somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি বেদনাদায়ক সত্য ঘটনা

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার রুম ম্যাট ২ বছর ধরে বেকার । সরকারী চাকুরী করবে । ভাল স্টুডেন্ট,ভাল ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করেছে । সারা দিন রাত চাকুরীর জন্য পড়া শোনা করে । ২ বছর ধরেই পড়ছে । আমি তার রুম ম্যাট হবার পর থেকে দেখে আসছি রাত ৪ টা পর্যন্ত পড়ে আবার আমি সকালে অফিস এ আসার সময়ও দেখি সে পড়ছে । অফিস থেকে ফিরেও দেখি সে পড়ছে । আমি এমন একটা মুহূর্ত কখনও দেখি নি যে সে পড়ার টেবিল এ নেই ।
সব ধরনের চাকুরীর পরিক্ষায় সে টিকেছে ,ভাইবাও খুব ভাল দেয় কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর চাকুরীটা হয় না । দুই বছর ধরে তার এই অবস্তা । মাস শেষে বাবার কাছে টাকা চাইতে ফোনটা সে করে ছাদে গিয়ে । আমাদের সামনে করে না।ছাদ থেকে ফিরে আসার পর দেখি তার মুখ চোখ লাল হয়ে থাকে ।কিছুদিন আগে রুপালী বাংকের ফলাফল দেবার আগে সে বলছিল এবার তার
চাকরী টা নিশ্চিত হয়ে যাবে । আমি বললাম কত টাকা ঢালছিস ?
সে প্রথমে একটু রাগ করেছিল আমার কথায় কিন্তু কিছুক্ষন পরে আমার বিছানার পাশে এসে বলল "দোস্ত বাড়িতে সামান্য জমি ছিল । আব্বাকে অনেক কষ্টে বলে কয়ে রাজি করিয়েছি।
আমি বললাম টাকাটা কাকে দিয়েছিস? ব্যাঙ্কের এম ডি সরাসরি টাকা টা পাইছে এবার চাকুরীটা confirm !!! এই বলে সে গান গাইতে গাইতে বাথরুম এ ঢুকল । আমি ভাবলাম যাক এবার
একটা গতি হোল । দিন কয়েক আগে আমি অফিস থেকে ফিরলাম রাত করে । রুম এ ঢুকেই দেখি সব বিছানা, টেবিল, চেয়ার এলোমেলো । আমি পাশের রুমের জিজ্ঞাসা করলাম ঘটনাটা কি । ওরা বলল মিজান নাকি রুমে এসে এসব করছে । আজকে রুপালী ব্যাংকের result হয়েছে ।
.
ওর চাকুরী টা হয় নি । আমি ছাদে গেলাম, গিয়ে দেখি ও এক
কোনায় বসে একটার পর একটা সিগারেট খাচ্ছে । আমি কতক্ষণ ওর আসে পাশে ঘুরলাম । ওর হাব ভাব বুঝার চেষ্টা করলাম । কিন্তু কিছুই বুঝতে পারলাম না । শেষে আমি নিজেই ওর পাশে বসলাম । বললাম "টাকা টা কি ফেরত দিবে না?"
ও বলল " মনে হয় না । এসব টাকা কি আর
ফেরত পাওয়া যায় । "আমি ওর কাঁধে হাত রাখলাম , ওর শরীর কেপে উঠল, আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলো " বাবা সামান্য একটা কৃষক । ঘরের বড় ছেলে আমি, ছোট ২ টা বোন আছে । বিয়ে দিতে পারছি না , টাকার অভাবে । বাবা কত কষ্ট
করে খেয়ে না খেয়ে আমারে পড়াশোনা করাল । শেষে যেটুকু জমি ছিল সেটাও বেচে দিল এই চাকুরী টার জন্য । কিন্তু আমি পারলাম না রে । আমি শেষ হয়ে গেলাম । আমার সব শেষ হয়ে গেল । আমি এখন কি করব, আমি কোন মুখে ওদের সামনে দাঁড়াবো ।" আমি কিছুই বলতে পারলাম না । এই কথার কোন জবাব নেই । জবাব টা জানে এই দেশের রাষ্ট্র প্রধান রা । দুর্নীতিবাজ
আমলারা ।তাদের কাছে জবাব চাওয়াও যায় না ।তারা অনেক ক্ষমতা বান । জবাব চাইতে গেলেও হয়ত বিনিময়ে তারা কিছু চেয়ে বসবে । শেষে জীবন নিয়েও টানা টানি । তবে একদিন লাখ লাখ মিজান এক বিন্দুতে দাঁড়াবে । বিন্দু টা বিস্ফোরণ হলে ওই
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুমগুলু হয়ত আর অক্ষত থাকবে না । দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে সামনে ধাক্কা দেয়া ছাড়া আর কিছু করার থাকে ? আমি ওকে ছাদে একা রেখে নেমে গেলাম। নিজের মত করে একটু কাঁদুক । এই শহরে প্রান খুলে কাঁদার মতোও একটু জায়গা নেই ......।।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:২৬
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রচন্ড রোদে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০০

প্রচন্ড রোদে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

রূপসী এদিক ওদিক কী খুঁজো
মনের মতো কাঙ্ক্ষিত পুরুষ
এভাবে সোনালি কতোদিন বিনষ্ট করবে
আমায় একটু ভেবে দেখো।
শূন্য হৃদয় নিয়ে কেঁদে মরি
কেউ নেই পাশে, গেছে সবাই ছাড়ি।
দরিদ্র বলে জুড়েনি তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেফরি আর্চারের জগৎ বিখ্যাত উপন্যাস ‘A Prisoner of Birth’ এবং অন্যান্য প্রসঙ্গে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৭


ছবিতে আমি, মারুফ জামান এবং লেঃ কর্নেল রাজীব।
জেলে থাকতে জেফরি আর্চারের (Jeffrey Archer) লেখা ‘A Prisoner of Birth’ বইটির পড়ার জন্য বলেছিলেন ক্যাপ্টেন (চাকুরিচ্যুত) খন্দকার রাজীব... বইটি সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুন্দর সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২১



সবকিছুই পাওয়া যায় এখন বিপণনের কল্যাণে,
বিপনি বিতানে বিতানে;
চাইলে কিনে নিতে পারো লালনীলহলুদ মনও!

মন চাইলে পোষ মানাতে পারো বনের অবাধ্য পশুও;
শুধু পোষ মানাতে যেও না মানুষ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×