somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডঃ ইউনুছ, ফজলে হাসান আবেদ, সাইখ সিরাজ ও একজন আলোকিত মানুষ।

২৮ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নোবেল বিজয়ী ডঃ ইউনুস এবার আমেরিকার সর্বোচ্চ বেসামরীক পুরস্কার লাভ করেছেন। শুনে মনটা আনন্দে ভরে গেল। আমাদের দেশের একজন সন্তান আজ সারা পৃথিবীর অনেক মানুষের কাছে আইকন, ভাবতেই মনে শিহরন জাগে। যদিও নিজের দেশের অনেক লোকের কাছেই তার এই পুরস্কারপ্রাপ্তি প্রশ্নবিদ্ধ। এই ব্লগ সাইটেই তাঁর বিরুদ্ধে অনেক লেখা হয়েছে। অনেকেই মনে করেন তিনি দারিদ্রবিমোচনে অনেক বড় ভূমিকা রেখেছেন, অনেকেই মনে করেন এটা শুধুই আই ওয়াশ, আবার অনেকে মনে করেন তিনি গরিবের রক্ত চুষে খান। আমি কারো কথাই বিশ্বাস বা অবিশ্বাস করতে পারতাম না। কারণ আমার পরিচিত কেউ গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋন গ্রহীতা ছিল না যে তার থেকে প্র্যাকটিক্যালি ক্ষুদ্রঋন এর ব্যাপারটা ভালো করে বুঝবো।

একদিন আমার বাড়ির দারোয়ানের সাথে কথা হচ্ছিল। সে তাঁর দুঃখ কষ্টের কথা শোনাচ্ছিল। কথায় কথায় সে জানাল যে তার চল্লিশ হাজার টাকা গ্রামীণ ব্যাংকের কাছে ঋণ আছে। সেই ঋণ শোধ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। এই স্বল্প বেতনের চাকরি দিয়ে সংসার চালাবে না ঋণ শোধ করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছেনা। তখন আমি বললাম যে, তাহলে তো মানুষের কাছে যা শুনি তাইতো সত্যি। গ্রামীণ ব্যাংক গরিবের রক্ত চুষে খায়। এই কথা বলতে দেরি সে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠতে দেরী নাই। সে বলল গ্রামীনের বিরুদ্ধে কথা বলবেন না। আমিতো অবাক! যে লোক একটু আগে গ্রামীনের ঋণ পরিশোধ করা নিয়ে চিন্তিত ছিল সেই এখন গ্রামীনের পক্ষে সোচ্চার। সে তখন আমাকে বলল যে আপনি জানেন, গ্রামীণ ব্যাংক আছে বলেই আমি আপনার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, গ্রামীণ ব্যাংক যদি না থাকত শুধু আমি না, আমার পরিবারই দুনিয়ার বুক থেকে ভেনিস হয়ে যেতাম। গ্রামীনের ঋণ ছিল বলেই আমি আমার বোনটাকে বিয়ে দিতে পেরেছিলাম, আমি যখন অসুস্থ হয়েছি তখন চিকিৎসা করাতে পেরেছিলাম, বাবার চা দোকানটা ধরে রাখতে পেরেছিলাম। তাহলে আমি কোন মুখে গ্রামীণের বিরুদ্ধে কথা বলবো? যে চল্লিশ হাজার টাকা আমি গ্রামীণ থেকে পেয়েছিলাম সেটা কি আপনি দিতেন বা আপনাদের কোন বড়লোকি ব্যাংক থেকে পেতাম? শুনে চিন্তা করে দেখলাম আসলেইতো ঠিক। এই অসহায় মানুষগুলোকে কে ঋণ দিত?

