somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গ্রাজুয়েট বেকারদের সংখ্যা বৃদ্ধির ন্যেপথ্যের কারণ বিশ্লেষণ

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বেকার সমস্যা ও বাংলাদেশ: বর্তমান বাংলাদেশে বেকার সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, কমনওয়েলথসহ একাধিক সংস্থার সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী গত এক দশকে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার বেড়েছে ১.৬ শতাংশ, যেখানে কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধির হার ২ শতাংশ। আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থার (আইএলও) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ বেকার। এই বিশাল বেকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষিত বেকারের হারই বেশি। পরিসংখ্যান ব্যুরোর সূত্র মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি।
বেকারত্বের কারণ: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশে বেকার সমস্যা সৃষ্টির পেছনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নানাবিধ কারণ রয়েছে। যেহেটু কথা হচ্ছে বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারদের নিয়ে তাই গ্রাজুয়েট বেকারদের সংখ্যা বৃদ্ধির ন্যেপথ্যের কারণ বিশ্লেষণ করা যাক ।

ক্রটিপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা : ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষের শিক্ষা ব্যবস্থা আজও পরিবর্তিত হয় নি। তারা মূলত কেরানি তৈরির শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিল। সেই শিক্ষা ব্যবস্থা এখনও প্রচলিত আছে। শিক্ষিত লোক বাড়ছে অথচ কর্মমুখী শিক্ষিত লোক বাড়ছে না। ফলে শিক্ষিত বেকার সৃষ্টি হচ্ছে। এটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে বেকার সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ।

কারিগরি জ্ঞানের অভাব : বাংলাদেশে বিদেশি প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়ন প্রক্রিয়ায় দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও কারিগরি জ্ঞানের অভাবে সে অনুপাতে দক্ষ শ্রমিক যোগান দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে, অদক্ষ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে থাকে। বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার হার বৃদ্ধি পেলেও সেই উচ্চশিক্ষার সনদ ধারী শিক্ষার্থিদের মাঝে রয়েছে যথেষ্ট কারিগরি শিক্ষার অভাব । শিক্ষা জিবনে তারা যা শিখে বা পড়ে আসে তার অধিকাংশই কাজে লাগে না তার কর্মক্ষেত্রে ।

উপরোক্ত কারণ ছাড়াও আরও নানা কারণ রয়েছে যার কারণে দেশে গ্রাজুয়েট বেকারদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

কর্মমুখি শিক্ষার কথা নামে থাকলেও আসলে তার বাস্তব রুপ বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে তেমন একটা পরিলক্ষিত নয় ।বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রি বা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠনাগুলোতে নিয়মিত চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে । কোম্পানি যে ধরনের কর্মি খুজছে তার জন্যে হাজার হাজার এপ্লিকেশন জমা পড়লেও তারা যোগ্য প্রার্থিকে খুজে পাচ্ছে না । কারণ আবেদনকারী সকলের হয়ত আবেদন করার জন্যে উচ্চশিক্ষার সনদটাই রয়েছে শুধু তা ছাড়া তাদের তেমন দক্ষতা বা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠনগুলোতে কি কাজ করতে হয় বা কিভাবে করতে হয় তার কোন অভিজ্ঞতা বা জ্ঞান নেই । বাংলাদেশের পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গুলো থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থি পাশ করে বের হচ্ছে কিন্তু গ্রাজুয়েশন শেষে মিলছে না চাকুরি । আর চাকরি পেলেও দেখা যায় সে যে সাব্জেক্টে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করছে চাকরির সাথে সেই সাব্জেক্ট এর কোন সম্পর্কই নেই । CSE তে পড়া ইঞ্জিনিয়াররা করছে মার্কেটিং এর জব আর BBA কমপ্লিট করে করছে গার্মেন্টস এর জব ।

আর বাংলাদেশের এই বেকার সমস্যার অন্যতম মুখ্য কারণ হিসাবে আমি উচ্চ শিক্ষার শিক্ষা প্রদান পদ্ধতিকে দায়ী করব । একজন মানুষের গ্রাজুয়েশন শেষ হয়ে গেল অথচ তার ওয়ার্কিং ফিল্ড সম্পর্কে কোন ধারনা নেই বা সে যদি নাই জানে চাকরিতে গিয়ে তাকে কিভাবে কাজ করতে হবে তাহলে উচ্চশিক্ষার সনদ ধারি সেই শিক্ষার্থির বেকার থাকাটাই স্বাভাবিক ।

