somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের মেডিকেল সেবা

০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বর্তমানে দেশে মেডিকেল ব্যবসাটা মোটামুটি রমরমা অবস্থায় চলছে।

বাংলাদেশের আনাচে কানাচে পাড়া মহল্লায় হাটে-বাজারে, গ্রামে-গঞ্জে বাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠছে ক্লিনিক-প্যাথলজী সেন্টার।

এই বিজনেসটা বিভাগীয় শহরের চেয়ে গ্রাম আর উপজেলাশহরগুলোতে বেশি লাভজনক।
সেজন্য শহরের তুলনায় গ্রাম্য এলাকায় প্রাইভেট হাসপাতাল আর ক্লিনিকের দপদপি বেশি।

গ্রামগঞ্জের ক্লিনিকগুলোতে মেডিকেলে ফেল হওয়া ছাত্ররা নামের সাথে বাহারি টাইটেল লাগিয়ে ডাক্তার সেজে বসে থাকে (আমার নিজ চোখে দেখা)...

পল্লী ডাক্তারী কোর্স করে সাইনবোর্ডে উচ্চমানের কোনো ডিগ্রি এঁটে দেয়।
রোগী এলে প্রচলিত কিছু ডাক্তারী প্রশ্ন করেই কয়েকটি প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় টেস্ট দেয়া হয় তাদের। যদিও রোগীরা আদৌ জানেনা এই টেস্টগুলো তাদের অসুস্থতা দুরীকরণে কতটুকু ফলপ্রসু হবে।
মরণাপন্ন রোগীরা এদের কাছে এসে বাঁচার শেষ আশাটুকুও হারিয়ে ফেলে।

তাদের বিজনেস কৌশলগুলো সহজ সরল রোগীদের বোঝার কায়দা নেই।
প্রদত্ত টেস্টগুলোর নিরীক্ষনে ডাক্তারও কিন্ত তারাই সেট করে দেয়।
ওখানে ৫০% থেকে ৬০% পর্যন্ত টেষ্টের বিলের কমিশন তাদের প্রাপ্য থাকে।
টেস্ট রিপোর্ট আসার পর ওষুধপত্র কেনার জন্য নির্দিষ্ট ফার্মেসীর ঠিকানা দেন ডাক্তার মশাই।

বাংলাদেশে এই একটি মাত্র পন্য আছে যেটির দাম হাঁকানোর সুযোগ নেই।
ইচ্ছেমতো ওষুধ কোম্পানীগুলো দাম সেট করে রেখেছে। ফার্মেসীওয়ালারা রোগীর অবস্থা দেখে সেটাকে আরও দ্বিগুন করে দেন।
দেশের নামীদামি ওষুধ কোম্পানীগুলো প্রতিনিয়ত মেডিসিনের দাম বাড়াচ্ছে অযৌক্তিক হারে।
সরকার এখানে নির্বিকার… কারন এসব বড় কোম্পানিগুলো রাজনৈতিক দলের ডোনার।
প্রতি বছর বাজেটে স্বাস্থ্যসেবার জন্য যে বরাদ্দ সরকার রাখে, তার অর্ধেকও জনগণের কল্যানে ব্যায় হয় না।
বিশ্বের নামকরা দুঃনীর্তিগ্রস্থ দেশ বলেই হয়তো সচরাচর এসব কর্মকান্ড চলতে দেখেও স্বাস্থ্য মন্ত্রালয় এ বাপ্যারে নিশ্চুপ।

ডাক্তারদের এই পরীক্ষা নিরীক্ষা বা টেষ্ট ব্যবসা এখন সয়াবিন তৈল বা ডাল চিনি সিন্ডিকেডের মতই নাগরিক জীবনে একটি নতুন সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে।

একজন দরিদ্র রোগীর ক্ষেত্রে অতগুলো অপ্রয়োজনীয় টেস্ট লিখে দিতে ডাক্তার নামক অর্থলোভী অমানুষগুলোর একটুও হাত কাঁপেনা। কতটুকু বিশ্বাস নিয়ে একজন রোগী আসে ডাক্তারদের কাছে।
মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে সুস্থ হওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের নিঃস্ব করে দেয়া হয় নীরবে !!

সেবা এখন ব্যবসা হয়ে গেছে। সাবান তেলের পাশাপাশি ক্লিনিক গুলোর ও বিজ্ঞাপন পত্রিকা-টিভি চ্যানেলে প্রচার হয়।
ঝকঝকে তকতকে মার্বেল পাথরে সজ্জিত এসব ক্লিনিকে গেলে রোগী সুস্থ হোক বা নাহোক তার পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে অসুস্থ্ করে দেওয়া হয়।

ডাক্তারদের চেম্বারে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ভিজিট নেবার পরও রোগীদের প্রয়োজনমতো সময়ও দেয়া হয়না।
রোগীরা প্রথমবার কোনো ডাক্তারের সাথে সাক্ষাত করতে এলে ঠিকভাবে কথাও বলতে পারেনা। ডাক্তার কি বললো না বললো সেটা না বুঝলেও ডাক্তারের দেয়া আশ্বাসে রোগীরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে।
ভুক্তভোগীতো ডাক্তার না, রোগীরাই !!

ডাক্তারদের উচিত রোগীদের সমস্যাগুলো তাদের মতো করে খুব আন্তরিকতার সহিত শোনা। তাদের কথা বলার সুযোগ দেয়া।
কতজন ডাক্তার এই কাজটি করেন !

তবে সব ডাক্তারই টাকার পেছনে ছুটছে সেটা বলছিনা।
দেশে ভালো মনের ডাক্তারও রয়েছেন।
যাঁরা নিজেদের পেশাকে সাস্থ্যসেবা হিসেবেই রাখতে চান।
আমি কয়েকজন ডাক্তারকে দেখেছি যাঁরা দুস্থদের বিনা মূল্যে স্বাস্থসেবা দিয়ে থাকেন।
ফ্রি স্যাম্পল পাওয়া ঔষুধ গরীব রোগীদের মাঝে বন্টন করে দেন।
টাকা নয়, তাঁরা মানব সেবার মহান ব্রত নিয়ে কাজ করেন। যাঁরা রোগীকে সুস্থ করে তোলার জন্য তাঁদের সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে থাকেন।

আশা করছি ডাক্তারগণ তাঁদের মহৎ হৃদয় নিয়ে বিষয়টি একটু ভেবে দেখবেন
এবং ক্লিনিক প্যাথলজীর টেস্ট দালালদের দালালী করতে গিয়ে অসহায় রোগীদের অপ্রয়োজনীয় টেস্ট না দিয়ে বরং সাধ্যানুযায়ী তাদের সাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য সদয় হবেন...
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১২:০০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×