somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রত্যেকটি মানুষই আসলে এক একটি মহাবিশ্ব ধারণ করে

২২ শে জুন, ২০০৬ দুপুর ২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার এই উপলব্ধিটির বয়স প্রায় বিশ বৎসর হতে চলল। অনেক ছোট বেলায়, তখন বয়স বোধহয় পাঁচ
কি ছয় বছর। একা বাসার ছাদে দাঁড়িয়ে আছি এবং অদম্য কৌতুহল নিয়ে রাতের কালো আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি। এসময় অনেকটা হঠাৎ করেই মনে হল যে আমার উপলব্ধি জগতে একটি নতুন বিষয় ধরা পড়তে শুরু করেছে। আমি বিষ্ময়ে অভিভূত হয়ে এবং নতুন কোন কিছু উপলব্ধি করার আনন্দ নিয়ে বুঝতে শুরু করলাম যে মানুষ, মহাকাশ, জীবন, মস্তিষ্ক এই বিশেষ চারটি বিষয় সবচেয়ে কৌতুহল উদ্দীপক (কোন কিছুর সবচেয়ে..টাকে ধারণ করার প্রবণতা সম্ভবত আমার মধ্যে ইনহেরেন্ট)। আমি অনেক ভাবনা চিন্তা করেও এর কোনটিকেই মাথা থেকে সরাতে পারছিলাম না। এবং এক সময় বুঝতে পারলাম আমি এই উপলব্ধির সাথে অভ্যস্ত হতে শুরু করেছি এবং একটি অবর্ণনীয় আনন্দের সাথেও পরিচিত হতে শুরু করেছি। যারা এ ধরণের উপলব্ধির মধ্য দিয়ে গেছেন তারা হয়ত এর আনন্দটুকুকে এখনো মনে করতে পারবেন। এছাড়া আরও আগে যখন থেকে আমার স্মৃতি গঠিত হতে শুরু করেছে বলে এখন মনে করতে পারি সে সময় থেকেই আমি আমার মস্তিষ্কের কার্যকরণকে চিহ্নিত করতে পারি। দেখলাম যে, কেন কিছু করছি বা কিভাবে মস্তিষ্ক কাজ করছে এই বিষয়টিকে সহজেই অনেকখানি বুঝতে পারি অনেকখানি পারি না। যেখানে আমার সমবয়সীরা এ বিষয় নিয়ে মাথাই ঘামাচ্ছে না সেখানে আমার মূল আগ্রহের জায়গা হয়ে উঠছে এই উপলব্ধি বিশ্লেষণ। আমি এটা অধিকাংশের সাথে শেয়ারও করতে পারছি না বা শেয়ারের লোক পাচ্ছি না। অনেকটা বেকনের তৃতীয় ব্যাক্তির মত, ঘটমানতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজের ক্রিয়াশীল বাস্তব এবং সেটাকে নিয়ে চিন্তাশীল আরেকজন আমিকে পর্যবেণরত তৃতীয় আমি। নিজেকে আমার সবসময়ই অন্যদের চাইতে নির্বোধ বলেই মনে হয়েছে। আমার যে বিষয়ে আগ্রহ সেটাতে অন্যদের আগ্রহ নেই বললেই চলে। অথবা আমি যেই নির্বোধ প্রক্রিয়ায় কোন জানা বিষয়কেও একটি নতুন ফর্মেশন দিতে পারি সেটি অধিকাংশের সাথেই দেখি মেলে না।

একেবারে ছোটবেলা থেকেই পাঠ করার অভ্যাসের কারণে এবং প্রবণতাগতভাবেই ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিকে বুঝতে পারার(আসলে বোধহয় নির্বোধ হওয়ায় কিছুই বুঝতে না পারার কারণে) মানুষ আমার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তবে নিখাদ যোগাযোগের প্রয়োজনে আমাকে বারবার অন্যের উপযোগী মিমিক করতে হয়েছে বলে আমার আপে হয়। তো এই অনুসন্ধানের (বা নিজের আগ্রহ মেটাবার) তাগিদেই আমি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে ছুটে গেছি এবং উপলব্ধি করেছি যে প্রতিটি মানুষ সব ধরণের শ্রেণী করণের উর্দ্ধেই এক একটি মহাবিশ্ব ধারণ করে।

