somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কার বাড়ি কোথা হে !!

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ঘি-মাখন-তেলের ড্রাম গলায় ঝুলিয়ে; ক্ষমতার পাদুকা চর্বনকারী মিডিয়া হাউজ গুলোর সম্পাদক আর রিপোর্টারে'রা এখন রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় বসতে যাওয়া দলের নেতাদের তোষামুদিতে ব্যস্ত !! পৃথিবীর সবচেয়ে নীচু মানের সংবাদ পরিবেশনা এবং সাংবাদিকতা বলতে যা বোঝায়; তা এ দেশেই সম্ভব !! মিডিয়া গুলো এখন ওই ক্ষমতাসীনেরা কে কোন্ বাড়ীতে থাকবে তা নিয়ে সংবাদ প্রচারে সোচ্চার (যেমন যমুনা টিভির খবরে ৩৭ টা বাড়ী প্রস্তুতের গল্প) !! যেন ঘরবাড়ীহীন ওই লোক গুলোকে জাতে তুলতে, ভালো বাড়ী ছাড়া গত্যন্তর নেই !! ওরাই তো জাতীর এসেট !! ব্যাংকে গচ্ছিত জনগনের হাজার কোটি টাকা মেরে খাওয়া কিছু লোক এমপি হলো; সে ব্যাপারে পা চাটা মিডিয়া গুলো নিরব !!
অন্যদিকে-শুরুতেই আজ ঢাকা শহরকে যানজটের এক ভাগাড় বানিয়ে, কোটি পাবলিককে অবর্ণনীয় কষ্ট ফেলে জাতীয় সংসদ ভবনে- শপথ নিয়ে; শপথ ভঙ্গ করতে জুটেছে-এক পাল রাজনৈতিক নেতা !! তাদের আহলাদ দেখে কে !!! আজ ওদের মনে - ৩৩ বছর পর নারদ আলীর আকাশ দেখতে যাওয়ার চেয়েও আনন্দ !!! ধন্য সুনীল'দা !! পাবলিক ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় ঠায় দাড়িয়ে !! বেচারা পুলিশ ওই সব ব্যাংক লুটেরা সহ আরও কিছু অন্য জনাদের নিরাপদ চলাচলের জন্য নানা দিকের রাস্তা বন্ধ করে ফুরর্ ফুরর্ বাাঁশি ফুকছে আর দৌড়াদৌড়িতে ঘেমে যাচ্ছে !!! সবার আগে; এরা বাঁচলেই তো বাংলাদেশ বাঁচবে। জনগন বাঁচবে কি মরবে; তা পরের কথা !!!
কোনও এক শেয়ার থেকে পড়েছি- একবার হযরত মুসা এবং হযরত খিজির আলাইহী ওয়া সাল্লাম এর একত্রে ভ্রমনের সময় তাঁরা খুবই শান্তিময় একটি গ্রাম দেখতে পান; যেখানে প্রতিটি বাড়ীর সামনেই তাদের প্রয়াত আত্মীয়-স্বজনদের সারি সারি কবর ছিলো। কেন তারা এমনটি করেন, এর জবাবে ঐ গ্রামবাসীরা জানান; পৃথিবীর মানুষ অত্যন্ত ক্ষন আয়ুর। মৃত্যূর পর কবরে-ই দীর্ঘ কাল এবং পরবর্তীতে চিরস্থায়ী জীবনের জন্য মানুষ পরকালে উত্থিত হবে। এ চিন্তা এবং ক্ষনস্থায়ী এ জীবনের প্রকৃত পরিনতিকে স্মরনে রেখেই তারা প্রত্যেকের বাড়ীর সামনে আত্মীয়-স্বজনদের কবর দেন। প্রতিনিয়ত বাড়ী থেকে বের হতে এবং প্রবেশের সময় এ কবর গুলো তাদের অর্থাৎ জীবিতদেরকে জীবনের প্রকৃত উপাখ্যান বার বার মনে করিয়ে দেয়। আর এ পর্যবেক্ষন-বোধ; আমাদের ব্যবহার, কথায়, আচরনে অভাবনীয় এক পরিবর্তন এনেছে তা হলো; এখানে মানুষের মধ্যে কোনও লোভ, হিংসা, ক্ষমতার দ্বন্দ, অবিচার, অনাচার, জুলুম ইত্যাদি নেই !! কবর দেখতে দেখতে সয়ে যাওয়া নয়; মাটির নীচে কবরে শায়িত মানুষ থেকে শিক্ষা নেয়া !!! কি এক অদ্ভুৎ ব্যাপার !!!
পাদটীকাঃ
বাংলাদেশের সংসদ ভবনের সামনে বিশাল ২ খন্ড এলাকায় প্রায় ২০০৮ সাল থেকে ৪৪৪ ধারা জারি !! ভয়াবহ নিরাপত্তা বেষ্টনী !! ক্ষমতাসীনদের কতই না মৃত্যূভয় !! কে কোন্ দিক দিয়ে ঢুকে ভূড়ি ফাসিয়ে দেয়...ওই এলাকায় কেউ ঢুকতে পারে না !!
হাজার হাজার নারী, শিশু, বৃদ্ধ, তরুণ, যুবক সংসদ ভবনের সামনে এসে ইট-পাথড়ের এ বস্তিকে দেখে যায়; অথচ এর সবুজ আঙ্গিনায় বসে একটু বিশ্রামের বিন্দু মাত্রও অধিকার কোনও সাধারন মানুষের নেই !! ওই ক্ষতাসীনেরা; ওরা বাঁচলেই বাংলাদেশ বাঁচবে !!
আচ্ছা সংসদ ভবনের সামনের বিশাল ২ খন্ড এলাকাকে সংসদ সদস্যদের জন্য কবরস্থান বানিয়ে ফেল্লে কেমন হয় ?? বহু বহু জনকে দীর্ঘকাল সেখানে কবর দেয়া যাবে !! জীবিতাবস্থায় সংসদে-ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যাদের এত এত জিগির; মৃত্যূর পরও তারা ওই ভবনের কাছাকাছি-ই রইলো !! আসা-যাওয়ার পথে জীবিত সাংসদেরা মৃত সাংসদদের কবর দেখতে পাবে !! তারপর কেউ কিছু ভাবলে ভাববে; না ভাবলেই কি -বা যায় আসে ?? তবে সাধারন; বিশেষতঃ শিশুদের জন্য ওই সবুজ দুই লন খুলে দেয়া না হলে- এখানে কবরস্থান বানানোই শ্রেয় বলে মনে করি !!!!
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্ধের দেশে আয়না বিক্রি করতে এসেছিলেন ইউনুস স্যার!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩৪



অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ছেড়ে গেলেও নতুন বাংলাদেশ গড়ার সার্বিক দায়িত্ব আমার, আপনার, আমাদের সবার। দীর্ঘ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন কিরকুট, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

*** জামাত শিবির এর যারা আছেন তারা দয়ে করে প্রবেশ করবেন না ***


বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এখন আর কেবল একটি দলের ভাগ্যের প্রশ্ন নয় এটি রাজনৈতিক ভারসাম্য, গণতান্ত্রিক কাঠামো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীর বুকে এই দুর্যোগ যেন কোনওদিন না আসে

লিখেছেন অর্ক, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২২



পৃথিবীর বুকে এই দুর্যোগ যেন কোনওদিন না আসে। দুর্ধর্ষ মাফিয়া একটি রাষ্ট্রের মালিক হতে যাচ্ছে। দেশ সীমানা ভূখণ্ডের গণ্ডি পেরিয়ে, পৃথিবীর জন্যই অত্যন্ত বিপদজনক। অবশ্য নির্মম বাস্তবতা হলো, আগাগোড়া অসভ্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবশেষে দেশে গণতন্ত্র কায়েম হইলো

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৩

দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে এখন আমাদের আর কোন টেনশন রইলো না। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের বিজয়ী প্রার্থীদের আজ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই মূলত দেশ আবার গণতন্ত্রের ট্রেনে যাত্রা শুরু করলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঙিন ডালিম ফলের একটি ব্যতিক্রমি অঙ্গ বিশ্লেষন ( Anatomy of Pomegranate )

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১১


সবুজ পাতার আড়াল ভেঙে
ডালিম ঝুলে লাজুক রঙে
বাইরে রক্তিম খোলস কঠিন
ভিতরে দারুন জীবন রঙিন।
শত দানার গোপন ভুবন
একসাথে বাঁধা মধুর টান
হৃদয়ের হাজার স্বপ্ন যেন
লুকিয়ে থাকা রক্তিম গান।

উপরে প্রচ্ছদ চিত্রে রেনেসাঁ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×