somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

একজন ইবনে রুশদ

১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



''অজ্ঞতা থেকে ভীতি তৈরি হয়,
ভীতি ঘৃণার সৃষ্টি করে আর ঘৃণা থেকে আসে হিংস্রতা। এটাই নিয়ম।''

– ইবনে রুশদ

ইবনে রুশদ হলেন একজন মুসলিম লেখক।
তিনি আরবী ভাষায় লিখতেন। তার বেশি কিছু লেখা ল্যাটিন ও হিব্রু ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। অনেক বিষয়ে তিনি জ্ঞানী ছিলেন। যেমনঃ আইন, অংক, জোর্তি, চিকিৎসা, পর্দাথ বিজ্ঞান এবং মনোবিজ্ঞান। ত্রিকোণমিতি এবং সংগীতেও তার বিশেষ জ্ঞান ছিলো। কোরআন, হাদিসের বাইরে গিয়ে তিনি বই পড়ে নিজেকে যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। কেউ সমস্যা পড়লেই তার কাছে যেতেন। তিনি সহজ যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করে মানুষকে বুঝিয়ে দিতেন। ধারনা করা হয়- তার লেখা বইয়ের সংখ্যা একশ'র বেশি। তার জন্ম আমাদের নবীজির মৃত্যুর প্রায় পাঁচ- ছয় শ' বছর পরে। অর্থ্যাত ১১২৬ সালে। ইবনে রুশদ স্পেনের কর্ডোবায় জন্মগ্রহণ করেন। আবু আল ওয়ালিদ মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে রুশদ তার পুরো নাম। মুসলিমদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক এবং পণ্ডিত। এই দার্শনিক আজীবন মানুষের সেবা করেছেন। সত্যের সন্ধান করেছেন।

ইবন রুশদ এরিস্টটল সম্পর্কে জানতেন।
এরিস্টটলকে নিয়ে গবেষনা করেছেন। এরিস্টটলের অনেক লেখার ব্যাখ্যা তিনি দিয়েছেন। ইবনে রুশদ নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি সব সময় বলতেন, নারী কেন শুধু ঘরে বন্ধী থাকিবে? তারা ঘর থেকে বের হবে। কাজ করবে। তবেই না বিশ্ব এগিয়ে যাবে। তিনি বিশ্বাস করতেন, নারী ও পুরুষ সকল ক্ষেত্রেই সমান যোগ্য এবং সুযোগ পেলে নারীরাও সমাজ, রাষ্ট্র ও জ্ঞানবিজ্ঞানে সমান অবদান রাখতে সক্ষম। ইবনে রুশদ কুরআন মেনেই তার দর্শন রচনা করেছেন। তিনি কোনো ধর্মীয় ঝামেলায় যাননি। তিনি মনে করতেন, কুরআন বুঝতে হলে দর্শনের প্রয়োজন আছে। অথচ কতিপয় ধার্মিক এই মহান জ্ঞানীকে শেষ বয়সে নির্বাসনে পাঠায়। তারপর তার সমস্ত কিতাব পুড়িয়ে ফেলা হয়। ইবনে রুশদ তার সময়ে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। ইতালিয়ান কবি দান্তের বিখ্যাত বই 'ডিভাইন কমেডি'তে ইবনে রুশদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনে রুশদ বুঝতে পেরেছিলেন, ধর্মের সাথে ক্যাচাল করে টিকে থাকা যায় না।

