জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহ’ কার বিরুদ্ধে, সে ব্যাপারটি চাপা পড়ে গেছে। এ বিদ্রোহ পরাধীনতা, অন্যায়, শোষণের বিরুদ্ধে; যে কোনো রঙের হোক এ পরাধীনতা, যে কোনো রূপে মেলে ধরুক অন্যায় তার পাখা ও শোষণ যার দ্বারাই হোক সংঘটিত।
বাংলা ভাষায় আর কোনো কবি এই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেননি। উত্পীড়নের বিরুদ্ধে এমন শপথ আর কারও মুখে শোনা যায়নি। ‘বিদ্রোহী’ কবিতা বাঙালি তরুণ সমাজকে সেদিন যেভাবে প্রভাবিত করে, অন্য কোনো একক কবিতার ভাগ্যে তা ঘটেনি। ‘মোসলেম ভারত’ ও ‘বিজলী’ পত্রিকায় প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বাংলার তরুণের রক্ত টগবগ করে উঠেছিল। প্রতি তরুণ সেদিন বহন করেছিল নজরুলেরই আহ্বান প্রতিক্ষণে : ‘আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ’। এতদিন যারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে কুর্ণিশ করে এসেছিল, তাদের ছুঁড়ে দেয়া নানা আদরণীয় পদবি নিজ নামের সঙ্গে যুক্ত করে পরম আত্মপ্রসাদে তাদের হ্যাট-কোট-প্যান্ট পরে ইংরেজ হওয়ার স্বপ্নে মেতেছিল, তাদের দ্বারে এ ছিল এক নির্মম সঙ্কেত। লর্ড ও লেডি হওয়ার বাসনা, ওদের সঙ্গে এক টেবিলে লাঞ্চ-ডিনার খাবার দুর্লভ সম্মান এখন পরিণত লজ্জাষ্কর হয়ে।
নজরুলের বিদ্রোহবাণীতে প্রকাশিত বাঙালির চিরকালীন মুক্তির উদ্দাম স্বপ্ন। কোথাও নেই কোনো বাধা, নেই কোনো অস্পষ্টতা। সমাজের, যুগের ও জনতার দাবি এক হয়ে প্রকাশিত হলো নজরুলের মাঝে, আর কারও মাঝে নয়। তারিখটি মনে রাখতে হয়, সেটি ১৩২৮-এর ২২ পৌষ। এসে গেছে ১৪১৮ সালের ১১ জ্যৈষ্ঠ। নব্বই বছর। কবিতাটির অংশ পড়া যাক :
‘মহা-বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত,
যবে উত্পীড়িতের ক্রন্দন-রোল
আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না,
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ
ভীম রণ-ভূমে রণিবে না—
বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত’।
কবিতা প্রকাশিত হলে বাঙালির শিরায় শিরায় বয়ে যায় তরল অনল। কে এ বিদ্রোহের কবি? রাতারাতি বিখ্যাত হন কবি নজরুল। নব্বই বছর অতিক্রান্ত। স্বাধীন দেশে কবিতাটির আর কোনো প্রয়োজন আছে কিনা, ভেবে দেখতে হয়। মহাযুদ্ধ, দাঙ্গা, মন্বন্তর, সাতচল্লিশ ও একাত্তরের সিঁড়ি পেরিয়ে আজ স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের চল্লিশ বছর। বাংলাদেশে ও পশ্চিমবঙ্গে উত্পীড়িতের ক্রন্দন রোল থামেনি, অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ এখনও উদ্ধত।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন : ‘পঁয়ত্রিশ বছর পর নতুন করে স্বাধীন হলাম’। তিন বছর আগে বাংলাদেশেও এমন একটি বক্তৃতা শুনেছি বৈকি। হাটে-মাঠে-বাটে যাদের সঙ্গে দেখা হয়, যাদের কথা বলার জন্য এই প্রবন্ধের সূত্রপাত, তারা বলছেন : ক্রন্দনরোল কখনোই থামেনি, বরং শতগুণে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত। নতুন অত্যাচারী এসে জায়গা নিয়েছে পুরনো অত্যাচারীর। অত্যাচার থামেনি, নতুন নতুন খড়গ কৃপাণ নিয়ে আবির্ভূত বিদেশি অনুচররা নতুন ফতোয়া নিয়ে। গরিবরা নিঃস্ব দিন দিন, ‘বিচারের বাণী নীরবে-নিভৃতে কাঁদে’। তাহলে স্বাধীন হয়েছি কি?
