somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গতানুগতিক জিবনধারা

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অতি নিরূপায় হলেও কিছু বিষয়ে ঘনিষ্টজনদের কাছে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করতে নেই।
ভবিষ্যত জিবনে এর নেতিবাচক প্রভাব আসবেই।

কেউ কেউ অতি খুশিতে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করে ফেলে।
অতি দুঃখ, অতি আনন্দে মানুষের হিতাহিত জ্ঞান থাকেনা। তখনকার সিদ্ধান্তগুলো বিনাবিবেচনায় নিয়ে থাকে মানুষ।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পেয়ে কিংবা বি সি এস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অতি আনন্দে উত্তেজিত হয়ে যদি কেউ বলেই দেয় প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় তার এই সুযোগটা হয়েছিলো।
তখন তার মেধার প্রতি মানুষের বিরূপ ধারণার জন্ম নেবে।
সবাই তার প্রতি আড়চোখে তাকাবে... পাছে সমালোচনা করবে।
আর এই বদনামটা সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে তাকে।

দুর্বলতা প্রকাশের ক্ষেত্রে আর্থিক সমস্যাটাই সবচেয়ে বেশি উল্লেখযোগ্য।
অতি অভাবে পড়লে মানুষের আসল পরিচয়টা প্রকাশ পেয়ে যায়।

একটা প্রচলিত প্রবাদ আছে,
অভাব যখন দুয়ারে এসে দাঁড়ায়, ভালোবাসা জানালা দিয়ে পালায়।
ভালোবাসার পাশাপাশি আত্মসম্মানবোধও পালায় !
উদার মানসিকতার মানুষরাও কঠোর হয়ে যায়।

অভাবে টাকা ছাড়া সবাই অপরিচিত। সার্ভাইব করার জন্য অল্পকিছু টাকা দরকার...
অধম কারো কাছে হাত পাততেও লজ্জাবোধ করেনা।

বিত্তবানদের আর্থিক সমস্যা বেশি।
তারা অভাবে পড়লে হুট করেই যে কারো কাছে বিনালজ্জায় টাকা চাইতে পারে। কারন শোধ করার ক্ষমতা আছে। সমশ্রেনীর মানুষদের কাছে পাওয়া না গেলে চলে যায় নিন্মশ্রেনীতে।

আয়ের সাথে সাথে মানুষের চাহিদার পরিমান বাড়তে থাকে... জীবনমান বাড়ে।
খরচের কোনো হিসাব থাকেনা।
একসময় হঠাৎ আয় থেমে যায়... কিন্ত চাহিদা থামানো যায়না।
বিপত্তিটা তখনই ঘটে... মানসম্মানের তোয়াক্কা না করে নত হয় অন্যের দরবারে।
আজ একজনের কাছে কাল অন্যজনের কাছে। ধার না পাওয়া গেলে সাহায্যের জন্য হাত পাতে।
পরনির্ভরশীলতার চেয়ে বড় লজ্জার কিছু আছে কী?

একটা মজার ঘটনা শেয়ার করিঃ
বন্ধুর বড় ভাইয়ের বিয়ের দাওয়াত পেলাম সকাল বেলায়। দুপুরেই যেতে হবে বরের গাড়িতে বসে।
যেনোতেনো দাওয়াত নয়... স্পেশাল গেস্টের দাওয়াত।
সে নাকি তার বড়ভাইয়ের কাছে আমার অনেক প্রশংসা করে।
সেই অনুযায়ী নিজের অবস্থান তো ধরে রাখতে হবে নাকি !
ভাবছি কি গিফট দেয়া যায়...
এদিকে আমার পকেটেরও ওজন কম সেদিন।

কারও কাছ থেকে ধার নেয়া ছাড়া উপায় নেই। ঘনিষ্ট একজন বিত্তবান বন্ধুকে ফোন দিলাম।
বন্ধুমহলের মধ্যে সবচেয়ে সেই একটু বেশি খরচপ্রিয়। হোটেলে গেলে সবার আগে জোরাজুরি করে সেই-ই বিল পে করে দেয়। তার এই বিশেষ মহৎ (!) গুনের কারনে অন্য বন্ধুরা তার নাম দিয়েছে বিল গেটস।
বিল গেটস সবসময় দামী পোষাক পরে চলাফেরা করে। কিছুদিন পরপর মোবাইল ফোন বদলায়।
মোটামুটি এক্সিকিউটিভ লাইফ স্টাইল...

তার কাছ থেকে ধার নিয়েই আমাকে বিয়ের গিফট কিনতে হবে। এছাড়া এই মুহুর্তে অন্য উপায় নেই।
সিদ্ধান্ত নিলাম যেই গিফটই দেইনা কেনো, কমপক্ষে দশ হাজার টাকা সমমুল্যের হতে হবে।

প্রথম বারের ফোন সে রিসিভ করেনি।
দ্বিতীয় কলও না... আমার টেনশন শুরু হয়ে গেলো। তাকে পাওয়া না গেলে তো বিরাট মুসিবত !!
তৃতীয় কলের শেষ রিংটোনের সময় রিসিভ করেছে। যাক আলহামদুলিল্লাহ্‌।

ফোন পেয়ে ঠিকানামতো দ্রুত এসে হাজির হলেন জনাব বিল গেটস।
বললাম ফোন ধরতে এতো দেরী হলো কেনো গাধা। বেশি জরুরী না হলে আমি কাউকে কল দেইনা।
উত্তরে বিল গেটস জানালো তার মোবাইলে ব্যালান্স নেই।
সেজন্য কলব্যাক করতে পারেনি। তাছাড়া সেও নাকি আমাকে ফোন দিতে চেয়েছিলো।
জিজ্ঞেস করলাম কেনো?

-আসলে আমার কিছু টাকা দরকার। দুদিন যাবত হাত একদমই খালি। কয়েকজনের কাছে চেয়েছি... পাইনি-
জানালো মিস্টার বিল গেটস। :(

মনে মনে গালি দিচ্ছিলাম। শালা বিল গেটসগিরী কইরা বেড়াস। তোরে তো থাপড়ানো দরকার।
তোর কারনে আমার স্পেশাল গেস্টের দাওয়াতটা মিস গেলো।

বিল গেটস সাহেব কাজুমাজু করে বললো,
দোস্ত দুই হাজার টাকা হলে আপাতত আমার চলে। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই ফেরত দেবো।
প্লিজ... খুব টানা হেঁচড়ার মধ্যে যাচ্ছে এই কয়দিন।

প্রচলিত সহজ একটা উত্তর দিয়ে দিলাম। আরেহ... গতকাল বলিস নি কেনো !
গতকাল বিকেলে বললেও তো দেয়া যেতো !!
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১:৪০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×