somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইতিহাস স্ট্যালিনকে মুক্তি দেবে

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইতিহাসে যে একজন মানুষ নির্বিচার মিথ্যাচারের শিকার হয়েছেন তিনি স্ট্যালিন। সম্ভবত ইস্পাতের মতো মানুষটিকে জীবদ্দশায় টলাতে না পেরে মৃত্যুর পর সবাই উঠে পড়ে লেগেছিলো তার বিরুদ্ধে। ইন্ডিয়ানা জোনস সিরিজের কিংডম অব দ্য ক্রিস্টাল স্কাল সিনেমাটি থেকে শুরু করে ইতিহাসের বই, পোস্টার, কমিকস হেন কি হয়নি স্ট্যালিনকে ভিলেন বানাতে! বেশ কয়েকটা পশ্চিমা ইতিহাসের বইয়ে দেখেছি রুশ বা চীন বিপ্লবকে স্বাভাবিকভাবে বর্ণনা করলেও স্ট্যালিনকে উপস্থাপন করা হয়েছে নেতিবাচকভাবে। দুনিয়া জুড়ে স্ট্যালিন বিরোধী প্রচারনা সম্ভবত হালে বেশি পানি পেয়েছিল নিকিতা ক্রুশ্চেভের স্ট্যালিন বিরোধী অবস্থান এবং অভিযোগের ভিত্তিতে। ১৯৫৬ সালে ক্রুশ্চেভ স্ট্যালিনের বিরুদ্ধে নানা অপরাধের অভিযোগ করে একটি ভাষন দিয়েছিলেন। অনেক বছর পর স্ট্যালিনের বিরুদ্ধে ক্রুশ্চেভের করা সেসব অভিযোগ যাচাই করতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এর গোপন আর্কাইভে অনুসন্ধান শুরু করেন মার্কিন অধ্যাপক এবং গবেষক Grover Furr গ্রোভার ফার। গবেষনা আর অনুসন্ধানের পর গ্রোভার নিশ্চিত করেছেন ক্রুশ্চেভ ১৯৫৬ সালের ভাষনে স্ট্যালিনের বিরুদ্ধে যতগুলো অভিযোগ (৬১ টি অভিযোগ) করেছিলেন তার প্রত্যেকটি সর্বৈব মিথ্যা।এ গবেষনার ফলাফল নিয়ে গ্রোভার ফারের বই ‘Khrushchev Lied’ প্রকাশিত হয় ২০১১ সালে।বইটা গতকাল হাতে পেলাম। ৪০০ পাতার বইটিতে ক্রুশ্চেভের প্রত্যেকটি অভিযোগকে দালিলিক প্রমানের মাধ্যমে মিথ্যা প্রমান করেছেন গবেষক গ্রোভার ফার।
বইটির ১২৪ নং পৃষ্ঠায় ‘স্ট্যালিন তার নিজের মূর্তি স্থাপনের আদেশে সাইন করেছিলেন’- ক্রুশ্চেভের এমন একটি অভিযোগকে খন্ডন করেছেন গ্রোভার।ভাষনে ক্রুশ্চেভ বলেছিলেন, “It is a fact that Stalin himself had signed on July 2, 1951 a resolution of USSR Council of Ministers concerning the erection on the Volga-Don Canal of an impressive monument of Stalin; on september 4 of the same year he issued an order making 33 tons of copper available for the construction of this impressive monument.’’ এ অভিযোগটির প্রেক্ষিতে গ্রোভার জানাচ্ছেন- প্রথমত, স্ট্যালিনের স্বাক্ষর করা এমন কোন নির্দেশনা ক্রুশ্চেভ উপস্থাপন করনেনি। স্ট্যালিনের ক্রেমলিন অফিসের ভিজিটর জার্নালে দেখা যায়, ১৯৫১ সালের ২ সেপ্টেম্বর স্ট্যালিন অফিস করেছিলেন ১ ঘন্টা ৪৫ মিনিট। এসময় ক্রুশ্চেভ সহ প্রেসিডিয়াম স্ট্যালিনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।এখন স্ট্যালিন আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন এমন কোন দলিল নেই। আর সে সময় স্ট্যালিনের স্বাক্ষর যুক্ত দলিল থাকলেও সন্দেহমুক্ত হওয়া যায় না। কারন ১৯৫১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পলিটব্যুরো সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, প্রয়োজন হলে স্ট্যালিনের অনুপস্থিতিতে তার স্বাক্ষরের রাবার স্ট্যাম্প ব্যবহার করে প্রেসিডিয়াম কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।পুরো বিষয়টি আরো পরিষ্কার হয় একই বছর ৪ সেপ্টেম্বর ৩৩ টন কপারের ব্যবস্থা করা নিয়ে স্ট্যালিনের আদেশ প্রসংগে।ভিজিটর বুক থেকে জানা যায়, ১৯৫১ সালের ১০ অগাস্ট থেকে ১৯৫২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্ট্যালিন ছুটিতে ছিলেন। ভিজিটর বুক নিশ্চিত করে ১৯৫০ সাল থেকে স্ট্যালিন অফিসের কাজ কমিয়ে দিয়েছিলেন। ১৯৫০ সালে তিনি অফিস করেন ৭৩ দিন, ১৯৫১ সালে ৪৮ দিন এবং ১৯৫২ সালে ৪৫ দিন।এ সময় সব কাগজও স্ট্যালিন পড়তেন না।
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প: আমি ডাক্তার হবো

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫

দ্রুত মাছ ধরার জালগুলো গুছিয়ে নেয় মহিউদ্দিন। ইতোমধ্যে অন্যান্য যন্ত্রগুলোও গুছিয়ে রেখেছে একপাশে। “জমির, ও জমির” বলে উঁচুস্বরে ডাকে কিছুক্ষণ পর পর। চারিদিকে মানুষের ছুটোছুটি। সবাই ব্যস্ত। কেউ বড় বড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিজ্ঞতা নাকি বাস্তব জ্ঞান!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

বাস্তব অভিজ্ঞতা মানুষের জ্ঞানের পরিধি। আমার কাছে একজন গ্রামের লোক আসেন মাঝে মাঝে, শিক্ষিত নন, তিনি বহু বছর প্রবাসী ছিলেন এমন কি সেখানে জেলেও ছিলেন, তিনি এলে আমরা অনেক কথাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×