পাকিস্তান হওয়ার পর এক সভায় এসেছেন মন্ত্রী হাবিবুল্লাহ বাহার, সঙ্গে বন্ধু আব্বাসউদ্দিন আহমেদ। বক্তৃতা মঞ্চ থেকে উনি গাইলেন :
কারার ঐ লোহ কপাট,
ভেঙে ফেল কররে লোপাট
রক্তজমাট শিকল পুজোর পাষাণবেদী
ওরে ও তরুণ ঈশাণ, বাজা তোর প্রলয়-বিষাণ
ধ্বংস নিশান উড়ুক প্রাচী’র প্রাচীর ভেদী
বাহার সাহেব বললেন, ‘পাকিস্তান হওয়ার পর এখন তো আমরা স্বাধীন। এখন আর কোন জেলের তালা ভাঙবেন’? ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, নতুন নতুন অত্যাচারীরা কী সূক্ষ্মভাবে নির্যাতন করেছেন, মানুষ তা ভুলে গেলেও ইতিহাস ভোলেনি। দিন দিন বাড়ে দেনা। একাত্তরে নতুন করে স্বাধীন হলাম। তারপর প্রতি বছর ১১ জ্যৈষ্ঠ আবার নজরুলকে নতুন করে আবিষ্কার। প্রেমেন্দ্র মিত্র বলছেন : ‘এতে আছে যুগমানসের প্রতিবিম্ব, বিশৃঙ্খল ছন্দ ও উগ্র উত্কট উপমা-উেপ্রক্ষা। এটি যুগের অন্তর্লোকের নিরুদ্ধ বাষ্পাবেগের দ্বারা উিক্ষপ্ত’। [শিশির কর, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও নজরুল প্রবন্ধ দ্রষ্টব্য]
সরকারি রোষ নেমে আসে নজরুলের বিরুদ্ধে প্রথম দিন থেকেই। ১৯২২ সালে বাংলা সরকার ফৌজদারি বিধির ৯৯ এ ধারায় নজরুলের বই বাজেয়াপ্ত করে। এই বইটি ‘নবযুগ’ পত্রিকায় লেখা নজরুলের কয়েকটি নিবন্ধের সংকলন। এর দু’বছর পর অর্থাত্ ১৯২৪ সালে তাঁর লেখা ‘বিষের বাঁশি’ ও ‘ভাঙার গান’ বাজেয়াপ্ত হয়।
‘বিষের বাঁশি’র প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদে দেখা যাচ্ছে একটি তরুণ কিশোর বাঁশি বাজাচ্ছে হাঁটু গেড়ে, আর তাকে জড়িয়ে বিশাল এক বিষধর সর্প, তীক্ষষ্ট জিহ্বা অগ্রবর্তী রেখে। অথচ কিশোরের ভঙ্গিতে নেই এতটুকু ভয় ও ভীতি, তন্ময় হয়ে সে বাঁশি বাজাচ্ছে এবং সেই বাঁশির সুরে যেন জেগে উঠছে সমস্ত বিশ্বলোক। অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, নজরুলের বন্ধু, বলছেন এই বই সম্পর্কে : এই ‘বিষের বাঁশি’র বিষ জুগিয়েছেন আমার নিপীড়িতা দেশমাতা আর আমার ওপর বিধাতার