somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জিহাদিদের মুখে কেন এই প্রশান্তির হাসি?

০৩ রা জুলাই, ২০১৬ রাত ৮:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তথাকথিত ইসলামিক স্টেট যে পাঁচজন জিহাদির ছবি প্রকাশ করেছে তাদের দেখে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বিস্মিত হয়েছেন।

এই জিহাদিরা ঢাকার গুলশানে শুক্রবার রাতে একটি রেস্তোরাঁয় অতিথিদের জিম্মি করে ২০ জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যা করেছে।

বাংলাদেশে এধরনের একটি হত্যাকাণ্ডের ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কোন একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে জিহাদিদের ছবি এরকম ঘোষণা দিয়ে প্রকাশের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।

ফলে এটা পরিষ্কার জিহাদিদের ছবি প্রকাশের মধ্য দিয়ে আইএস যে বার্তাটি দিতে চেয়েছে সেটি অত্যন্ত জোরালো এবং স্পষ্ট।
স্পষ্ট ঘোষণা

বিশ্লেষকরা বলছেন, তাদের কাছে এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিলো অত্যন্ত পরিষ্কার। কিভাবে সেটা করতে হবে সেবিষয়েও তাদের ধারণা ছিলো স্পষ্ট।

সেনাবাহিনীর সাবেক একজন কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক সাখাওয়াৎ হোসেন বলেছেন, “ছবিগুলোতে হামলাকারীদের অভিব্যক্তিতে এটা স্পষ্ট তারা পরিষ্কার করেই জানতো তারা কোথায় যাচ্ছে, কি করতে যাচ্ছে। তাদের পরিণতি কি হতে পারে। এই অভিযান শেষে তারা সেখান থেকে পালাতে আসেনি।”
Image copyright facebook
আইএসের পোশাক

ছবিগুলোতে দেখা যায় সবাই কালো পাঞ্জাবি পরে আছে। দেখতে একই রকমের পাঞ্জাবি। এসব পোশাক হয় একই জায়গা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে অথবা একই দর্জির কাছে বানানো হয়েছে।

কালো এই জামাটি আইএসের পোশাক।

সাখাওয়াৎ হোসেন বলেছেন, “পশ্চিমা নাগরিকদের জবাই করে হত্যার যেসব ভিডিও আইএস ইন্টারনেটে ছেড়েছে সেগুলোতে জিহাদিদেরকে এরকম কালো রঙের পোশাক পরে থাকতে দেখা যায়। এটা আইএসের জল্লাদ বা একজিকিউশনারের ইউনিফর্ম।”
Image copyright site

এই কালো রঙের আরেকটি অর্থ হচ্ছে আত্মত্যাগ। অর্থাৎ তারা যে তাদের জীবন উৎসর্গ করতে যাচ্ছে সেটা তাদের পোশাকের মধ্যেও ঘোষণা করা হচ্ছে।

“খোরাসান ব্রিগেডের সদস্যরাও প্রতীক হিসেবে এধরনের পোশাক পরিধান করতো,” বলেন মি. হোসেন।
পেছনে কালো পতাকা

অস্ত্র হাতে এই তরুণরা পেছনে আইএসের পতাকা রেখে দাঁড়িয়ে আছে।

কালো পতাকায় শাদা রঙে লেখা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু।

তাদের মাথায় আরবদের মতো করে ফেটি বা কেফেয়া বাঁধা।

মি. হোসেন বলেন, “আরব যোদ্ধারা এই কেফায়া পরে থাকে। রণক্ষেত্রে যারা যুদ্ধ করছে তাদের কাছে এটি একটি প্রতীকের মতো।”
পেশাদারি কায়দায়

পাঁচজন জিহাদি প্রায় একই কায়দায় অস্ত্র ধরে হাস্যমুখে তাকিয়ে আছে ক্যামেরার দিকে।

দেখে মনে হয় তাদের সবার হাতে একটাই অস্ত্র। অত্যন্ত পেশাদারদের ভঙ্গিতে তারা সেই অস্ত্রটি ধরে রেখেছে।
Image copyright site

