অনেক স্মৃতি, অনেক শৈশব,
রুমভর্তি পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসে থাকা,
তাড়াতাড়ি পড়া আগে শেষ করে ওঠা,
'কেয়া'র প্রোডাক্টএর টিভি কমার্সিয়াল দেখতে দেখতে অপেক্ষারত চোখে তাকিয়ে থাকা,
অনেক পেট ফেটে আসা হাসি, অনেক চোখের কোণে জল...
অনেক নস্টালজিয়া...
এখন যত হোমড়া-চোমড়া F.R.I.E.N.D.S., Breaking Bad, Game of thrones, Sherlock, Big Bang Theory, কে হতে যায় কোটিপতি, Man vs. wild, দাদাগিরি, Masterchef, মীরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার- এসব কত কিছু দেখে কাটাই না কেন, এ কথা অবশ্যই স্বীকার করতেই হবে, এ যুগের বাংলাদেশি জেনারেশন আমরা মাত্রই বড় হয়েছি এই 'ইত্যাদি' দেখে।
এই 'ইত্যাদি' আর হানিফ সংকেত আমাদের নানা-নাতি, মামা-ভাগ্নে সহ অনেক কিছু দিয়ে হাসতে শিখিয়েছেন, 'চেহারাটা পালটে ফেলা বহুরূপী'দের চিনতে শিখিয়েছেন, 'সমাজের ছোট-বড় অসঙ্গতি' নিয়ে ভাবতে শিখিয়েছেন। বিদেশী মুভি অবলম্বনে তৈরি করা নাট্যাংশ, বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত স্থান নিয়ে তৈরি করা প্রতিবেদন, বিদেশীদের দিয়ে বাঙ্গালি নাচ-গান করানোর মাঝে আমরা যেমনি শিখেছি বিদেশের কথা, তেমনি দেশকে চিনেছি নতুন করে। একসাথে পরিবারের সবাই মিলে বসে দেখেছি। আমরা হেসেছি, আমরা কেঁদেছি, তেমনি বিস্ময়ে অবাক হয়ে থেকেছি।
২৫ বছর পেরিয়ে গেল ইত্যাদি'র।
সময় পেরিয়ে যাচ্ছে।
ভাবতে খারাপই লাগে।
কাল যখন গত ২৫ বছরের হাইলাইটসগুলো দেখাচ্ছিল, মনে হচ্ছিল, সত্যিই আমরা বুড়ো হয়ে যাচ্ছি। আমাদের মাঝে আর সেই মুগ্ধতা নেই। বাবা-মা'র সাথে বসে কিছু দেখতে গেলে মাঝে মাঝে উঠে যেতে হয় কিছু জিনিস দেখলে। খুব লজ্জা লাগে!
মনটা পচে গেছে।
সংস্কৃতিটা এখন গোল্লায় গেছে।
অদ্ভুত!!
তবুও,
"এরই মাঝে বেঁচে থাকি, হাসি আর কাঁদি
ইত্যাদি, ইত্যাদি, ইত্যাদি..."
পুনশ্চঃ গতকাল অনুষ্ঠানের সময় চিরচেনা সেই সূচনা সঙ্গীত যখন শুনলাম, দেখলাম, আব্বার চোখের কোণে এক ফোঁটা চোখের জল চিকচিক করে উঠছে।
এ চোখের জল আবেগের,
এ চোখের জল কাতরতার,
এ চোখের জল মুগ্ধতার..
৩০ ০৫ ১৪
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