যেমন ব্লগকে যদি একগুচ্ছো মানব সমষ্টি ধরে নেয়া হয় তাহলে এখানে বৈচিত্রের যে সৃষ্টিশীলতা পাওয়া যাবে তা অতুলনীয়। সামষ্টিক যোগাযোগের প্রয়োজনে অথবা আত্ম প্রকাশের তাগিদে এবং একইসাথে আত্ম উপলব্ধির জন্য আমরা কি না করছি। একে অপরের সাথে যোগাযোগ করা তাই আমার কাছে মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা বলেই মনে হয়। এখানে সবচেয়ে পরিচিত ও সবচেয়ে অপিরিচিত নবীন সত্তা উভয়ই আসলে এক একটি মহাবিশ্ব ধারণ করে। অনেকেই শেয়ার করেন অনেকে করেন না। অনেকে কেবল আনন্দ নেয় অনেকে পাঠ করে। অনেকে এর সবগুলো এবং অসীম সংখ্যক ক্রিয়া ঘটাতে থাকেন। আর তাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হল এই প্ল্যাটফর্মটা। যেমন যখন বিতর্কের হিংস্রতায় প্রাণ অতিষ্ট তখন ভারসাম্য এবং আগ্রহ ধ'রে রাখার জন্য আমাদের মধ্যেই কেউ কেউ ভারসাম্যের চেষ্টা করেন। এবং মজার ব্যাপার হল সবসময় সচেতনভাবে করেন না। আমার মনে হয় যে প্লাটফর্ম যত বেশি তীব্র ও অগ্রসর বৈচিত্রকে স্থান দিতে সম সেই প্লাটফর্ম ততবেশি সৃষ্টিশীল। যেহেতু সময় খুবই অল্প, আমাদের মনে হয় নিজ নিজ মহাবিশ্ব ও অন্যান্য মহাবিশ্বকে বোঝার চেষ্টা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেটিকুলাস ডিজাইনের নির্বাচন কেমন হলো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৪


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ২১৩ আসনে জয়ী হয়েছে। তবে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ভালো ফলাফল করেছে জামায়াত ! এগারো দলীয় জোট প্রায় ৭৬ টি আসনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ চুরান্ত লজ্জার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



অনেক জল্পনা কল্পনার পর শেষ পর্যন্ত বিএনপির ভূমিধ্বস বিজয় হয়েছে- এ যাত্রায় দেশ চুরান্ত লজ্জার হাত থেকে বেঁচে গেলো। চারিদিকে যা শুরু হয়েছিলো (জামাতের তাণ্ডব) তা দেখে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ ইসলামপন্থীদের ক্ষমতা দেন না কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৫



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ২৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৬। বল হে সার্বভৈৗম শক্তির (রাজত্বের) মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) প্রদান কর এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) কেড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃষ্ণকান্তের উইল ও তৎকালীন নারী সমাজের প্রতিচ্ছবি

লিখেছেন মৌরি হক দোলা, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:০৩




দেশ-কাল-জাতি নির্বিশেষে প্রায় সব সাহিত্যেই নর-নারীর সম্পর্কের জটিল রসায়ন একটি জনপ্রিয় বিষয়। বাংলা সাহিত্যের ঊনবিংশ শতকের বিখ্যাত ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসেও এ চিরায়ত বিষয়টি উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০ বছর সামহোয়্যারইন ব্লগে: লেখক না হয়েও টিকে থাকা এক ব্লগারের কাহিনি B-)

লিখেছেন নতুন, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৪২



২০২৬ সালে আরেকটা ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেগেছে একটু আগে।

ব্লগার হিসেবে ২০ বছর পূর্ন হয়ে গেছে। :-B

পোস্ট করেছি: ৩৫০টি
মন্তব্য করেছি: ২৭০৭২টি
মন্তব্য পেয়েছি: ৮৬৬৭টি
ব্লগ লিখেছি: ২০ বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×