ভোর ৪টা ৫২। পুরান ঢাকার বেগম বাজারের বেচারাম দেউড়ি রোড। একটা বস্তা থেকে কয়েক জোড়া নতুন লেডিস স্যান্ডেল বের করতেই রাস্তার একপাশে হঠাৎ জটলা পাকাতে শুরু করে। দোকানদার এক দাম ২০০ বলেই চুপ হয়ে যান। দাঁড়িয়ে পড়া লোকজনের একজন স্যান্ডেলের দাম হাঁকান ১১০ টাকা। আরেক জন ১২০ টাকা। এ পর্যায়েই একজন অল্প বয়সী ক্রেতা এসে দোকানিকে বললেন, ‘মোবাইল হইবোনিও কাকু।’ ‘না-হ’ বলে স্যান্ডেল বেচাকেনায় মনোযোগ দেন দোকানদার। দু’জোড়া কেড্স বিক্রি করেন ৬০ টাকায়। এভাবেই রাতের আঁধারে বেচাকেনা চলে বেগম বাজারের বেচারাম দেউড়ি রোডে। আরেকটু সামনে এগুতে দেখা গেল, একজন বলছে- ‘কিছু আছে?’ দোকানদার চোখের ইশারাতে কিছু একটা বুঝালে চলে যায় লোকটি। এভাবে সংকেতের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করতে দেখা গেল অনেক ব্যবসায়ী-ক্রেতাকে। নামে পুরান কাপড়ের মার্কেট হলেও এখানে পাওয়া যায় প্রায় সব ধরনের পণ্য। বেচাকেনার জন্য কোন ভাড়া দিতে হয় না তাদের। বাজার কমিটির নামে প্রতি দোকান থেকে তোলা হয় চাঁদা। চাঁদার পরিমাণ দোকানপ্রতি ২০ টাকা। এলাকায় দায়িত্ব পালনে আসা পুলিশ নেন চাঁদা। তাদের চাঁদার হার দোকানপ্রতি ১০ টাকা। এর বাইরে অতিরিক্ত হিসেবে নানা ‘দিবস’ উপলক্ষেও দিতে হয় বিশেষ চাঁদা। এ মার্কেটের বেচাকেনা জমে রাত ৪টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত। দিনের আলো বাড়তে থাকলে ভিড়ও কমতে থাকে। স্থানীয়দের কাছে এ মার্কেট ‘চোরা মার্কেট’ বলে পরিচিত। বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে চুরি হওয়া কাপড়, মোবাইল ফোনসহ নানা জিনিস মেলে এ মার্কেটে। আর দিনের বেলায় ‘চোরাই পণ্যগুলো’র বেচাকেনা চলে রাস্তার দু’ধারের দোকানগুলোতেই। তবে তা চলে থেমে থেমে। দিনের বেলায় দোকানগুলোতে পণ্য সরবারহ করতে হাজির হয় ফেরিওয়ালা। পণ্যগুলো কিনতে হাজির হয় পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা। ভোরবেলা খুচরা বেচাকেনা হলেও দিনের বেলা দোকানগুলোতে শুধু পাইকারি বেচাকেনা হয়। বিক্রেতারা জানান, ব্যবসায় লাভ যেমনই হোক- ব্যবসাটা স্বাধীন! তাই ব্যবসা করা যায় মনের সুখে। এ মার্কেটে প্যান্ট, শার্ট, শাড়ি, জামা, মেক্সি, লুঙ্গি, তোয়ালে, মশারি, চাদর, ভেনিটি বেগ, স্কুলব্যাগ, পারফিউম, ঝুট, জুতাসহ মেলে না- এমন পণ্য খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর। মেলে ইলেকট্রনিক পণ্যের প্রায় সব আইটেমই। ঘড়ি, টর্চলাইট, চার্জার লাইট, সাউন্ডবক্স, মাল্টিপ্ল্যাগ, টেপ রেকর্ডার, ক্যামেরা, মোবাইল ফোন, ফ্যান, প্রিন্টার, টেলিফোন সেট প্রভৃতি। ইলেকট্রনিক পণ্য’র বেশির ভাগই অবশ্য পুরনো। কোনটা আবার নষ্ট। মার্কেটে মোবাইল ফোনের ব্যবসাটাই বেশি জমজমাট। উঠতি বয়সী ছেলেদের দেখা গেলো দল বেঁধে ঘুরে ঘুরে দোকানদারদের কাছ থেকে কিনছে পুরান মোবাইল ফোন সেট। বিশেষ কিছু কম বয়সী ছেলে দোকানগুলোতে সাপ্লাই করে ‘চোরাই’ মোবাইল ফোন।
আলোচিত ব্লগ
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার
বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?
কর্মসংস্থান? না।
বিনিয়োগ? না।
ডলার সংকট? না।
গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।
ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।
সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পণ্ডশ্রম

এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।
কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।
দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।