somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্যক্তিগত ডায়রি থেকে

০২ রা মে, ২০২৫ রাত ৯:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার গ্রামের চারপাশে নদী, দ্বীপের মত খুব সুন্দর ছোট্ট একটি গ্রাম। নদীটা গোলাকার একটু বাঁকানো অনেকটা গণিতের সিগমা চিহ্নের মত দেখতে। নদীর একমুখে বাঁধ দিয়ে রাস্তা বানানো হয়েছে গ্রামবাসী চলাচলের জন্য। দুইপাশের নদীটা গোল হয়ে সেই বাঁধের উপর এসে শেষ হয়েছে। পাখির চোখে উপর থেকে গ্রামটাকে দেখলে মনে হবে চারপাশে নদীবেষ্টিত ছবির মত ঝকঝকে সুন্দর মায়াবী এক গ্রাম। আমার দুরন্ত শৈশব কেটেছে এই নদীর পাড়ে, মাঠে, রাস্তায়, ধূলায় কিংবা বাঁধের বটতলায়।

আমাদের বাড়ির একটু সামনেই একটা পোল ছিলো। ইটের তৈরি গোলাকার বড় চোঙা দিয়ে বানানো পোল। সম্ভবত পাকিস্তান আমলের তৈরি এটি। এত মজবুত আর সুন্দর গড়নের গ্রামের কোন পোল আমি দেখিনি। পাতলা টকটকে লাল ইটের তৈরি দুইপাশ। একটু উপরে গাঁথুনি দিয়ে মানুষের বসার জায়গা করে দিয়েছে। গ্রামের সবাই সন্ধার পরে সেই পোলের উপর আড্ডা জমাতো। সকাল-বিকেল-সন্ধ্যা কিংবা মধ্যরাত কেউ না কেউ সেই পোলের উপর বসে আড্ডা দিতো, সাংসারিক আলাপ করতো, দুঃখ-সুখের বিলাপ করতো।

পোলটার উপর বসলে ভোরে লাল আভায় রক্তিম সূর্য উঠার দৃশ্য যেমন পূর্বপাশে দেখা যেতো, তেমনি শেষ বিকেলের পশ্চিমের সূর্য ডোবার দৃশ্যও দেখা যেতো। আমি অনেক মানুষকে সেই পোলের উপর কাঁদতে দেখেছি, অনেককে দেখেছি শেষ বিকেলে উদাস হয়ে বসে থাকতে। তখন মোবাইলের যুগ ছিলোনা। সন্ধ্যার পরে বিদ্যুৎ চলে গেলে বাতাস খাওয়ার একমাত্র জায়গা ছিলো সেই পোলটি।

আমাদের ছোটদের এসব আলোবাতাস, সুখ কষ্ট নিয়ে মাথাব্যথা নেই। শুকনা মৌসুমে আমাদের অবস্থান থাকতো সেই পোলের নীচে। বড় যে চোঙা ছিলো সেটার ভেতর আমরা ছোটরা অনায়াসে চলাফেরা করতে পারতাম। পোলের এপাশ থেকে ওপাশ দৌড়াতাম। নীচে বসে ঘর বানিয়ে খেলতাম, উপর থেকে লাফিয়ে নীচে পড়তাম।

বর্ষাকালে একপাশের পানি অপর পাশে প্রবাহিত হতো। পোলের নীচে টইটম্বুর জলের স্রোতে মাছ ধরতো আলীফুফা। পূর্বপাশে মশারি বা এক ধরনের জাল বসিয়ে দিলে স্রোতের সাথে অজস্র মাছ এসে জমা হতো সেই জালে। আলীফুফা জালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতো। আমরা উপর থেকে মাথা তুলে মাছ দেখতাম। দশমিনিট পরপরই জালে অজস্র ছোটমাছ জমা হতো। আমরা একপাশে কিছু একটা ছুড়ে ফেলে দৌড়ে অন্য পাশে এসে দেখতাম স্রোতের সাথে সেই জিনিসটা চলে যাচ্ছে দূরে, অনেক দূরে।

কালের পরিক্রমায় সেই পোলটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এখন সেখানে সরাসরি রাস্তা৷ পশ্চিমে বাড়িঘর হয়ে আর সূর্যের ডুবন্ত সময় দেখা যায়না। বর্ষাকালে কেউ আর মাছ ধরে না। বাচ্চাদের ওখানে আর দেখতে পাইনা। সবাই বোধহয় আমার মত বড় হয়ে গেছে। সভ্যতায় হারিয়ে গেছে সেই পোলটির মত।।

(ব্যাক্তিগত ডায়রি থেকে/শামীম মোহাম্মদ মাসুদ)

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০২৫ রাত ৯:৪০
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেঁচে থাকাই পরম বিস্ময়

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩


পথেঘাটে ঘুরিফিরি, যেকোনো সময়
পটল তুলতে পারি গাড়ির ধাক্কায়।
মাঝেমধ্যে থাকি এমনও আশঙ্কায়,
নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে
মাথা ফেটে রক্তক্ষরণে প্রাণটা যায়!
এমন পরিণতিতে লোকে দুঃখ করে।
গাড়ি, ট্রেন, প্লেন, হয়তোবা ইস্টিমার
দুর্ঘটনায় প্রাণটা চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মা'কে লেখা প্রীতিলতার শেষ চিঠি

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৯




আমায় তুমি পিছু ডেকো না'গো মা
আমার ফেরা সম্ভব  না।
দেশ মাতৃকায় উৎসর্গিতা আমি
আমি তো সেই ক্ষণজন্মা! 

আমায় তুমি আশীর্বাদ করো মা,
মোছো তোমার চোখের জল।
নিপীড়িতদের আর্তনাদ শুনছো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-২)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৮



সূরাঃ ২ বাকারা, ২১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২১। হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমোদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা মোত্তাকী হও।

সূরাঃ ২... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিনাশ গ্রহাণুপুঞ্জের অধিবাসী - সাইন্স ফিকশন

লিখেছেন আরাফাত৫২৯, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১০




১/
বিজ্ঞান একাডেমির প্রধাণ মহামতি গ্রাহাম উনার অফিসের বিশাল জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সময়টা প্রায় শেষ বিকেল। সন্ধ্যার রক্তিম আভা দূর আকাশে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো আকাশটাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×