somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তিনি মহান... আমরা ধুলা মাত্র.....

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের বুকে এক দারুন প্রতিভার আগমন ঘটে গেছে। তার প্রতিভার তাপে পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে বহুত এলেমদার। তিনি একাধারে রাজনীতি, সমাজনীতি, রাষ্টনীতি, পেটনীতি চ্যা...নীতি সহ ধর্ম, ইতিহাস এবং অবশ্যই অবশ্যই শিল্পকলা ও সাহিত্য সকাল বিকাল নিয়ম করে গুলে খাওয়াচ্ছে দেশবাসী কে। তার নিজেস্ব পান্ডা বাহিনী আছে। অনলাইনে কারো মতামত যদি পীরে কেবালার পছন্দ না হয় তাহলে তার পান্ডা বাহিনী ঝাপিয়ে পরবে সেই আইডির উপরে। নিমিষে আইডি ব্লক তিনদিনের জন্য কিংবা চিরতরে। উনি যে কত জ্ঞানী তা তো আমি বললে বিশ্বাস করবেন না আপনারা, এই যে রোহিঙ্গা বিষয়ে সরকার যে নীতি পরিবর্তন করল কার কারনে? এই মহামান্য এই বিষয়ে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন, তারপরেই তো সব পরিবর্তন হলো!! এই কথা কি আমি বলছি? তার কারনেই যে হয়েছে তা তিনিই আবার আমাদের কে ফেসবুকে জানিয়েছেন

নানান সময়ে নানান বিষয়ে জ্ঞান বিতরণ করে থাকলেও খুব সম্প্রতি যে তিনি জ্ঞান প্রসব করে একখান বই প্রকাশ করেছেন তা পূর্বের সমস্ত রেকর্ড ভঙ্গ করে দিয়েছে। তার হঠাৎ মনে হয়েছে যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ঠিক মত লেখা হয়নি। তিনি জীবিত থাকতে তা তো হতে দেওয়া যায় না। তাই তিনি লিখে ফেললেন মার্কিন ডকুমেন্টে মুক্তিযুদ্ধ। তারপর দেশবাসীকে শেখালেন এক নতুন ইতিহাস। আমরা মুগ্ধ হয়ে জানলাম নিক্সনের আমেরিকা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সাথেই ছিল। পাকিস্তান কে কোন প্রকার অস্ত্রপাতি দিয়ে সাহায্য করেনি এমন কি চিন্তাও করেনি। আমরা বাল্টিমোরের যে ঘটনা জানতাম তা বিলকুল ঝুটা, খাস মিছা কতা!! তিনি জানালেন মুক্তিযুদ্ধ মূলত ডিসেম্বরের ১০ তারিখেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। বাকি সময় আসলে পাকিস্তান বাহিনী আত্মসমর্পণের জন্য আলাপ আলোচনা চালাচ্ছিল। তবে ১৫ ডিসেম্বর ভুট্টু জাতিসংঘে কি করতেছিলেন তার কোন ব্যাখ্যা অবশ্য তিনি দেননি।তিনি জানালেন আমেরিকা যে সাবমেরিন পাঠিয়েছিলেন তা মুক্তিযুদ্ধ কে বাঁধা দেওয়ার জন্য না। মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে রাশিয়া আর আমেরিকা এক সাথে কাজ করেছিল বলেও তিনি তত্ত্ব দিয়েছেন। তার জ্ঞান পরিমাপ করা আমার মত ক্ষুদ্রের দ্বারা সম্ভব না। আমার শুধু কুর্নিশ করতে ইচ্ছা করছে উনাকে। ভাগ্যবান আমরা যে এই সময়ে জন্মেছিলাম। সামনে তার নতুন বই আসছে মুক্তিযুদ্ধে ইসলাম!! আমেরিকাকে চাটা হয়েছে এবার মনে হয় অন্য কিছু দরকার উনার চাটার জন্য।

তবে আফসোস হচ্ছে। উনার হাজার হাজার ছাগল ফোলোয়ার বুঝলেও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর উনার বইয়ের কদর বুঝে নাই। উনার বই কে বাতিল্ করে দিয়েছে। এতে তিনি ভীষণ গোস্বা করেছেন। মাঝে তার অবশ্য একটু খারাপ সময় গিয়েছে। তিনি ভুল করে লুঙ্গি কে নিয়ে মাতামাতি করে ফেলেছিলেন মাত্রার বাহিরে। কিন্তু লুঙ্গি তো লুঙ্গিই। বেজায়গায় এমন ভাবে খুলে গেছে যে এই মহামন্য পর্যন্ত হকচিয়ে গেছেন। এর মধ্যে তিনি এক টিভি প্রোগ্রামে বলার চেষ্টা করেছিলেন যে বর্তমান যে নারী আন্দোলন চলছে বিশ্বজুড়ে তা পুরোটাই শরীর নির্ভর। পরে উপস্থাপক আর অন্য আলোচকের উপর নিচ থেকে চাপ খেয়ে বেচারা একটু চাপের মধ্যেই পরে গিয়েছিলেন। তবে চিন্তার কোন কারন নাই। তিনি আবার ফুল ফর্মে।

আহমেদ ছফা তার নিকট ও দূরের প্রসঙ্গ বইয়ে বলেছেন স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সর্বোত্তম বস্তু হচ্ছে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী। তার সম্পর্কে ছফা সাহেব বলেছেন - “হজরত সাঈদী যদি গান করতেন, মাইকেল জ্যাকশনের কাছাকাছি পৌঁছাতেন।অভিনয় করলে ছবি বিশ্বাস কে ছাড়িয়ে যেতেন। নাচ করলে বুলবুল চৌধুরীর রেকর্ড ম্লান হয়ে যেত। নাচ গান অভিনয় এবং তার উপরে ধর্মকথা এই একের ভিতর চার তিনি সমন্বয় করেছেন। তাকে কি করে আমি সামান্য মানুষ বলব।” আজকে আহমেদ ছফা বেঁচে নাই। থাকলে তার লিস্টে এই মহামান্য প্রতিভার নাম তিনি তুলে নিতেন। তিনি একের ভিতরে চার দেখেই মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। আর আমাদের ''কি না কি'' ভট্টাচার্য যে একের ভিতর কত তা একমাত্র খোদা ছাড়া অন্য কারো পক্ষে অনুমান করাও কষ্টকর, দুঃসাধ্য এমন কি দুঃস্বপ্নও বটে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:১১
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্ধ দুয়ার"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪


"বন্ধ দুয়ার"

ক্লান্ত এ সপ্তাহে শুনি, আজ কারো কাজ নাই,
বন্ধ কারখানায় তালা, কোথা যাব তবে ভাই?
ছুটা বুয়া হয়ে খাটা, সে সুযোগও মেলা ভার,
তরুণী দেখিয়া মোরে, কেহ খোলে না যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×