somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা কি উত্তেজনার অংশ হব, নাকি সমাধানের অংশ?

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



দেশ এখন পুরোপুরি তিন ভাগে বিভক্ত। একদিকে নব নির্বাচিত বিএনপি সরকার, অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপি জোট। একদল আরেক দলকে সহ্য করতে পারছেন না। আর, বরাবরের মতো চিপায় পড়ে গিয়েছেন ৩য় পক্ষ - 'সাধারণ জনগণ'। প্রশাসনও প্রায় নিরুপায়, দুই দিক থেকেই মার খাচ্ছেন। আজকের হাতিয়া এর পরিস্থিতি দেখে তা-ই মনে হচ্ছে।

নির্বাচনের পর সাধারণত রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, পরিস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে আরও জটিল হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা যখন সামাজিক বিভাজনে রূপ নেয়, তখন তা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা এবং নাগরিক নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ - এখন করণীয় কী?

সম্ভবত এ সময় সবচেয়ে প্রয়োজন সংলাপ, ধৈর্য এবং সামাজিক নেতৃত্বের। রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ এবং সম্মানিত ব্যক্তিদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এগিয়ে আসা জরুরি হতে পারে। ইতিহাস বলছে, বহু সংকটময় সময়ে স্থানীয় নেতৃত্ব, নাগরিক সমাজ, ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সম্মানিত ব্যক্তিরা উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

গ্রাম থেকে শহর - প্রতিটি পর্যায়ে এমন ব্যক্তিদের একটি নৈতিক বলয় তৈরি করা দরকার, যারা দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে শান্তি, সংলাপ ও সহনশীলতার পক্ষে দাঁড়াবেন। তাঁদের কাজ হবে উত্তেজনা কমানো, ভুল বোঝাবুঝি দূর করা এবং সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক চাপ তৈরি করা।

কারণ রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্ভর করে না; এটি নাগরিকদের পারস্পরিক আস্থা, সহনশীলতা এবং দায়িত্ববোধের ওপরও নির্ভরশীল।

আজ প্রয়োজন প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার নয় - বরং সহাবস্থানের পথ খুঁজে নেওয়ার। মতভেদ থাকতে পারে, রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র এবং জনগণের স্বার্থ সবার ঊর্ধ্বে।

এই সংকটময় সময়ে প্রশ্নটি তাই ব্যক্তিগতও - আমরা কি উত্তেজনার অংশ হব, নাকি সমাধানের অংশ?

সম্ভবত সময় এসেছে, প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে শান্তি, সংলাপ এবং মানবিকতার পক্ষে দাঁড়ানোর।

আপনিও কি সেই দায়িত্বশীল নাগরিকদের একজন হতে চান না?
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এমপি সাহেবের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম!

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩১


অনেক দিন আগে হুমায়ূন আহমেদের একটা নাটক দেখেছিলাম। সেখানে কোন এক গ্রামে একজন এমপি সাহেব যাবেন। এই জন্য সেখানে হুলস্থুল কান্ডকারখানা শুরু হয়ে যায়। নাটকে কতকিছুই না ঘটে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাঁজা বৃতান্ত

লিখেছেন মুনতাসির, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৪

গাজা নিয়ে আমাদের মধ্যে বিশেষ অনুভূতির নাম হলো—এরা গাজাখোর। ব্যাপারটা এমন যেন বিশেষ কোনো শ্রেণি। না, আমি গাজা নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছি না। কিন্তু গাজা নিয়ে আমাদের দেশে যেভাবে আলোচনা, জেল-জরিমানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিয়া ও খালেদাকে নিয়ে বিষোদগার করা চুপ্পু হঠাৎ কেন তারেকের প্রশংসায় গদগদ, তারেকে মুগ্ধ!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯


২৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক কালের কণ্ঠে “চমকানো তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি” পরে ২৪ ফেব্র্রুয়ারি “রাষ্ট্রপতির আরো বিস্ফোরক তথ্য” শিরোনামে সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। এখানেও তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারের ভূয়সী... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমযানে ২৪ ঘণ্টার আদর্শ রুটিন

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

রমযানে ২৪ ঘণ্টার আদর্শ রুটিন

ছবি সংগৃহিত

রমযান মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বরকতময় মাস। এ মাসে আল্লাহ তায়ালা সিয়ামকে ফরয করেছেন এবং কুরআন নাযিল করেছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন:

شَهۡرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِيٓ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউনুসনামা-২

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৫২



ইউনুস সরকার তাঁর আমলে যে ডিভাইড এন্ড রুলের নীতি গ্রহণ করেছিল, এর প্রভাব রাজনৈতিক অঙ্গনে যে ভয়া*বহভাবে পড়েছিল, এর চেয়ে কম ভয়া*বহ প্রভাব পড়েনি আমাদের সামাজিক অঙ্গনে। সামাজিক ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×