somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেওয়ার কোন সুযোগই নেই। দেখুন কীভাবে.....

২৮ শে মার্চ, ২০১৬ সকাল ৮:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনারা অনেকেই হয়ত জানেন সংবিধান মূলত হয় ২ ধরনের। লিখিত আর অলিখিত। আমাদের দেশের সংবিধান লিখিত।
পৃথিবীর অনেক দেশের সংবিধান ই অলিখিত। যেমনঃ বৃটেন, স্পেন প্রভৃতি। লিখিত সংবিধান আছে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র প্রভৃতি রাষ্ট্রের।

এবার আসুন দেখি সংবিধানে কয়টি ভাগ আছে, আমার পোস্ট পড়ার সময় এটি কাজ দিবে,

প্রথম বিভাগ প্রজাতন্ত্র (অনুচ্ছেদ নং ০১-০৭)
দ্বিতীয় বিভাগ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি (অনুচ্ছেদ নং ০৮-২৫)
তৃতীয় বিভাগ মৌলিক অধিকার(অনুচ্ছেদ নং ২৬-৪৭)
চতুর্থ বিভাগ নির্বাহী বিভাগ(অনুচ্ছেদ নং ৪৮-৬৪)
পঞ্চম বিভাগ আইনসভা(অনুচ্ছেদ নং ৬৫-৯৩)
ষষ্ট বিভাগ বিচার বিভাগ(অনুচ্ছেদ নং ৯৪-১১৭)
সপ্তম বিভাগ নির্বাচন(অনুচ্ছেদ নং ১১৮-১২৬)
অষ্টম বিভাগ মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রন(অনুঃ ১২৭-১৩২)
নবম বিভাগ (ক) বাংলাদেশেরকর্মবিভাগ(অনুচ্ছেদ নং ১৩৩-১৪১)
নবম বিভাগ (খ) জরুরী বিধানবলী(অনুচ্ছেদ নং ১৪১ক - গ)
দশম বিভাগ সংবিধান সংশোধনী(অনুচ্ছেদ নং ১৪২- )
একাদশ বিভাগ বিবিধ(অনুচ্ছেদ নং(অনুচ্ছেদ নং ১৪৩-১৫৩)

- - - - - - - -

@@@ এবার আসুন দেখি সংবিধানে রাস্ট্রধর্ম সম্পর্কে কি আছে, ---

২ ধারা ক। প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবেন [উপরে মিলিয়ে নিন এটা সংবিধানের প্রথমভাগে আছে]

-> ভালো ভাবে লক্ষ্য করুন রাস্ট্রভাষা ইসলাম কিন্তু সকল ধর্মকে সমমর্যাদা ও সমঅধিকার দিয়ে দেয়া হয়েছে । তাহলে অসম অধিকার কে ইস্যু করে ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলা হচ্ছে কেন, সমান অধিকার তো আছেই ?

@@@ এবার আসুন ধর্ম নিরপেক্ষতা সম্পর্কে কিছু আছি কিনা একটু দেখি, ---

১২ধারা । ধর্ম নিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্য

(ক) সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা,
(খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান,
(গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার,
(ঘ) কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাহার উপর নিপীড়ন,
বিলোপ করা হইবে।

-> সুতরাং ধর্ম নিরপেক্ষতা তো দেয়াই আছে !! নেই কোথায় ??

- - - - - - - -

এবার আসুন দেখি সংবিধানে জনগণের পাধান্য কতটুক ?

@@@ ৭ ধারা ৷ (১) প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে৷

- > এই ধারায় স্পট বলে দেওয়া আছে সকল খমতার মালিক জনগণ, সুতরাং জনগণের মতামত অগ্রাহ্য করে কিসের রাস্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ ?

এবার আবার দেখি দাদাবাবুদের অধিকার কতটুকু ?

@@@ ২৭ ধারা। সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।

@@@ ২৮ ধারা । (১) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।

-> সংবিধানে স্পষ্টই তাদের ন্যায্য অধিকার দেওয়া আছে, তাহলে কেন এত মিথ্যে নাটক ? এই সব গণ্ডমুর্খের দল কবে যে একটু সাম্প্রদায়িকতা ছাড়তে পারবে !!

