somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা তাই দেখি,যা আমাদের দেখানো হয়!!!

২৬ শে এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ৮:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


টাইটানিক জাহাজে যাত্রী সংখ্যা
ছিলো ২২৩০ জন ৷ জীবিত উদ্ধার
হয়েছিল ৭০৬ জন ৷ ডুবে প্রাণ হারায় মোট
১৫২৪ জন যাত্রী ৷
টাইটানিক মুভিতে দেখা যায়,
অধিকাংশ যাত্রী পানিতে ডুবে মারা
যায় ৷ কিন্তু মুভির হিরো "জ্যাক" বরফ
শীতল পানিতে শূণ্য ডিগ্রি তাপমাত্রার
কারণে মারা যায় ৷
একজন দর্শক যখন মুভিটি দেখে তখন
তিনি জ্যাকের মৃত্যুতে যতটা শোকাহত
হন, জাহাজের অন্যান্য যাত্রীদের জন্য
তার ততটা শোক হয় না ৷ তখন দর্শকের
অবস্থা হয় এমন যে, সব মরে যাক তবুও
নায়ক জ্যাক বেঁচে থাক ৷
কখনো কি নিজেকে প্রশ্ন করেছেন,
কেনো এমন হলো? মানুষ হিসেবে সকল
যাত্রীর মৃত্যুতে সমান দুঃখ পাবার কথা
ছিলো ৷ অথচ নায়ক জ্যাকের প্রতি
দর্শকের এতো দরদ হয় কেনো?
জ্যাক একজন জুওয়ারী, মদ্যপ, ধুমপায়ী,
অশ্লীল ছবি অঙ্কনকারী, সর্বপরি জ্যাক
এজন ব্যভিচারী ৷ এতকিছুর পরও দর্শকের
কাছে জ্যাকের জীবন অন্যদের চেয়ে
বেশি মূল্য রাখে কেনো?
উত্তর খুবই সহজ,
প্রযোজক ক্যামেরাটি শুধু "জ্যাক ও
রোজ"এর দিকে ফিরিয়ে রাখে ৷ ফলে
দর্শকের মনেহয়, জাহাজে যাত্রী শুধু
ওরা দুজনিই ৷ কিন্তু একই সময় ক্যামেরার
অপর প্রান্তে হাজার হাজার নারী ও
শিশুর চিৎকার ও আর্তনাদ দর্শকের কানে
পৌঁছে না ৷ ফলে দর্শক তা অনুধাবনের
চেষ্টাও করে না ৷
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনও এমন ৷


আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্সে সামান্য
ককটেল ফুটলেই মিডিয়া তা কয়েক
সপ্তাহ হাইলাইট করতে থাকে ৷ কিন্তু
একই সময় এই মিডিয়ার অপর প্রান্তে
আফগানিস্তান, ওয়াজিরিস্তান, ইরাক,
সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেনে প্রতি দিন
শত শত বোমা ফেলা হচ্ছে ৷ হাজার
হাজার মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছে
৷ তাদের মর্মভেদী আর্তনাদ আকাশ
বিদীর্ণ করে আরশে পৌঁছে যায় ৷ শুধু
পৌঁছে না আমাদের কর্ণ কুহরে ৷
পৃথিবীর সকল পাপের উৎস এই পশ্চিমারা
৷ ওরাই মানুষকে শিখিয়েছে সমকামিতা,
পশুকামিতা, লিভটুগেদার আরো কত কী ৷
ওরা হিরশিমা ও নাগাসাকিতে তিন
লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে ৷ ইরাকে দশ
লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে ৷
আফগানিস্তানে ওদের হত্যাকার্য এখনো
চলছে ৷
এতকিছুর পরও পশ্চিমারা আমাদের
চোখে হিরো ৷ টাইটানিক ডুবে যাক,
হাজার হাজার যাত্রী মরে যাক ৷ জ্যাক
ও রোজ বেঁচে থাক

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ৮:৩৭
৭টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে ফিরে আসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬


সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?

আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত‍্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরীর ছোট গল্প "নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:১৩

নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি
মঞ্জুর চৌধুরী

নীরা কথাটা বিশ্বাস করতে পারছে না। তাঁর স্বামী আরমানের আরেক মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল? এই আরমান কিনা সবসময়ে আবৃত্তি করতো "এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ, আমি কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৭ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৭



আমাদের সেই পুরনো ভিটেটার অস্তিত্ব  এখন আর নেই। তবে বুকের গহীনে ভিটেমাটির মায়াটুকু  ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে। কত স্মৃতি, কত গান, কত গল্প-কোলাহল,  মান- অভিমান ! চাইলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×