
বাংলাদেশে ছোট ও মাঝারি ব্যবসা (SMEs) মানেই হচ্ছে “চা খেতে খেতে বিজনেস প্ল্যান” - কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখন শুধু চা আর আড্ডা দিয়ে ব্যবসা চলে না, দরকার প্রযুক্তির ব্যবহার। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক ছোট ব্যবসা প্রযুক্তি গ্রহণ করতে দেরি করে - ঠিক যেমন আমরা অনেকেই এখনো অনলাইন পেমেন্টের বদলে “ভাই, বিকাশ আছে?” বলে থাকি। কিন্তু যারা দ্রুত নতুন প্রযুক্তি নেয়, তারাই বাজারে এগিয়ে যায়। উদাহরণ হিসেবে ধরুন - ঢাকার কোনো বুটিক শপ যদি শুধু দোকানে বিক্রি করে, আর পাশের দোকান যদি ফেসবুক ও ওয়েবসাইটে বিক্রি শুরু করে, তাহলে কে এগিয়ে যাবে বুঝতেই পারছেন!
একটা বড় বিষয় হলো- “পরিবর্তনের ইচ্ছা”। আমাদের দেশে অনেক ব্যবসায়ী আছেন যারা বলেন, “এইভাবে তো ১০ বছর ধরে চলছে, নতুন কিছু লাগবে কেন?” - এই চিন্তাটাই আসলে সবচেয়ে বড় বাধা। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নতুন প্রযুক্তির সাথে দ্রুত মানিয়ে নেয়, তারাই সফল হয়। ধরুন, করোনার সময় অনেক রেস্টুরেন্ট অনলাইনে ডেলিভারি শুরু করে টিকে গেছে, আর যারা শুধু দোকান খুলে বসে ছিল তারা সমস্যায় পড়েছে। তাই সময়ের সাথে আপডেট না হলে ব্যবসাও “আউটডেটেড” হয়ে যায় - ঠিক পুরনো নোকিয়া ফোনের মতো!
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো - কাস্টমারের চাহিদা বোঝা। বাংলাদেশে এখন মানুষ খুব দ্রুত অনলাইন শপিংয়ের দিকে ঝুঁকছে। আপনি যদি কাস্টমারের সুবিধা না দেন, তাহলে সে অন্য দোকানে চলে যাবে - একদম রিকশা না পেলে যেমন আমরা উবারে চলে যাই! যারা গ্রাহকের কথা মাথায় রেখে ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ বা অনলাইন সার্ভিস চালু করছে, তারা সহজেই নতুন কাস্টমার পাচ্ছে। তাই “গ্রাহকই রাজা” - এটা শুধু বইয়ের কথা না, বাস্তব সত্য।
সবশেষে, প্রযুক্তি নেওয়া মানেই শুধু টাকা খরচ না - এটা একটা বিনিয়োগ। অনেক ছোট ব্যবসা ভাবে, “ওয়েবসাইট বানাতে এত টাকা লাগবে!" - কিন্তু না বানিয়ে যে কাস্টমার হারাচ্ছেন, তার হিসাব কি রাখছেন? তাই একটু সাহস নিয়ে, নতুন কিছু শেখার মানসিকতা নিয়ে এগোতে হবে। নইলে ভবিষ্যতে হয়তো এমন দিন আসবে, যখন কাস্টমার দোকানে এসে বলবে - “আপনাদের অনলাইন নেই? আচ্ছা থাক, আমি অন্য জায়গা থেকে অর্ডার করি!"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

