জীবনযুদ্ধে পরাজিত হয়ে গেছি। বন্ধুরা বিসিএস ক্যাডার, ব্যাংকার। আর আমি সাংবাদিক। এই পেশাটাকে কেউ মূল্য দেয় না বলে অবশেষে নিজেকে পরাজিত ভাবতে শুরু করেছি। চারদিকে ঘিরে ধরেছে হতাশা। কেন ইউনিভার্সিটিতে থাকতে লেখাপড়া না করে সাংবাদিকতার পেছনে ছুটেছি- এ প্রশ্ন এখন বুকে ধাম করে ঘা দেয়।
সত্যি সমাজের কাছে, সমাজের মানুষের কাছে দাম পেলাম না। স্ত্রীর বন্ধুরা নাক সিটকায়, নিজের বন্ধুরাও নাক সিটকায়। এখন নিজেকেও ঘৃণা করি। এটা কোনো লাইফ হতে পারে বলে মনে হয় না আমার কাছে। যদিও সাব এডিটিংয়ের কাজ করি একটা স্বনাম ধন্য জাতীয় পত্রিকায়।
আমার স্ত্রী বলে, তোমার ছেলে বড় হয়ে কি পরিচয় দেবে? ও সমাজের কাছে মুখ দেখাবে কি করে। ওর বন্ধুদের বাবারা হয়তো ব্যাংকার, বিসিএস ক্যাডার। তখন ওর মুখটা ছোট হয়ে যাবে। আমি জানি--বউয়ের কথা একদম সত্যি। তাইতো সে বলে এর চেয়ে একটা সরকারি পিয়নেরও দাম আছে, চাকরি স্থায়ী আছে, শেষে কিছু টাকাও আছে, তুমি কি পাবা?
হাইরে কপাল। জীবনযুদ্ধে এক প্রকার পরাজিত হয়ে গেছি। সমাজ যাকে স্বীকৃতি দেয় না , তা দিয়ে কি চলা যায়? তবুও চলতে হচ্ছে কি আর করা। বান্ধবিদের খোচামারা কথায় আমার স্ত্রী প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু আমি কি করতে পারি। জবাবে ব্উয়ের কান্না দেখতে দেখতে আর ভাল্লাগে না। আমি বলি--আমার চেয়ে অনেকেই তো কম বেতনে চাকরি করে। ও বলে--বেতনের গুষ্ঠি কেলায়, তোমার দাম দেয় কয়জনে। যে চাকরির কোনো ভবিষ্যৎ নেই, সেই চাকরি যে করে তার সঙ্গে ঘর করা যায়না (রাগের চরম পর্যায়ে)।
সরকার নতুন বেতন স্কেল দিয়েছে। আমার বাবার, ভাইয়ের, বোনের বেতন ডাবল হয়ে গেছে। আমার একটাকাও বাড়েনি। এই কষ্ট আমার স্ত্রী সহ্য করবে ক্যামনে? ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত মেয়ে। ইংরেজিতে মাস্টার্স করা। বাচ্চা নিয়ে ও যে চাকরির পড়া করবে সে উপায় নেই। এখন আমি কি করি ভেবে পাচ্ছি না। চাকরির বয়স আর মাত্র এক বছর বাকি। বুকের মধ্যে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। বাচ্চা হলে আল্লাহ খাওয়াবে এ তত্ত্বে বিশ্বাস করি, কিন্তু বাচ্চাটা তার বাবার পরিচয় কি দেবে? একথা ভাবলে আমার বুকে পাথর আঘাত হানে। হে রাব্বুল অা'লামিন,,,আমি কি সমাজ স্বীকৃত স্থায়ী, ভবিষ্যৎ আছে এরকম একটি চাকরি কি পাবো না? রহম করো খোদা ...শেষ বছর মন দিয়ে পড়বো। এমন কোনো বোঝা চাপিয়ে দিও না যা সইতে পারবো না।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




