শৈশবে আমার কিংবা আমাদের প্রতিবেশীদের কারো ফ্রীজ ছিল বলে মনে পরেনা অথচ আমাদের সবার মাঝে সুসম্পর্কের কোন কমতি ছিলনা। সবাই সবাইকে ভাল করে জানার পাশাপশি বিপদে আপদে এগিয়ে আসা সহ নানা কাজে একে অন্যকে সহযোগীতা করার কোন সীমারেখা ছিলনা। সবাই ছিল সবার জন্য । নিকট আত্মীয় স্বজনের চেয়ে তারা যেহেতু কাছাকাছি তাই তারায় ছিল সবচেয়ে বড় স্বজন।
এখন আমি জানিনা অন্যদের কি অবস্হা তবে আমার ক্ষেত্রে অবস্হা খুব খারাপ। আমার বর্তমান আবাসস্হলের প্রতিবেশীদেরকে আমি চিনিনা, আগের বাসায় এক কলীগ প্রতিবেশী হওয়ায় কেবল তাকে চিনতাম। প্রতিবেশীদের সাথে লিফটে দেখা সাক্ষ্যাত হলেও কথা হয়না, একে অন্যের দিকে একবার তাকানো হয়- সেটা হয়ত দেখে নেয়ার জন্য , এর বেশী আর কিছু না । ভদ্রলোকের সাথে দুকবার হাই হ্যালো হলেও সেটা আর বেশী দূর আগায়নি, বয়সের পার্থক্য কিংবা দুপক্ষের অনিচ্ছাও হয়ত এতে দায়ী। আমরা দুজনই জব করাতে, বেশীর ভাগ সময় বাইরে থাকাতে ভদ্রমহিলার সাথেও আমার বউ এর কখনো কথা হয়েছে বলে শুনিনি। আসল কথা হল প্রতিবেশীদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই, বাসায় অতিথী বলি আর যারা আসেন তারা সবাই নিজের বন্ধু মহল আর আত্মীয় স্বজন।
আমার ব্যক্তিগত একটি ধারনা হল আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় ফ্রীজ প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক তৈরিতে একটা বড় বাঁধা।
ছোটবেলায় প্রতিবেশীর বাসায় কেউ মিস্টি নিয়ে এলে কিংবা ভাল মন্দ কোন রান্না হলে এটা নিশ্চিত ছিল যে তার একটা অংশ আমরাও পাব, তেমনি আমাদের বাসায় ও ভাল কিছু রান্না হলে সেটা তাদের বাসায় পাঠানো হত। কেউ মিস্টি জাতীয় কিছু নিয়ে এলে সেটা না পাঠানো ছাড়া কোন উপায়ও ছিলনা, সব মিস্টি খাওয়া যেমন সম্ভব না, তেমনি সেটা প্রিজার্ভ করার ও কোন উপায় ছিলনা । সদগতি করার জন্য প্রতিবেশীরাই ভরসা, আর এভাবে আদান প্রদানের মাধ্যমে সুন্দর একটা সম্পর্ক গড়ে উঠত পরিবারগুলোর মাঝে।
ফ্রীজ আগমনের পর আমার মনে হয় এই সমীকরন বদলানো শুরু হয়েছে। বাসায় যত মিস্টিই আসুক, যত যায় রান্না করা হউকনা কেন যা খাবার শেষে রয়ে যাবে তা সুন্দর করে পরে খবার জন্য ফ্রীজে চালান করে দেয়া হয়। খাদ্যের সুষম বন্টন প্রথা মোটামুটি উঠে গেছে এর মাধ্যমে, চালু হয়েছে সঞ্চয় প্রথা । এমনকি মানুষ কোরবানির মাংসও গরীবকে দেয়ার আগে ফ্রীজ ভর্তি করে ফেলার কাজটা করে ফেলে।
ফ্রীজ না থাকলে এই ব্যাপারগুলো ঘটতনা , প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্কও অনেক ভাল হত আমি নিশ্চিত।
[ ফ্রীজ এর উপকার নিয়ে কোন ডাউট নাই, তবে মূল ব্যাপার হল আমার প্রতিবেশী মহিলা এত ভাল রান্না করে বলার বাইরে, অন্তত তার রান্নার সুঘ্রান তাই বলে, পায়েস থেকে বিরানী- আমরা শুধু ঘ্রানটাই পাই !!!
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০১৪ সকাল ১০:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