সব রকম আঘাতের অত্যাচার। [‘জ্যৈষ্ঠের ঝড়’ : অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, পৃষ্ঠা-১৭৫] প্রবাসী বলছে : ‘কবিতাগুলো যেন আগ্নেয়গিরি প্লাবন ও ঝড়ের প্রচণ্ড রুদ্ররূপ ধরিয়া বিদ্রোহ কবির মর্মজ্বালা প্রকাশিত করিয়াছে। জাতির এই দুর্দিনে মুমূর্ষু নিপীড়িত দেশবাসীকে মৃত্যুঞ্জয়ী নবীন চেতনায় উদ্বুদ্ধ করিবে’। [শিশির কর, পূর্বোক্ত] ভুলে গেলে চলে না, নজরুলের পাঁচটি বই ওদের রুদ্ররোষে পড়েছিল। সেগুলো হলো : ‘যুগবাণী’, ‘বিষের বাঁশি’, ‘ভাঙার গান’, ‘প্রলয় শিখা’, ‘চন্দ্রবিন্দু’।
নজরুল যেমন তাঁর শত্রু চিনেছিলেন, ইংরেজও। ‘যুগবাণী’তে ছাপা তাঁর লেখা ‘কালা আদমীকে গুলি মারা’ প্রবন্ধে ইংরেজদের প্রতি তাঁর প্রচণ্ড ঘৃণা ও বিদ্বেষের পরিমাপ করা যায়। তিনি লিখছেন :
“একটা কুকুরকে গুলি মারিবার সময়ও এক আধটু ভয় হয়, যদি কুকুরটা আসিয়া কোন গতিকে গাঁক করিয়া কামড়াইয়া দেয়! কিন্তু আমাদের এই কালা আদমীকে গুলি করিবার সময় সাদা বাবাজীদের সে-ভয় আদৌ পাইতে হয় না। কেননা তাহারা জানে যে, আমরা পশুর চেয়েও অধম। একবার এক সাহেবের গুলির চোটে আমাদের স্বগোত্র এক কালা আদমী মারা যায়, তাহাতে সাহেব জিজ্ঞাসা করেন, ‘কৌন মারা গিয়া’? একজন আসিয়া বলিল, ‘এক দেহাতি আদমী হুজুর’! সাহেব দিব্যি পা ফাঁক করিয়া স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলিয়া বলিল, ‘ওঃ হাম সম্ঝা থা, কোই আদমী’! অর্থাত্ ঐ গ্রাম্য বেচারা, সাহেবের বিড়াল-চোখে মানুষই নয়। মনুষ্যকে এত বড় ঘৃণা আর কেহ কোথাও প্রদর্শন করিতে পারে কি-না জানি না। ইহার পরাকাষ্ঠা দেখান হইয়াছে জালিয়ানওয়ালাবাগে ও অন্যান্য স্থানে।”
তাঁর জেলে যাওয়ার কারণ ছিল এই কবিতাটি।
আর কতকাল থাকবি বেটী মাটির ঢেলার মূর্তি-আড়াল?
স্বর্গ যে আজ করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল।
দেব-শিশুদের মারছে চাবুক, বীর যুবকদের দিচ্ছে ফাঁসি,
ভূ-ভারত আজ কসাইখানা,— আসবি কখন সর্বনাশী? ...
