somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেবদাসীদের জবানবন্দীঃ সেকাল থেকে একাল

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দেব শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ইনাক্ক থেকে যার অর্থ ঈশ্বর বা দেবী,আর দাসী শব্দের অর্থ অন্যর দাসত্ব স্বীকার করে তার উপসনা বা সেবায় নিযুক্ত মেয়ে। এককথায় দেবদাসী শব্দের অর্থ উপাসনা করার জন্য "নিবেদিত" মেয়ে যারা একটি দেবতার সেবা করে তার জীবনের অর্ধাঙ্গ হবার জন্য একটি মন্দিরে নিজেকে উৎসর্গ করে। ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম দেবদাসীদের আবির্ভাব ঘটে।কালিদাসের মেঘাদূতে সর্বপ্রথম এদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।এছাড়া বিভিন্ন পুরাণে দেবদাসীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে।কালিদাসের মতে কিছু সুন্দরী মেয়ে যারা মন্দিরে পূজা দিত যাতে তাদের সতীত্ব রক্ষা পাই।একটা সময় তারা মন্দিরে পূজার সময় নাচ গান শুরু করে তাদের বিশ্বাস ছিল স্বয়ং দেবতা তাদের নাচ গানে খুশি হয়ে অবতার হয়ে ধরণীতে এসে তাদের সতীত্ব রক্ষা করবে।তাদের এই বিশেষ নাচ “মহাকাল উজ্জায়ন”হিসাবে পরিচিত ছিলো।
দেবদাসীরা চোল সম্রাজ্জে আদিগালার বা ঈশ্বরের দাস হিসাবে পরিচিত হতে থাকে।প্রখাত গবেষক শ্রী শ্রী আভিত্তয়ন ঠাকুরের মতে উড়িষ্যার পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য জগন্নাথ মন্দির কমপ্লেক্সে এরা মাহারি হিসাবে সমাদৃত। এইসময় দেবদাসীরা অর্কেস্ট্রা নামক গানের আয়োজন করতো যেখানে তারা প্রায় এক হাজার বছরের পুরানো চোল রাজকুমারীর শিখানো নাত্তুভুসারন নৃত্য প্রদর্শন করতো। আস্তে আস্তে ভারত মহাদেশে ছড়িয়ে পড়তে থাকে এই দেবদাসীরা।যাদের প্রধান জ্ঞান বা ভিত্তি ছিল মাহারি বা মহনের সঙ্গি এবং রিপুয়ারি বা মদনের সজ্জ দাসি।স্বভাবত দেবদাসীরা প্রথমে মন্দিরের ভিতরে নৃত্য করতো। নৃতের সময় তাদের শরীরের সুপারি গাছের পাতা দিয়ে তৈরি এক ধরনের বিশেষ পোশাক থাকতো এবং তাদেরকে কালো গাভির দুধ দিয়ে গোছল করানো হতো। কিন্তু আস্তে আস্তে তারা মন্দির ছেড়ে সমাজের অধিপতিদের মনোরঞ্জনের জন্য নৃত্য প্রদর্শন করতে আসরে হাজির হতো।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে তৎকালীন সময়ে ছায়নিচেরি নামের এক অপরূপ সুন্দরী দেবদাসী ছিল। তখন মন্সকার রাজ্যর অধিপতি ছিলো দুরাপ্পনা যাকে ঈশ্বর জ্ঞান করা হতো। একসময় দুরাপ্পনা ছায়ানিচেরির প্রেমে পড়ে যাই এবং তাকে তার কাম সঙ্গী হিসাবে পাবার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। দুরাপ্পনা ছায়ানিচেরিকে তার সঙ্গি হিসাবে পাবার পর দেবদাসীদের সন্মান বহুগুণে বেড়ে যাই। এইচ এস অল্কট এর মতে মাত্র ১৩ বছরে দেবদাসীদের সংখ্যা দুই হাজার থেকে বিশ হাজারে দাঁড়ায়। দেবদাসীদের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের তাদের প্রতি কাম লিস্পা বাড়তে থাকে। মন্দিরের পুরোহিতরা তাদেরকে কাম সঙ্গি হিসাবে পেতে শুরু করে। অল্প কয়েক বছরের মধ্য তারা সমাজে পতিতা বৃত্তি শুরু করে।তাদের সঙ্গে যৌন মিলন তখন পুণ্যর কাজ বলে গন্য হতো। একটা সময় এই দেবদাসীরা সমকামিতায় জড়িয়ে যাই। ১৮০০ শতাব্দীর মাঝের দিকে শিক্ষিত সমাজ তাদের এই অবাধ যৌন ব্যাবসার বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম আন্দোলন গড়ে উঠে। ছাত্র,শিক্ষক,ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ারসহ সমাজের সব শ্রেণীর মানুষ আন্দোলন করতে থাকে।১৮৪৪ সালে ভারত সরকার দেবদাসীদের নিষিদ্ধ করে।এরপর বিলোপ পেতে শুরু করে এই দেবদাসীরা। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে ভারত সরকার দেবদাসীদের নিষিদ্ধ করলেও বহু দেশ আজকে দেবদাসীদের সেই যৌন ব্যাবসা এবং সমকামিতাকে লাইফ ইন্সুরেন্স দিচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৩৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×