নিরাপত্তা বিশ্লেষক সাখাওয়াৎ হোসেন বলেছেন, তাদের হাতে যে অস্ত্রটি দেখা যাচ্ছে সেটি একে ফোরটি সেভেন মডেলের।

মধ্যপ্রাচ্যে জিহাদিদের লড়াই-এ এখন এই অস্ত্রটির প্রচুর ব্যবহার হচ্ছে।

তিনি বলেন, “বর্তমানে সন্ত্রাসীদের কাছে সবচে পছন্দের অস্ত্র হচ্ছে এই একে ফোরটি সেভেন। তাদের হাতে যে অস্ত্রটি দেখা যাচ্ছে সেটি একে ফোরটি সেভেন না হলেও, একে সিরিজের।”

একজন বাদে বাকি প্রত্যেকেরই হাতের আঙ্গুল বন্দুকের ট্রিগার থেকে দূরে।

“এই পজিশনের অর্থ হচ্ছে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। হাত ট্রিগারের বাইরে। রাইফেলটা এমনভাবে রাখা যে এটিকে শুধু একটু উপরের দিকে তুলে গুলি করতে হবে ব্যাস এতোটুকুই,” বলেন মি. হোসেন।
প্রশিক্ষণ

বলা হচ্ছে, এই তরুণদের কেউ কেউ চার পাঁচ মাস ধরে নিখোঁজ ছিলো। ধারণা করা হচ্ছে, এই সময়ে তাদেরকে বড়ো ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, “শুধু মগজ ধোলাই করা নয়, এরকম একটি অভিযানের জন্যে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে।”
Image copyright site

“শুধু হত্যা করার ব্যাপারেই তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। কিভাবে ইন্টারনেট পরিচালনা করতে হবে, ছবি পাঠাতে হবে , সেসব ছবি কিভাবে আপলোড করতে হবে, কিভাবে নিরীহ মানুষের মতো কথা বলতে হবে সেসব বিষয়েও তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এই অপারেশনের জন্যেই তাদেরকে পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে,” বলেন মি. হোসেন।

কোথায় তাদেরকে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে সেটি একটি বড়ো প্রশ্ন।

দেশের ভেতরে এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে গিয়েও তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকতে পারে।

সাখাওয়াৎ হোসেন বলেছেন, “আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ওয়াজিরিস্তান, ফ্রন্টিয়ার ও কাশ্মীরের মতো জায়গায় গিয়েও তাদের প্রশিক্ষণ হতে পারে। এসব জায়গায় যাওয়াও আজকাল খুব কঠিন কিছু নয়। শুধু সীমান্ত পাড়ি দিতে হয়।”

“এছাড়াও আজকাল সশরীরে কোথাও গিয়ে প্রশিক্ষণ নিতে হয় না। জিহাদিদের কাছে ইন্টারনেটেও এই প্রশিক্ষণের মডিউল সরবরাহ করা হতে পারে। প্রশিক্ষণের ভিডিও মডিউলও পাওয়া যায়,” বলেন তিনি।

দেশের বাইরে প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকলে দেখতে হবে গত কয়েক বছরে এই ছেলেগুলো কোথায় ছিলো, কোথায় কোথায় গিয়েছিলো।
মুখে প্রশান্তির হাসি

ছবিতে দেখা যায় যে তাদের সবার মুখে নির্মল হাসি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এর অর্থ হচ্ছে তারা পুরোপুরি মোটিভেটেড। তাদের ভেতরে কোনো সংশয়, কোন রকমের দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই।

“সে যে জোর করে হাসছে না সেটাও বোঝা যাচ্ছে। নিজের জীবন উৎসর্গ করার জন্যে সে প্রস্তুত। ইহজগতে নয় পরকালে সে যা কিছু পাবে তার জন্যে সে প্রস্তুত। তাদের সবার মুখে সেরকমই এক প্রশান্তির হাসি,” বলেন মি. হোসেন।

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০১৬ রাত ৮:২৭
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?
====================
একটি ১১ বছরের শিশু যার বয়স খেলাধুলা, পড়াশোনা আর স্বপ্ন দেখার। সেই শিশুকে যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×