ইবনে রুশদ এর শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ 'ডিসিসিভ ট্রিটিজ'।
বইটিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ''দার্শনিক আর আইনজীবীরা একই পন্থা অবলম্বন করে। আধ্যাত্মিক দর্শন মূলত ধর্ম থেকেই আসে। ধর্মগ্রন্থই মানুষকে চিন্তা করতে বলে এবং সে চিন্তার সীমাও ঠিক করে দেয়। দর্শন আর ধর্ম কখনোই সাংঘর্ষিক নয়''। চল্লিশ বছর বয়সে ইবনে রুশের নাম ছড়িয়ে পড়ে। ইবনে রুশদ এমন একজন চিন্তাবিদ ছিলেন যিনি ধর্মকে যুক্তির দাঁড়িপাল্লায় রেখে আধুনিক বিশ্বের জ্ঞানের দুয়ার খুলে দিয়েছিলেন। তাঁর কারণেই মধ্যযুগে হারিয়ে যাওয়া গ্রিক দর্শন পুনরায় জীবিত হয়েছিল। ইবনে রুশদ জ্ঞানী লোক ছিলেন। এজন্য ধর্মকে হেয় না করে, তিনি তার লক্ষ্যে এগিয়ে গেছেন। ধার্মিকদের ক্ষেপিয়ে তুললে তিনি তার লক্ষ্যে পৌছাতে পারতেন না। আধুনিক যুগে তার জন্ম হলে তিনি আরো ভালো করতে পারতেন।

ইবনে রুশদ এর মৃত্যু হয় ৭২ বছর বয়সে।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন যে, মুসলিম সমাজ নারীদের ভূমিকাকে সীমিত করে দিয়েছে; তিনি বলেন, এই সীমাবদ্ধতা রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য ক্ষতিকর। ইবিনে রুশদ সঙ্গীত ও ত্রিকোণমিতি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখতেন। তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন প্লেটো এরিস্টটল সহ গ্রীক সাহিত্যের উপর গবেষনা করে। অথচ তৎকালীন গ্রীক সাহিত্য ছিল সমাকমিতায় ভরপুর। প্লেটোর সাহিত্যে নানাভাবে সমকামিতাকে উপস্থিত হয়েছে। রুশদ এরিস্টটলকে অবহেলা করেননি। বুঝতে পেরেছিলেন তাকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্রচিন্তা করা বোকামি। ইবিনে রুশদকে আমি পছন্দ করি, কারণ তিনি নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন। ইসলাম ধর্মের নিয়ম মেনে নিয়ে, নারীদের দাবিয়ে রাখতে তিনি চাননি। ধর্ম নারীদের কোনঠাসা করে রেখেছে। এটা ইবনে রুশদের মোটেও পছন্দ ছিলো না।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট ব্যবসা, বড় আইডিয়া: প্রযুক্তি না নিলে পিছিয়ে পড়বেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৩



বাংলাদেশে ছোট ও মাঝারি ব্যবসা (SMEs) মানেই হচ্ছে “চা খেতে খেতে বিজনেস প্ল্যান” - কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখন শুধু চা আর আড্ডা দিয়ে ব্যবসা চলে না, দরকার প্রযুক্তির ব্যবহার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা হযরত রাসূল (সা.), হযরত মুয়াবিয়া (রা.) ও অন্যান্য সাহাবার (রা.) সমালোচনা করে তাদের সাথে মুসলিম জাতির অপরাংশ কোন দিন ঐক্যবদ্ধ হবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৫৮




সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইএমএফ কেন ঋণের কিস্তি আটকে দিতে চায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:০৩


একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে: "যে ব্যক্তি অর্থনীতি বোঝে না, সে রাজনীতিও বোঝে না।" বাংলাদেশের গত কয়েক বছরের পরিস্থিতি দেখলে মনে হয়, এই প্রবাদটি শুধু সাধারণ মানুষের জন্য নয়, আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষ বিকেল Last Afternoon

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:০৫

এই পৃথিবীতে শেষ বিকেলে আমরা কেটে ফেলি দিনগুলো
আমাদের শরীর থেকে, আর গুনি সেই হৃদয়গুলো যা আমরা নিয়ে যাব
এবং যেগুলো যাব এখানে রেখে। সেই শেষ বিকেলে
আমরা কোনো কিছুকে বিদায় বলি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন ইবনে রুশদ

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭



''অজ্ঞতা থেকে ভীতি তৈরি হয়,
ভীতি ঘৃণার সৃষ্টি করে আর ঘৃণা থেকে আসে হিংস্রতা। এটাই নিয়ম।''

– ইবনে রুশদ

ইবনে রুশদ হলেন একজন মুসলিম লেখক।
তিনি আরবী ভাষায় লিখতেন। তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×