ফেইসবুকে প্রধানমন্ত্রীর ‘মৃত্যু কামনা’ করায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মুহাম্মদ রুহুল আমীন খন্দকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই রায় দেয়। এতে রুহুল আমীনের বিরুদ্ধে ১২৪ ধারায় (রাষ্ট্রদ্রোহিতা) মামলা করে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে পুলিশ মহাপরিদর্শককে।
এর আগে এই মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় এই শিক্ষককে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয় হাইকোর্টের একই বেঞ্চ। অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত এই শিক্ষককে দেশে ফেরাতে এবং তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয় ওই রায়ে।
গত ১৩ অগাস্ট মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও এটিএন নিউজের প্রধান সম্পাদক মিশুক মুনীরসহ পাঁচ জনের মৃত্যুর পর ফেইসবুকে এক স্ট্যাটাস আপডেটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘মৃত্যু কামনা’ করেন রুহুল।
১৩ অগাস্ট সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে ফেইসবুক ওয়ালে পোস্ট করা একটি স্ট্যাটাসে লেখা ছিল, “পরীক্ষা ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার ফল তারেক ও মিশুক মুনীরসহ নিহত ৫: সবাই মরে, হাসিনা মরে না কেন?”
পরদিন ভোর ৪টা ৫৯ মিনিটে দেওয়া আরেক স্ট্যাটাসে লেখা ছিল, “পরীক্ষা ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স! কোনো সভ্য সমাজে কি চিন্তা করা যায়? পুরো পৃথিবী যেখানে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া কঠিন করছে, সেখানে হাসিনা সরকার পরীক্ষা ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স দিচ্ছে !!!”
ওই স্ট্যাটাস নিয়ে ১৮ অগাস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে ‘জাবির জামায়াতপন্থী শিক্ষকের ঔদ্ধত্য’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ সংবাদ আদালতের নজরে নেওয়ার পর আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে। রুলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কেন ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
পরে ২৫ অগাস্ট অন্য এক আদেশে হাইকোর্ট ১৭ অক্টোবর ওই শিক্ষককে আদালতে আসার নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে দুই সপ্তাহের মধ্যে এ সংক্রান্ত নোটিস জারি করতে পররাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত ১২ ডিসেম্বর আলতাফ হোসেন আদালতকে জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাযথভাবে নোটিস জারির পরও ওই শিক্ষক আদালতে হাজির হননি।
এরপর ওইদিন হাইকোর্ট ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করে। কেন তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। পাশাপাশি ২ জানুয়ারি তাকে আদালতে হাজির হতেও বলা হয়।
মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী সমীপে:
আমরা কুনো অকাল মৃত্যু চাই না। তবে কেন লগি বৈঠা দিয়া পিটাইয়া মানুষ মাইরা ফেলা হয়? তাদের জীবনের কুনো মূল্যই নেই এই বাংলায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



