
আজ শুক্রবার জুমা’র পর অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে এসেছে। এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি জোট ছাড়ার ঘটনা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের রাজনৈতিক মানচিত্রে একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। জোট ছাড়ার পর দলটি ঘোষণা দিয়েছে—তারা আগামী নির্বাচনে ২৬৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এই আত্মবিশ্বাসী অবস্থানই বলে দিচ্ছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নিজেকে আর প্রান্তিক শক্তি হিসেবে দেখছে না।
এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হচ্ছে—জেনজি (Gen Z) ভোটারদের সেই অংশটি, যারা এনসিপি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল জামায়াতের সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্তে হতাশ হয়ে, তারা যদি এখন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে কী হতে পারে?
জেনজি ভোটাররা মূলত তিনটি বিষয়ের প্রতি সংবেদনশীল—নৈতিকতা, স্বচ্ছতা এবং ভবিষ্যৎমুখী রাজনীতি। জামায়াতের সঙ্গে ঐতিহাসিক বিতর্ক, রাজনৈতিক অতীত এবং আন্তর্জাতিক ইমেজের কারণে এই তরুণদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে দূরে সরে গেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সেই জায়গাটিতেই একটি বিকল্প নৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে হাজির হতে পারে। দলটির তুলনামূলকভাবে দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তি, সহিংসতাবিমুখ রাজনীতি এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ভাষা তরুণদের আকর্ষণ করার সক্ষমতা রাখে।
যদি এই জেনজি অংশটি সাংগঠনিকভাবে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়—তাহলে তার প্রভাব হবে বহুমাত্রিক।
প্রথমত, দলটি শহুরে ও শিক্ষিত তরুণ ভোটব্যাংকে শক্ত অবস্থান তৈরি করবে।
দ্বিতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল ক্যাম্পেইনে ইসলামী আন্দোলনের উপস্থিতি বহুগুণ বাড়বে।
তৃতীয়ত, দলটির রাজনৈতিক ভাষ্য আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রজন্মবান্ধব হয়ে উঠবে।
এই সমন্বয় যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুধু ইসলামী ভোটারদের দল হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি একটি বিস্তৃত জাতীয় রাজনৈতিক জোটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। এতে মধ্যমপন্থী ভোটার, কিছু আওয়ামী সমর্থক, সেক্যুলার কিন্তু নৈতিক শাসন প্রত্যাশী জনগোষ্ঠী—সবার জন্যই দলটি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।
এই বাস্তবতায় আমার ধারণা যে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করতে পারে, তা আর নিছক কল্পনা নয়। অবশ্যই এর জন্য প্রয়োজন হবে দক্ষ নেতৃত্ব, বাস্তবসম্মত ইশতেহার, তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনপূর্ব কৌশলগত ঐক্য। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে এসে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এখন এমন এক পথে হাঁটছে, যেখানে তারা কেবল প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং ক্ষমতার সম্ভাব্য দাবিদার।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে হয়তো আমরা একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





