
ঘি-মাখন-তেলের ড্রাম গলায় ঝুলিয়ে; ক্ষমতার পাদুকা চর্বনকারী মিডিয়া হাউজ গুলোর সম্পাদক আর রিপোর্টারে'রা এখন রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় বসতে যাওয়া দলের নেতাদের তোষামুদিতে ব্যস্ত !! পৃথিবীর সবচেয়ে নীচু মানের সংবাদ পরিবেশনা এবং সাংবাদিকতা বলতে যা বোঝায়; তা এ দেশেই সম্ভব !! মিডিয়া গুলো এখন ওই ক্ষমতাসীনেরা কে কোন্ বাড়ীতে থাকবে তা নিয়ে সংবাদ প্রচারে সোচ্চার (যেমন যমুনা টিভির খবরে ৩৭ টা বাড়ী প্রস্তুতের গল্প) !! যেন ঘরবাড়ীহীন ওই লোক গুলোকে জাতে তুলতে, ভালো বাড়ী ছাড়া গত্যন্তর নেই !! ওরাই তো জাতীর এসেট !! ব্যাংকে গচ্ছিত জনগনের হাজার কোটি টাকা মেরে খাওয়া কিছু লোক এমপি হলো; সে ব্যাপারে পা চাটা মিডিয়া গুলো নিরব !!
অন্যদিকে-শুরুতেই আজ ঢাকা শহরকে যানজটের এক ভাগাড় বানিয়ে, কোটি পাবলিককে অবর্ণনীয় কষ্ট ফেলে জাতীয় সংসদ ভবনে- শপথ নিয়ে; শপথ ভঙ্গ করতে জুটেছে-এক পাল রাজনৈতিক নেতা !! তাদের আহলাদ দেখে কে !!! আজ ওদের মনে - ৩৩ বছর পর নারদ আলীর আকাশ দেখতে যাওয়ার চেয়েও আনন্দ !!! ধন্য সুনীল'দা !! পাবলিক ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় ঠায় দাড়িয়ে !! বেচারা পুলিশ ওই সব ব্যাংক লুটেরা সহ আরও কিছু অন্য জনাদের নিরাপদ চলাচলের জন্য নানা দিকের রাস্তা বন্ধ করে ফুরর্ ফুরর্ বাাঁশি ফুকছে আর দৌড়াদৌড়িতে ঘেমে যাচ্ছে !!! সবার আগে; এরা বাঁচলেই তো বাংলাদেশ বাঁচবে। জনগন বাঁচবে কি মরবে; তা পরের কথা !!!
কোনও এক শেয়ার থেকে পড়েছি- একবার হযরত মুসা এবং হযরত খিজির আলাইহী ওয়া সাল্লাম এর একত্রে ভ্রমনের সময় তাঁরা খুবই শান্তিময় একটি গ্রাম দেখতে পান; যেখানে প্রতিটি বাড়ীর সামনেই তাদের প্রয়াত আত্মীয়-স্বজনদের সারি সারি কবর ছিলো। কেন তারা এমনটি করেন, এর জবাবে ঐ গ্রামবাসীরা জানান; পৃথিবীর মানুষ অত্যন্ত ক্ষন আয়ুর। মৃত্যূর পর কবরে-ই দীর্ঘ কাল এবং পরবর্তীতে চিরস্থায়ী জীবনের জন্য মানুষ পরকালে উত্থিত হবে। এ চিন্তা এবং ক্ষনস্থায়ী এ জীবনের প্রকৃত পরিনতিকে স্মরনে রেখেই তারা প্রত্যেকের বাড়ীর সামনে আত্মীয়-স্বজনদের কবর দেন। প্রতিনিয়ত বাড়ী থেকে বের হতে এবং প্রবেশের সময় এ কবর গুলো তাদের অর্থাৎ জীবিতদেরকে জীবনের প্রকৃত উপাখ্যান বার বার মনে করিয়ে দেয়। আর এ পর্যবেক্ষন-বোধ; আমাদের ব্যবহার, কথায়, আচরনে অভাবনীয় এক পরিবর্তন এনেছে তা হলো; এখানে মানুষের মধ্যে কোনও লোভ, হিংসা, ক্ষমতার দ্বন্দ, অবিচার, অনাচার, জুলুম ইত্যাদি নেই !! কবর দেখতে দেখতে সয়ে যাওয়া নয়; মাটির নীচে কবরে শায়িত মানুষ থেকে শিক্ষা নেয়া !!! কি এক অদ্ভুৎ ব্যাপার !!!
পাদটীকাঃ
বাংলাদেশের সংসদ ভবনের সামনে বিশাল ২ খন্ড এলাকায় প্রায় ২০০৮ সাল থেকে ৪৪৪ ধারা জারি !! ভয়াবহ নিরাপত্তা বেষ্টনী !! ক্ষমতাসীনদের কতই না মৃত্যূভয় !! কে কোন্ দিক দিয়ে ঢুকে ভূড়ি ফাসিয়ে দেয়...ওই এলাকায় কেউ ঢুকতে পারে না !!
হাজার হাজার নারী, শিশু, বৃদ্ধ, তরুণ, যুবক সংসদ ভবনের সামনে এসে ইট-পাথড়ের এ বস্তিকে দেখে যায়; অথচ এর সবুজ আঙ্গিনায় বসে একটু বিশ্রামের বিন্দু মাত্রও অধিকার কোনও সাধারন মানুষের নেই !! ওই ক্ষতাসীনেরা; ওরা বাঁচলেই বাংলাদেশ বাঁচবে !!
আচ্ছা সংসদ ভবনের সামনের বিশাল ২ খন্ড এলাকাকে সংসদ সদস্যদের জন্য কবরস্থান বানিয়ে ফেল্লে কেমন হয় ?? বহু বহু জনকে দীর্ঘকাল সেখানে কবর দেয়া যাবে !! জীবিতাবস্থায় সংসদে-ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যাদের এত এত জিগির; মৃত্যূর পরও তারা ওই ভবনের কাছাকাছি-ই রইলো !! আসা-যাওয়ার পথে জীবিত সাংসদেরা মৃত সাংসদদের কবর দেখতে পাবে !! তারপর কেউ কিছু ভাবলে ভাববে; না ভাবলেই কি -বা যায় আসে ?? তবে সাধারন; বিশেষতঃ শিশুদের জন্য ওই সবুজ দুই লন খুলে দেয়া না হলে- এখানে কবরস্থান বানানোই শ্রেয় বলে মনে করি !!!!
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