কিন্তু ইদানীং নতুন করে আমার মনে আরেকটি প্রশ্নে জেগেছে। ডঃ ইউনুছ ও গ্রামীণ ব্যাংক দারিদ্র বিমোচনে অবদান রাখার জন্য সারা পৃথিবীতে আজ আইকন। কিন্তু আসলেই কি দারিদ্র বিমোচন হচ্ছে? যদি হয় সেটা কতটুকু? এই যে আমার দারোয়ান, সে গ্রামীণ থেকে তার কষ্টের সময় ঋণ পেয়েছে। সেটাদিয়ে সে হয়তো সাময়িক ভাবে উপকৃত হয়েছে। কিন্তু তার দারিদ্র বিমোচন হয়েছে? কিংবা আদো কি তার দারিদ্রবিমোচন হবে? আমি জানি গ্রামীনের ঋণ নিয়ে এই দেশের লক্ষ লক্ষ গরীব দুঃখী মানুষ উপকৃত হচ্ছে কিন্তু সেটাকে কোন ভাবেই দারিদ্রবিমোচন বলা যাবে না। এত ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে আসলেই দারিদ্র বিমোচন করা সম্ভব নয়। এই কারণেই যখন বারাক ওবামার মুখে ডঃ ইউনুস দারিদ্রবিমোচনে অবদানের জন্য প্রশংসা করে বক্তব্য দিতে দেখি তখন মনের মধ্যে খচ্ খচ্ করে উঠে। আমার ইচ্ছে করে তাদের বক্তব্যকে শুধ্রে দিতে, শব্দটি আসলে হবে দরিদ্রদের সহায়তা করার জন্য। দারিদ্রবিমোচনের জন্য নয়।

আর ইউনুস নোবেল প্রাপ্তি নিয়ে ক্লিনটন ও হিলারি ক্লিনটনের লবিং এর কথাও অনেকেই বলে। ক্লিনটন ও হিলারি ইউনুস কলেজ জীবনের বন্ধু। সেটা করো অজানা নয়। তারা যে ইউনুস জন্য লবিং করেছে সেটাও কোন গোপন বিষয় নয়। তাই বলে আমি ইউনুসের প্রাপ্তিকে মোটেই ছোট করে দেখছিনা। ইউনুসের যোগ্যতা ছিল বলেই নোবেল পেয়েছে। আমার কষ্টটা হলো ইউনুসের মতো আরো যোগ্য লোকও আছে, হয়তো তারা কখনো নোবেল পাবেনা কারণ তাদের জন্য লবিং করার মতো কেউ নাই। যে ক্ষুদ্রঋনের জন্য ইউনুস নোবেল পেল আমি যতদূর জানি (আমার জানায় ভুলও হতে পারে) সেই ক্ষুদ্রঋন কার্যক্রম তাঁরো আগে শুরু করেছিলেন ডঃ ফজলে হাসান আবেদ। ক্ষুদ্র ঋণের ব্যপারে তাঁর অবদান ইউনুসের থেকে কোন অংশে কম নয় বরং বেশী। কিন্তু তার কপালে বড় কোন বিদেশী স্বীকৃতি জোটেনি। হয়তো জোবেও না।

আরেক জন মানুষের কথা না বললেই নয়। তিনি হলেন আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর, আলোর ফেরিওয়ালা অধ্যাপক আব্দুল্যাহ্ আবু সায়ীদ। আমি জানিনা তাঁর মতো কয়জন মানুষ এই পৃথিবীতে আছেন যারা আলোকিত মানুষ গড়ার জন্য সারাজীবন খেটেছেন বা খাটছেন, আমি জানিনা মানুষের দরোজায় জ্ঞানের বাহন নিয়ে আর কোন দেশে কেউ গিয়েছে কি না। তিনি এবং তার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পাড়ায় পাড়ায় বই পৌঁছে দিচ্ছেন, বইপড়া কর্মসূচির মতো অভিনব কর্মসূচি ছাড়াও তাঁর আরো অনেক অবদান এই জাতীর জন্য। কিন্তু এই অবদানের জন্য আবু সায়ীদ স্যার কি নোবেল পাবেন না? কেন পাবেন না? আন্তর্জাতীক পর্যায়ে তার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ লবিং করার মতো লোক নাই বলে?

বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষকের জন্য সাইখ সিরাজের অবদান কতটুকু আজ দেশের সকল মানুষই তা জানেন। সাইখ সিরাজ কি নোবেল পুরুষ্কার পাবেন না? নোবেল কমিটি কি ডঃ ফজলে হাসান আবেদ, অধ্যাপক আব্দুল্যাহ্ আবু সায়ীদ,সাইখ সিরাজদের অবদানের কথা জানেন? যদি না জানে তাহলে কেন জানে না? তাদের জন্য লবিং করার লোক নাই বলে?
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:৪৫
১৩টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×