বাংলাদেশে মোট বিশ্ববিদ্যালয় এর সংখ্যা ১৪৩ যার মধ্যে ৪০ টি পবলিক আর ১০৩ টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে । আর এই প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রদান পদ্ধতি প্রায় কাছাকাছি । বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজন মত ইন্ডাস্ট্রি ওরিয়েন্টেড লেখা পড়া হয় বলে আমার জানা নেই । যা হয় তার আসলে বাস্তব ওয়ার্ক ফিল্ডের সাথে তেমন কোন মিল নেই । তবে সম্প্রতি CUST নামে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচারণা চোখে পড়ল দেখলাম তারা এই বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে । একটা বিষয় আমার ভালো লেগেছে তা হল তাদের স্লোগান “Industry Driven University” যা বাস্তবে রুপ দিতে পারলে গ্রাজুয়েট বেকারদের সংখ্যা অনেক কমবে । সম্ভবত এটিই বাংলাদেশের প্রথন কারগরি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ।তাদের প্রপেক্টাস এ দেখলাম CSE আর BBA প্রোগ্রামের কোর্স আউটলাইনে ইন্ডাস্ট্রি ওরিয়েন্টেড সিলেবাস । যা বাস্তবে হবে কি না জানি না, তবে কথার সাথে কাজের মিল থাকলে বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ হবে । আসলে সরকারের পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা প্রদান পদ্ধতি সিরিয়াসলি আমলে নেয়া উচিৎ । বাংলাদেশে নিয়মিত হাড়ে বেড়ে চলেছে প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা যা অধিকাংশই বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে খুলে বসেছে এই সকল প্রতিষ্ঠান । চকচকা ঝকঝকা ক্যাম্পাস দেখে অনেকেই গর্বের সাথে ভর্তি হয় প্রাইভেট ইউনিভার্সিতিতে কিন্তু গ্রাজুয়েশন শেষে অধিকাংশের ভাগ্যে মেলে না উপযুক্ত চাকরি । ক্যাম্পাসের Yo Yo লাইফের মধ্যদিয়ে সে যেই স্বপ্ন দেখেছিলো বাস্তবে শিক্ষা জীবন শেষে তার সামনে একরাশ হতাশা ছাড়া আর কিছুই থাকে না । অনেক ওয়েল ড্রেসড হয়ে থাকা CSE তে সেই ছেলে বা মেয়েটিকেই যৎসামান্য সেলারির বিনিময়ে করতে হয় মার্কেটিং এর জব । এমন হাজার উদাহরন দেয়া যায় যে, চাকরি করছে যেই সেক্টরে তার সাথে সে যে সাব্জেক্টে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছে তার কোন সম্পর্কই নেই । আর অধিকাংশ ভালো চাকরির একটি প্রাইমারি ডিমান্ড হচ্ছে অভিজ্ঞতা ।

চাকরিতে সবাই যদি অভিজ্ঞতা চায় তাহলে ফ্রেশারদের অভিজ্ঞতা হবে কিভাবে ? তারা কোথা থেকে জব ফিল্ডের অভিজ্ঞতা পাবে? একজন শিক্ষার্থি তার শিক্ষা জিবনে যে জ্ঞান বা দক্ষতা অর্জন করে বাসবে তা কিভাবে প্রয়োগ করতে হবে তা শিখিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আসলে কার ?? দায়িত্ব নিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে । বাবা মায়ের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে আমরা যে শিক্ষা অর্জন করছি তা আমাকে কতটুকু উপার্জনক্ষম করে তুলছে ? উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আমরা আসলেই কি দেশের উৎপাদনে অংশগ্রহন করতে পারব তা ভাবতে হবে ! ট্রেন্ড এর স্রোতে গা ভাসিয়ে লাখ লাখ টাকা অপচয় করে আমি যে শিক্ষা অর্জন করছি তা কি আমাকে শুধুই একটা সার্টিফিকেট দিবে নাকি আমাকে আমার ভবিষ্যৎ জিবনের জন্যে প্রস্তুত করে তুলবে ?
বেকার সমস্যা ও বাংলাদেশ: বর্তমান বাংলাদেশে বেকার সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, কমনওয়েলথসহ একাধিক সংস্থার সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী গত এক দশকে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার বেড়েছে ১.৬ শতাংশ, যেখানে কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধির হার ২ শতাংশ। আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থার (আইএলও) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ বেকার। এই বিশাল বেকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষিত বেকারের হারই বেশি। পরিসংখ্যান ব্যুরোর সূত্র মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি।
বেকারত্বের কারণ: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশে বেকার সমস্যা সৃষ্টির পেছনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নানাবিধ কারণ রয়েছে। যেহেটু কথা হচ্ছে বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারদের নিয়ে তাই গ্রাজুয়েট বেকারদের সংখ্যা বৃদ্ধির ন্যেপথ্যের কারণ বিশ্লেষণ করা যাক ।