- - - - - - - -

এইবার সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন ইস্যু। আগামীকাল যদি এই ইস্যু নিয়ে কেউ লড়াই করে তাহলে সরাসরি রিট আবেদন খারিজ হয়ে যাবে, আর কোন কিছুই লাগবে না।
তা হোলও রাস্ট্রধর্মের ধারা আছে সংবিধানের প্রথম ভাগে, উপরের বিভাগ গুলো আবার দেখতে পারেন।

আবারও বলছি রাস্ট্রধর্মের ধারা আছে সংবিধানের প্রথম ভাগে।

বরং মজার ব্যাপার হোলও এই ভাগের কোন ধারাই পরবর্তন করা যাবে না। দেখুন সংবিধানে কি আছে - ->

@@@

৭ ধারা খ।সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমুহের বিধানাবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হইবে।

--< অর্থাৎ কোন অবস্থাতেই এই রাস্ট্রধর্ম ইসলাম সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধন করা যাবে না ।

আসুন দেখি উপরেল্লিখিত ১৪২ অনুচ্ছেদে কি বলা আছে,

@@@

১৪২ ধারা । এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও-
(ক) সংসদের আইন-দ্বারা এই সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের দ্বারা সংশোধিত হইতে পারিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে,
(অ) অনুরুপ সংশোধনীর জন্য আনীত কোন বিলের সম্পূর্ন শিরনামায় এই সংবিধানের কোন বিধান সংশোধন করা হইবে বলিয়া স্পষ্টরুপে উল্লেখ না থাকিলে বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা যাইবে না;

(আ) সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরুপ কোন বিলে সম্মতিদানের জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইবে না;
(খ) উপরি-উক্ত উপায়ে কোন বিল গৃহীত হইবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট তাহা উপস্থাপিত হইলে উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিবেন, এবং তিনি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।

----- অর্থাৎ সংসদ যদি চায় এই সংবিধানের যে কোন ধারা ২/৩ ভাগ ভোটের ভিত্তিতে পরিবর্তন করেতে পারবে, তবে অবশ্যই অবশ্যই সংবিধানের প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় ভাগ, মুলনীতি এসব ছাড়া।

সুতরাং সংবিধান রাস্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়ার সুযোগ সংবিধানই রুদ্ধ করে রেখেছে।

.............................................

এরপরও কারো যদি কোন মলমের প্রয়োজন পড়ে দুইটি মহান ব্যাক্তির উক্তি দিচ্ছি, মিলিয়ে দেখে নিয়েন।

১ । মাননীয় প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক বলেছেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো কোনোভাবেই পরিবর্তন যোগ্য নয়।

সুত্র - প্রথম আলো, ৩০ এপ্রিল ২০১১, শেষের পাতা।

২। গত নির্বাচনের সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন , ‘যা হবে সংবিধান মোতাবেক হবে। তা থেকে এক চুলও নড়ব না’। অর্থাৎ সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে না তাই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন !

সুত্রঃ যুগান্তর, ১৯ আগস্ট ২০১৩, প্রথম পাতা।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রস্ফুটিত হোলও - এই সংবিধানের প্রথম ভাগ অর্থাৎ রাস্ট্র ধর্ম ইসলামকে পরিবর্তন আর করা যাবে না।

নোটঃ সংবিধান লিখে সার্চ দিলে গুগলে সংবিধান চলে আসবে।

ধন্যবাদ, ধন্যবাদ সবাইকে।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০১৬ সকাল ৮:৫১
৯টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে ফিরে আসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬


সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?

আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত‍্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরীর ছোট গল্প "নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:১৩

নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি
মঞ্জুর চৌধুরী

নীরা কথাটা বিশ্বাস করতে পারছে না। তাঁর স্বামী আরমানের আরেক মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল? এই আরমান কিনা সবসময়ে আবৃত্তি করতো "এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ, আমি কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৭ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৭



আমাদের সেই পুরনো ভিটেটার অস্তিত্ব  এখন আর নেই। তবে বুকের গহীনে ভিটেমাটির মায়াটুকু  ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে। কত স্মৃতি, কত গান, কত গল্প-কোলাহল,  মান- অভিমান ! চাইলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×