
''অজ্ঞতা থেকে ভীতি তৈরি হয়,
ভীতি ঘৃণার সৃষ্টি করে আর ঘৃণা থেকে আসে হিংস্রতা। এটাই নিয়ম।''
– ইবনে রুশদ
ইবনে রুশদ হলেন একজন মুসলিম লেখক।
তিনি আরবী ভাষায় লিখতেন। তার বেশি কিছু লেখা ল্যাটিন ও হিব্রু ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। অনেক বিষয়ে তিনি জ্ঞানী ছিলেন। যেমনঃ আইন, অংক, জোর্তি, চিকিৎসা, পর্দাথ বিজ্ঞান এবং মনোবিজ্ঞান। ত্রিকোণমিতি এবং সংগীতেও তার বিশেষ জ্ঞান ছিলো। কোরআন, হাদিসের বাইরে গিয়ে তিনি বই পড়ে নিজেকে যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। কেউ সমস্যা পড়লেই তার কাছে যেতেন। তিনি সহজ যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করে মানুষকে বুঝিয়ে দিতেন। ধারনা করা হয়- তার লেখা বইয়ের সংখ্যা একশ'র বেশি। তার জন্ম আমাদের নবীজির মৃত্যুর প্রায় পাঁচ- ছয় শ' বছর পরে। অর্থ্যাত ১১২৬ সালে। ইবনে রুশদ স্পেনের কর্ডোবায় জন্মগ্রহণ করেন। আবু আল ওয়ালিদ মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে রুশদ তার পুরো নাম। মুসলিমদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক এবং পণ্ডিত। এই দার্শনিক আজীবন মানুষের সেবা করেছেন। সত্যের সন্ধান করেছেন।
ইবন রুশদ এরিস্টটল সম্পর্কে জানতেন।
এরিস্টটলকে নিয়ে গবেষনা করেছেন। এরিস্টটলের অনেক লেখার ব্যাখ্যা তিনি দিয়েছেন। ইবনে রুশদ নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি সব সময় বলতেন, নারী কেন শুধু ঘরে বন্ধী থাকিবে? তারা ঘর থেকে বের হবে। কাজ করবে। তবেই না বিশ্ব এগিয়ে যাবে। তিনি বিশ্বাস করতেন, নারী ও পুরুষ সকল ক্ষেত্রেই সমান যোগ্য এবং সুযোগ পেলে নারীরাও সমাজ, রাষ্ট্র ও জ্ঞানবিজ্ঞানে সমান অবদান রাখতে সক্ষম। ইবনে রুশদ কুরআন মেনেই তার দর্শন রচনা করেছেন। তিনি কোনো ধর্মীয় ঝামেলায় যাননি। তিনি মনে করতেন, কুরআন বুঝতে হলে দর্শনের প্রয়োজন আছে। অথচ কতিপয় ধার্মিক এই মহান জ্ঞানীকে শেষ বয়সে নির্বাসনে পাঠায়। তারপর তার সমস্ত কিতাব পুড়িয়ে ফেলা হয়। ইবনে রুশদ তার সময়ে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। ইতালিয়ান কবি দান্তের বিখ্যাত বই 'ডিভাইন কমেডি'তে ইবনে রুশদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনে রুশদ বুঝতে পেরেছিলেন, ধর্মের সাথে ক্যাচাল করে টিকে থাকা যায় না।
ইবনে রুশদ এর শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ 'ডিসিসিভ ট্রিটিজ'।
বইটিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ''দার্শনিক আর আইনজীবীরা একই পন্থা অবলম্বন করে। আধ্যাত্মিক দর্শন মূলত ধর্ম থেকেই আসে। ধর্মগ্রন্থই মানুষকে চিন্তা করতে বলে এবং সে চিন্তার সীমাও ঠিক করে দেয়। দর্শন আর ধর্ম কখনোই সাংঘর্ষিক নয়''। চল্লিশ বছর বয়সে ইবনে রুশের নাম ছড়িয়ে পড়ে। ইবনে রুশদ এমন একজন চিন্তাবিদ ছিলেন যিনি ধর্মকে যুক্তির দাঁড়িপাল্লায় রেখে আধুনিক বিশ্বের জ্ঞানের দুয়ার খুলে দিয়েছিলেন। তাঁর কারণেই মধ্যযুগে হারিয়ে যাওয়া গ্রিক দর্শন পুনরায় জীবিত হয়েছিল। ইবনে রুশদ জ্ঞানী লোক ছিলেন। এজন্য ধর্মকে হেয় না করে, তিনি তার লক্ষ্যে এগিয়ে গেছেন। ধার্মিকদের ক্ষেপিয়ে তুললে তিনি তার লক্ষ্যে পৌছাতে পারতেন না। আধুনিক যুগে তার জন্ম হলে তিনি আরো ভালো করতে পারতেন।
ইবনে রুশদ এর মৃত্যু হয় ৭২ বছর বয়সে।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন যে, মুসলিম সমাজ নারীদের ভূমিকাকে সীমিত করে দিয়েছে; তিনি বলেন, এই সীমাবদ্ধতা রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য ক্ষতিকর। ইবিনে রুশদ সঙ্গীত ও ত্রিকোণমিতি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখতেন। তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন প্লেটো এরিস্টটল সহ গ্রীক সাহিত্যের উপর গবেষনা করে। অথচ তৎকালীন গ্রীক সাহিত্য ছিল সমাকমিতায় ভরপুর। প্লেটোর সাহিত্যে নানাভাবে সমকামিতাকে উপস্থিত হয়েছে। রুশদ এরিস্টটলকে অবহেলা করেননি। বুঝতে পেরেছিলেন তাকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্রচিন্তা করা বোকামি। ইবিনে রুশদকে আমি পছন্দ করি, কারণ তিনি নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন। ইসলাম ধর্মের নিয়ম মেনে নিয়ে, নারীদের দাবিয়ে রাখতে তিনি চাননি। ধর্ম নারীদের কোনঠাসা করে রেখেছে। এটা ইবনে রুশদের মোটেও পছন্দ ছিলো না।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