ক্রটিপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা : ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষের শিক্ষা ব্যবস্থা আজও পরিবর্তিত হয় নি। তারা মূলত কেরানি তৈরির শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিল। সেই শিক্ষা ব্যবস্থা এখনও প্রচলিত আছে। শিক্ষিত লোক বাড়ছে অথচ কর্মমুখী শিক্ষিত লোক বাড়ছে না। ফলে শিক্ষিত বেকার সৃষ্টি হচ্ছে। এটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে বেকার সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ।

কারিগরি জ্ঞানের অভাব : বাংলাদেশে বিদেশি প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়ন প্রক্রিয়ায় দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও কারিগরি জ্ঞানের অভাবে সে অনুপাতে দক্ষ শ্রমিক যোগান দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে, অদক্ষ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে থাকে। বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার হার বৃদ্ধি পেলেও সেই উচ্চশিক্ষার সনদ ধারী শিক্ষার্থিদের মাঝে রয়েছে যথেষ্ট কারিগরি শিক্ষার অভাব । শিক্ষা জিবনে তারা যা শিখে বা পড়ে আসে তার অধিকাংশই কাজে লাগে না তার কর্মক্ষেত্রে ।

উপরোক্ত কারণ ছাড়াও আরও নানা কারণ রয়েছে যার কারণে দেশে গ্রাজুয়েট বেকারদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

কর্মমুখি শিক্ষার কথা নামে থাকলেও আসলে তার বাস্তব রুপ বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে তেমন একটা পরিলক্ষিত নয় ।বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রি বা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠনাগুলোতে নিয়মিত চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে । কোম্পানি যে ধরনের কর্মি খুজছে তার জন্যে হাজার হাজার এপ্লিকেশন জমা পড়লেও তারা যোগ্য প্রার্থিকে খুজে পাচ্ছে না । কারণ আবেদনকারী সকলের হয়ত আবেদন করার জন্যে উচ্চশিক্ষার সনদটাই রয়েছে শুধু তা ছাড়া তাদের তেমন দক্ষতা বা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠনগুলোতে কি কাজ করতে হয় বা কিভাবে করতে হয় তার কোন অভিজ্ঞতা বা জ্ঞান নেই । বাংলাদেশের পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গুলো থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থি পাশ করে বের হচ্ছে কিন্তু গ্রাজুয়েশন শেষে মিলছে না চাকুরি । আর চাকরি পেলেও দেখা যায় সে যে সাব্জেক্টে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করছে চাকরির সাথে সেই সাব্জেক্ট এর কোন সম্পর্কই নেই । CSE তে পড়া ইঞ্জিনিয়াররা করছে মার্কেটিং এর জব আর BBA কমপ্লিট করে করছে গার্মেন্টস এর জব ।

আর বাংলাদেশের এই বেকার সমস্যার অন্যতম মুখ্য কারণ হিসাবে আমি উচ্চ শিক্ষার শিক্ষা প্রদান পদ্ধতিকে দায়ী করব । একজন মানুষের গ্রাজুয়েশন শেষ হয়ে গেল অথচ তার ওয়ার্কিং ফিল্ড সম্পর্কে কোন ধারনা নেই বা সে যদি নাই জানে চাকরিতে গিয়ে তাকে কিভাবে কাজ করতে হবে তাহলে উচ্চশিক্ষার সনদ ধারি সেই শিক্ষার্থির বেকার থাকাটাই স্বাভাবিক ।

