিশেষ ভঙ্গিমায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহা!! ই-পাসপোর্ট !!

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ২৬ শে মে, ২০২২ সকাল ১০:৫২



আমার সর্বশেষ এমআরপি পাসপোর্টটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৭ইং তারিখে।
তারপরে নানার কারণে (মূলত আলসেমী ও প্রয়োজন না থাকা এবং শেষে করনার উসিলায়) আর পাসপোর্ট তৈরি করা হয়নি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাছ তেল বেগুনি : একটি জীবনঘনিষ্ঠ গল্প

লিখেছেন বিবাগী শাকিল, ২৬ শে মে, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:১০



“আপনি কে?”
প্রশ্নটি যে করেছে, তাকে আমার কাছে মনে হলো বিশ-বাইশ বছরের তরুণী। তার পরনে বহুল ব্যবহৃত মলিন শাড়ি। মাথায় লম্বা ঘোমটা। ঠিকমতো কপালও দেখা যাচ্ছে না। কথা বলছে কীরকম আড়ষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৭৮টি মালটি-নিক থেকে কি কারণে ব্লগার চাঁদগাজীর উপর আক্রমণ চালানো হয়েছিলো?

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৬ শে মে, ২০২২ রাত ৯:৪৫



কয়েক'শ মালটি-নিক বানায়ে ব্লগার চাঁদগাজীকে আক্রমণ করা হয়েছিলো; কি কারণে আক্রমণ চালানো হয়েছিলো, ব্লগার চাঁদগাজী ব্লগে দিনরাত বসে কি করছিলেন?

ব্লগটিম বলেছেন যে, তাঁরা এসব মালটি-নিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×