কাল্লু।
চেহারা একটু কালো। এই জন্য ছোট হতেই সবাই কাল্লু কাল্লু বলে ডাকতো। এভাবে নামই হয়ে গিয়েছে কাল্লু। আলাদা কোন নাম আদৌ ছিল কিনা তা তার জানা নাই। আমার সাথে পরিচয় কোন এক সফরে। "ঢাকার" নাম তার জানা আছে, তবে যাওয়া বা দেখার সৌভাগ্য তার আর হবে না, বার্ধক্য রোগ ছেয়ে বসেছে।
দুটি মেয়ে আছে তার। একটি বাবারই মেয়ে, অন্যটি ঈষত কৃষ্ণ।
এ দুজনকে মানুষ করতে করতেই জীবন কোথায় যে গেল! আসলে "মানুষ করা" এটাও একটা আপেক্ষিক কথা। কেননা মানুষ করতে হলে কি কি করতে হয়? কমপক্ষে পড়া-লেখা শেখাতে তো হয়। পড়া-লেখা তো দূর, খানা জোটাতেই তো জীবন সারা। মেয়ে দুটোও কি কম ঝক্কি দিলো? ঠিকমতো কাজ করে না, আবার এর-ওর সাথে লট-ঘট ছুটেই না। কত আর পাহারা দিয়ে রাখা যায়। বিচার শুধু আসতেই থাকে। তাদের মা একটা অপদার্থ। কি যে বুঝে, তাই বুঝে না। একটা মেয়ে তো একবার ঘটেয়েই বসলো অঘটন। তাই নিয়ে কত দরবার। কিসের কি! দলার বাপের বিরুদ্ধে কোন কথা শুনতেই রাজি না মনার পুত। তিনি হচ্ছেন মেম্বার। আচ্ছা দোষ কি খালি একলারই হয়? আমার মেয়ে নাইলে দোষ করেছে, তার পিরিতি কথায় ভুলেছে। তাই বলে কি সম্ভ্রম ইচ্ছে করে খুইয়েছে?
আমার সাথে দুঃখের কথাগুলো বলছিল আর শূন্যের দিকে চেয়েছিল।
_____________
shamsuddin3412
______________
মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে হবে। শিক্ষা ছড়াতে হবে। চেতনার মাঝে উদয় হতে হবে বোধ। তবেই সমাজ হতে দূর হবে অসামাজিকতা। সভ্য মানুষ প্রত্যক্ষ করবে প্রকৃত সভ্যতা। বিবেক উঠবে নড়ে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে প্রতিবাদী কণ্ঠ। উঠবে প্রতিবাদি, প্রয়োজনে প্রতিকারী হাত।
তথাকথিত সমাজপতিদের সমাজ হবে থরোহরিকম্প।
কাল্লু পারেনি। পারেনি নিজের মেয়ের প্রতিকার করতে। কাল্লুরা পারেনা, পারবেও না। গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো সে শিক্ষিত নয়, বোঝেনা ভাষা ব্যবহার, পারেনা করতে প্রতিবাদ। ছলছল নয়নে পারে শুধু চেয়ে থাকা। ইতিহাস স্বাক্ষী, এই কাল্লুরাই ঘটিয়েছে পতন বড় বড় রাজা-মহারাজার। তবে তার জন্য থাকতে হয় বহু কারণ। পালানোর পথ না থাকলে বেড়াল হয়ে ওঠে যেমন হিংস্র, তেমনি কাল্লুরাও হয়ে ওঠে দুর্দান্ত প্রতাপশালী, যখন দেয়ালে ঠেকে যায় পিঠ। একা এক কালু পারেনা, শত কালুর শক্তির দাপটের কাছে রাজা-মহারাজা কিছু না।
এই ভাবে শত রাজা-মহারাজার পতনের পরেও কাল্লুরা কিন্তু কাল্লুই থেকে গিয়েছে। হয়নি পরিবর্তন কাল্লুদের। রাজা-মহারাজার পরিবর্তন হয় নামেই। ইংরেজদের পরিবর্তে ভারতীয়রা আসুক বা পাকিস্তানীরা আসুক, কাল্লুর কিবা আসে যায়! তার তো দু'বেলা খানা পাওয়াই সার কথা। কিবা আওয়ামীলীগ কিবা বিএনপি। দেশপ্রেম কি তা তার কাছে অজানা। দেশের জন্য জান দিয়েছে কাল্লুরাই, কেউ কেউ বুঝে, বড় অংশই না বুঝে, কেউ অন্যকে দেখে, কারো বা দেয়ালে পিঠ ঠেকে।
অথচ এই কাল্লুরা রেগে উঠেই পতন ঘটিয়েছে সকল সম্রাজ্যের। সম্রাজ্যের পতন হয়ে লাভ হয় নি। নামে পরিবর্তন হয়েছে। সমাজপতি বদল হলে লাভ নেই। কাল্লুরা যেমন ছিল তেমনই আছে ; অশিক্ষিত, অবহেলিত, পরিচয়হীন, অর্থহীন, অসামাজিক, অসচেতন।
তাই সভ্য সমাজে প্রকৃত সভ্যতা পেতে হলে শিক্ষার ব্যাপকতা ছাড়া উপায় নেই। প্রকৃত শিক্ষাই মানুষকে সচেতন করবে, প্রতিবাদী প্রয়োজনে প্রতিকারী করবে। বিবেক জাগ্রত হবে। নিজ নিজ স্তর হতে দেশকে উন্নতির লক্ষ্যে চেষ্টা করবে। আর সরকারও চেষ্টা করবে প্রতেটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চেষ্টাগুলোর মূল্যায়ন করতে। আর এটাই সরকার বাহাদুরের পরম দায়িত্ব। তবেই আমাদের দেশ হবে প্রকৃত উন্নত একটি দেশ। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে কবুল করুন, দেশের ও দশের জন্য, সর্বপরি ইসলামের জন্য করার, তথা দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য কিছু করার সৌভাগ্য দান করুন। আমীন।
shamsuddin3412.
Mahadus Salam Academy
Ati Bazar, Keraniganj, Dhaka.
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