কবিতাটি প্রকাশিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। বারীন্দ্রকুমার দাস মাদ্রাজ থেকে নজরুলকে সাবধান করে দিলেন ২৩ জুলাই ১৯২২ : গরম গরম লিখে জেলে যেও না। মুজাফ্ফর আহমেদ লিখছেন : ‘ধূমকেতুর অনেক লেখা নিয়েই নজরুলের নামে মোকদ্দমা হতে পারত, কিন্তু মোকদ্দমা হল আনন্দময়ীর আগমনে নিয়ে।’ এটি বের হয় ধূমকেতুর ১৯২২ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর সংখ্যায়। ধূমকেতু জনপ্রিয় হয়ে উঠল। পত্রিকা বেরুলেই তা নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে যায়, কয়েক মিনিটের মধ্যেই পত্রিকা শেষ। মুজাফ্ফর আহমেদ লিখছেন : ‘কিছুক্ষণের মধ্যেই দোতলায় উঠার সিঁড়িতে একসঙ্গে অনেকগুলো জুতোর শব্দ শোনা গেল। পুলিশ এসেছে ধূমকেতুর অফিসে তল্লাশির পরোয়ানা ও কাজী নজরুল ইসলামের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে।’ নজরুল ওই পত্রিকায় ২৭শে জানুয়ারি ১৯২৩-এ লেখেন ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’—এটি এখনও পড়ার মতো।
“এক ধারে রাজার মুকুট আর ধারে ধূমকেতুর শিখা। একজন রাজা, হাতে রাজদণ্ড, আর জন সত্য হাতে ন্যায়দণ্ড। রাজার পক্ষে নিযুক্ত রাজ-বেতনভোগী রাজকর্মচারী। আমার পক্ষে সকল রাজা, সকল বিচারকের বিচারক, আদি অনন্তকাল।
রাজার পেছনে ক্ষুদ্র, আমার পেছনে রুদ্র। রাজার পক্ষে যিনি তার লক্ষ্য স্বার্থ, লাভ অর্থ, আমার পক্ষে যিনি তার লক্ষ্য সত্য, লাভ পরমানন্দ। রাজার বাণী বুদ্বুদ, আমার সীমাহারা সমুদ্র। আমি কবি, অপ্রকাশ সত্যকে প্রকাশ করবার জন্য, অমূর্ত সৃষ্টিকে মূর্তিদানের জন্য প্রেরিত। সত্যের প্রকাশিকা রাজবিচারে রাজদ্রোহী, ন্যায়বিচারে সে বাণী ন্যায় দ্রোহী নয়। ধর্মের আলোকে ন্যায়ের দুয়ারে তা নিরাপদ নিষ্কলুষ অম্লান অনির্বাণ সত্যস্বরূপ। বিচারক জানে আমি যা বলেছি তা অন্যায় নয়। ন্যায়ের এজলাসে মিথ্যা নয়। আজ ভারত পরাধীন, তার অধিবাসীবৃন্দ দাস, এটা নির্জলা সত্য, কিন্তু দাসকে দাস বললে, অন্যায়কে অন্যায় বললে এ রাজত্বে তা হবে রাজদ্রোহ। এ তো ন্যায়ের শাসন হতে পারে না। এই যে জোর করে সত্যকে মিথ্যা, অন্যায়কে ন্যায়, দিনকে রাত বলান, এ কি সত্য সহ্য করতে পারে? এ শাসন কি চিরস্থায়ী হতে পারে? এ ক্রন্দন কি একা আমার?
না। এ আমার কণ্ঠে ঐ উত্পীড়িত নিখিল নীরব ক্রন্দসীর সম্মিলিত সরব প্রকাশ।”
এ বিদ্রোহ তো নব্বই বছর আগের। তা হলে এখনও কেন জেলে পচে মরছে মানুষ। এটা কি স্বাধীন দেশ নয়? স্বাধীন দেশে এত লোক জেলে থাকে? কোনো দেশে এত লোক জেলে আছে? এদের কান্নায় তো আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে এসেছে। যারা অন্যায় করেছে, তাদের শাস্তি কে না চায়? স্বাধীন দেশে কেন এত অন্যায় ও অবিচার?
