খুব চমৎকার! জেগে উঠছি জোনাকপাখি
হ্যা, তোমার বিন্দু বিন্দু শব্দেরা জানালার ওপাশে
নিভু নিভু হয়ে ঘুম ভাঙ্গানী গান শোনায়
যাদু যাদু বাতাসের ঘ্রাণে উড়ে যায় শাড়ির আঁচল
একদিন নিশ্চয়ই নীল নীল আকাশের মেঘ
গায়ে মেখে তুমি বলবে, “দেখতো কেমন লাগছে?”
আমি বলব, “খুব চমৎকার” তুমি জেগে উঠছো
অন্ধকার আকাশের মতোন
এরপর শুধুই সীমাহীন বিস্তৃত করিডোর।
আমরা জানি এখন, পরস্পরের দিকেই হাঁটছি
তোমার কপালের টিপ, উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে এগিয়ে আসছে ক্রমশ
ঘুম পায়না বলে বিলের ধারে কাটিয়ে দেয়া রাতগুলো
এবার নিশ্চয়ই বিশ্রাম পাবে।
খুব চমৎকার! তোমার উঁচু উঁচু চোখে সমুদ্রের ঝিকিমিকি
স্বচ্ছ বালিতে এইতো হেঁটে যাচ্ছি খুব
ঐতো ওখানেই কয়েকটা নুড়ি পাথর কুড়িয়ে
তুমি উড়িয়ে দিচ্ছো আকাশে, প্রজাপতি হয়ে ওরা
ঘুরেঘুরে খুলছে ঝিনুকের খোলশ
মুক্তো মুক্তো হাসিতে উজ্জ্বল সমুদ্রতট
তুমি এসেছো তাই ডুবুরী তিমির গুমগুম ইঞ্জিন
নোঙ্গর তোলার ইশারা দেয়।
খুব চমৎকার! আমি স্পষ্ট শুনছি জোনাকপাখি
তোমার নুপূরের শব্দে পিছু নিয়েছে লাল কাঁকড়ার দল
এবার নিশ্চয়ই ওদের ঘর হবে
মানুষের মত ঘরে ফুটবে অজস্র রডোডেন্ড্রন, ল্যাভেন্ডার
ওদের শিশুরা খেলবে হইচই করে।
খুব চমৎকার! আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি
তুমি আসছো এদিকেই
ছোট ছোট পদক্ষেপে ঘাসে ঘাসে সবুজ স্ফুলিংঙ্গ
তোমার চুড়িতে অরোরার আভা
হাসিতে সেই পুরোনো প্রশ্রয়,
বিন্দু বিন্দু জোনাক মিলে তুমি ফিরে আসছো
মানবীয় আকারে
বিন্দু বিন্দু নক্ষত্র মিলে তুমি হয়ে উঠছো
স্বচ্ছ এন্ড্রোমিডা।
খুব চমৎকার! তুমি আসছো বলেই
আমি হয়ে উঠছি আলোর সুরকার
তুমি ছাড়া আমি এতদিন বিন্দু বিন্দু অন্ধকার ছিলাম।
শরৎ, এপ্রিল ৫, ২০১৪। পল্লবী, ঢাকা।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০১৪ ভোর ৬:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