বাংলাদেশে মোট বিশ্ববিদ্যালয় এর সংখ্যা ১৪৩ যার মধ্যে ৪০ টি পবলিক আর ১০৩ টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে । আর এই প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রদান পদ্ধতি প্রায় কাছাকাছি । বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজন মত ইন্ডাস্ট্রি ওরিয়েন্টেড লেখা পড়া হয় বলে আমার জানা নেই । যা হয় তার আসলে বাস্তব ওয়ার্ক ফিল্ডের সাথে তেমন কোন মিল নেই । তবে সম্প্রতি CUST নামে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচারণা চোখে পড়ল দেখলাম তারা এই বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে । একটা বিষয় আমার ভালো লেগেছে তা হল তাদের স্লোগান “Industry Driven University” যা বাস্তবে রুপ দিতে পারলে গ্রাজুয়েট বেকারদের সংখ্যা অনেক কমবে । সম্ভবত এটিই বাংলাদেশের প্রথন কারগরি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ।তাদের প্রপেক্টাস এ দেখলাম CSE আর BBA প্রোগ্রামের কোর্স আউটলাইনে ইন্ডাস্ট্রি ওরিয়েন্টেড সিলেবাস । যা বাস্তবে হবে কি না জানি না, তবে কথার সাথে কাজের মিল থাকলে বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ হবে । আসলে সরকারের পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা প্রদান পদ্ধতি সিরিয়াসলি আমলে নেয়া উচিৎ । বাংলাদেশে নিয়মিত হাড়ে বেড়ে চলেছে প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা যা অধিকাংশই বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে খুলে বসেছে এই সকল প্রতিষ্ঠান । চকচকা ঝকঝকা ক্যাম্পাস দেখে অনেকেই গর্বের সাথে ভর্তি হয় প্রাইভেট ইউনিভার্সিতিতে কিন্তু গ্রাজুয়েশন শেষে অধিকাংশের ভাগ্যে মেলে না উপযুক্ত চাকরি । ক্যাম্পাসের Yo Yo লাইফের মধ্যদিয়ে সে যেই স্বপ্ন দেখেছিলো বাস্তবে শিক্ষা জীবন শেষে তার সামনে একরাশ হতাশা ছাড়া আর কিছুই থাকে না । অনেক ওয়েল ড্রেসড হয়ে থাকা CSE তে সেই ছেলে বা মেয়েটিকেই যৎসামান্য সেলারির বিনিময়ে করতে হয় মার্কেটিং এর জব । এমন হাজার উদাহরন দেয়া যায় যে, চাকরি করছে যেই সেক্টরে তার সাথে সে যে সাব্জেক্টে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছে তার কোন সম্পর্কই নেই । আর অধিকাংশ ভালো চাকরির একটি প্রাইমারি ডিমান্ড হচ্ছে অভিজ্ঞতা ।

চাকরিতে সবাই যদি অভিজ্ঞতা চায় তাহলে ফ্রেশারদের অভিজ্ঞতা হবে কিভাবে ? তারা কোথা থেকে জব ফিল্ডের অভিজ্ঞতা পাবে? একজন শিক্ষার্থি তার শিক্ষা জিবনে যে জ্ঞান বা দক্ষতা অর্জন করে বাসবে তা কিভাবে প্রয়োগ করতে হবে তা শিখিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আসলে কার ?? দায়িত্ব নিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে । বাবা মায়ের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে আমরা যে শিক্ষা অর্জন করছি তা আমাকে কতটুকু উপার্জনক্ষম করে তুলছে ? উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আমরা আসলেই কি দেশের উৎপাদনে অংশগ্রহন করতে পারব তা ভাবতে হবে ! ট্রেন্ড এর স্রোতে গা ভাসিয়ে লাখ লাখ টাকা অপচয় করে আমি যে শিক্ষা অর্জন করছি তা কি আমাকে শুধুই একটা সার্টিফিকেট দিবে নাকি আমাকে আমার ভবিষ্যৎ জিবনের জন্যে প্রস্তুত করে তুলবে ?
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১১:৫৫
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রধানমন্ত্রী বিদেশে, আইনও কি সঙ্গে নিয়ে গেছেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০৬


প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে গেলেই দেশ অশান্ত হয়ে ওঠে । সালাহউদ্দিন আহমেদের মতো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে কেন? প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকলেই কিছু নেতাকর্মী যেন নিজেদের দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৪৪


৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু ইতিহাসের কাঠগড়া কখনো খালি থাকে না
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নাটকীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তখন

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬

তখন
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তখন আলিফ লায়লা হতো
দেখতাম বিটিভিতে বাংলা মুভি
মিনা কাটুন, হারকিউলিস, রবিন হুড
নাটক, ইত্যাদি, বেশ আনন্দ পেতাম।
খেলাধুলা করতাম বন্ধুদের সাথে
বিবিধ রকম, সবসময় থাকতাম প্রাণবন্ত!
যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম তাদের
একটি সাদা-কালো টিভি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওকে নিয়ে চীনের আবেগ, শেখ মুজিবকে নিয়ে আমাদের বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২


ফরাসি ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তাঁকে নিয়ে কোন মিমটি দেখে সবচেয়ে বেশি হাসি পেয়েছিল। ফরাসি অনুষ্ঠান The Bridge এর ব্যাকস্টেজ ভিডিওতে তিনি বলেন, একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প - চক্ষুহীন লোকটি

লিখেছেন ফাহমিদা বারী, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩




মি পারসনস যখন হোটেল থেকে বের হলেন, ভিক্ষুকটি তখন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে।

সে ছিল একজন অন্ধ ভিক্ষুক। অন্ধদের চিরাচরিত সাদা ছড়ি ছিল তার হাতে। সেটা দিয়ে সামনের পথটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×