বিচারাধীন থাকার সময় কবিকে প্রেসিডেন্সি জেলে আটক রাখা হয়। কারাদণ্ডের পর তাকে প্রথম আলীপুর সেন্ট্রাল জেলে নেয়া হয়। সেখান থেকে হুগলি জেলে। বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা ও উত্পীড়নের প্রতিবাদে কবি অনশন শুরু করেন। জেল কর্তৃপক্ষ কাজীর দাবি মেনে নিতে রাজি নয়। নজরুলও দাবি না মানলে অনশন তুলবেন না। দিন দিন কবি হয়ে পড়লেন হীনস্বাস্থ্য। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ জনসভা ডাকলেন। কলেজ স্কয়ারে ১৯২৩ সালের ২১ মে গোলদিঘির এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ। বক্তা : হেমন্ত সরকার, অতুল সেন, মৃণালকান্তি বসু, কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচি জানালেন, নজরুলকে বাঁচানো বাংলাদেশ ও সাহিত্যের পক্ষে প্রয়োজন। রবীন্দ্রনাথ টেলিগ্রাফ পাঠালেন : ‘গিভআপ হাঙ্গার স্ট্রাইক, আওয়ার লিটারেচার ক্লেইমস ইউ।’
এর মধ্যে কারাগারে ১১ জুন ১৯২৩ সালে বিষধর সাপ ঢুকিয়ে কবিকে মেরে ফেলার চক্রান্ত। কবি বললেন, ‘আমাকে মেরে ফেলা এত সহজ নয়। আমি ততদিন বেঁচে থাকব, যতদিন ওরা বিতাড়িত না হয় এ দেশ থেকে’।
নজরুল যুদ্ধে গিয়েছিলেন, সবাই জানেন। তাঁর ইচ্ছে ছিল সৈনিক হওয়ার শিক্ষা নিয়ে দেশকে স্বাধীন করা। ব্রিটিশদের গোলামির জিঞ্জির থেকে দেশকে উদ্ধার করা। আমরা যখন শিশু, তাঁরই দেয়া ‘তক্মা’ এঁটে যেতাম স্কুলে, খেলার মাঠে যখন আমরা ছিলাম পার্ক সার্কাসের মুকুল ফৌজে। সেখানে সর্বাধিনায়ক শিল্পী কামরুল হাসান, আরও বদরুল হাসান, হাসান জান, সিরাজ ভাই, আরও অনেকে। ‘তক্মা’টা এ রকম :
গোলামির চেয়ে শহীদি দর্জা অনেক ঊর্দ্ধে জেন
চাপরাশির ঐ ‘তক্মা’র চেয়ে তলোয়ার বড় মেন
গোলামির জিঞ্জির থেকে মুক্তির জন্য ছিল তাঁর সহস্র কবিতা, সহস্র গান। চল্লিশের দশকের নবীন মুসলমানরা নজরুলের কাছে পেয়েছিলেন ইংরেজদের বিরুদ্ধে মুক্তি সংগ্রামের প্রথম সবক, দিনে-রাতে পুরো তিরিশের দশক ও চল্লিশ দশকের প্রথমভাগে মুসলমানদের ঘুম থেকে জাগিয়েছিলেন যারা তাদের সর্বাগ্রে দু’জন : নজরুল ও আব্বাসউদ্দিন। তাঁদের দৃষ্টি ছিল মুসলমান জাতিকে হীনমন্যতার হাত থেকে পরিত্রাণ। ইংরেজের নিগড় থেকে মুক্তির পর ভারত কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে নজরুলের চিন্তা ছিল নানা দিকে প্রবাহিত। তাঁর শিল্পী মন অবশ্যই চেয়েছিল হিন্দু-মুসলমানের মিলন, যে মিলন ভাইয়ে-ভাইয়ের, যে মিলন কারও প্রতি বিদ্বেষের প্রবাহ সৃষ্টি করে না, কাউকে আঘাত করে না। দাঙ্গা মন্বন্তর যুদ্ধ তাঁর মনকে করে তোলে ক্ষত-বিক্ষত। ৯ জুলাই ১৯৪২ এক দুর্যোগপূর্ণ রাতে রেডিও অফিসের সামনে কুচক্রী মহল তাঁর প্রতি হানে তীব্র আঘাত। তাঁর কলার বোনের পেছন দিকে এই আঘাত হানা হয়, মাটিতে পড়ে যান তিনি। কে. মল্লিক, খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন, সুফি জুলফিকার হায়দারের বর্ণনায় এই আঘাতের ফলেই নজরুলের বাকশক্তির নির্বাপণ সমর্থন করেছেন। সেদিন থেকে সূত্রপাত তাঁর নির্বাক জীবনের।
মাত্র দশ বছরে সাহিত্য সম্ভারে যা দিয়ে গেছেন, তাতে জাতি আরও শত বছর অনুপ্রেরণা পাবে জুলুমের বিরুদ্ধে, অত্যাচারের বিরুদ্ধে নিজকে প্রস্তুত করার।
অত্যাচারীরা চিরদিন ভয় পেয়ে আসছে তরুণ সমাজকে। নজরুলকেও। হ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



