somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিড়ম্বনার জগতে বসবাস

১৬ ই জুলাই, ২০১১ দুপুর ১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকাল যে সমস্ত ঘটনা চোখের সামনে ঘটতে দেখছি তাতে মনে হচ্ছে পুরো মিডিয়া যেন আমাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা আমাদের তথা ভিকারুননিসার মেয়েদের দাবী দাওয়াকে সঠিকভাবে তুলে ধরছেন, তারা নাকি বিএনপি সমর্থিত পত্রিকা। আশ্চর্য হচ্ছি এই কারণে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা সবাই সব কিছুর মধ্যে অপর পক্ষের হাত কেন খুঁজে বেড়ান? আমরা ভিকারুননিসার মেয়েরা যারা ১২ বছর ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করেছি, তাদের কি ঐ স্কুলের প্রতি কোন ভালবাসা নাই? তারা পাশ করে বের হয়ে গিয়ে আর কোনই খোঁজ খবর রাখে না স্কুলের? আমরা বুঝি না আমাদের ভালবাসার জায়গায় আঘাত করে সরকারমহল কি উদ্ধার করবেন? আমরা আমাদের স্কুলকে ভালবাসি। স্কুলের আনন্দ, দুঃখ সবকিছুতে আমরা সমানভাবে অংশগ্রহণ করি। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মনে হয় এই ব্যাপারটি জানেন না, বা জানলেই ভাব দেখাচ্ছেন যে তিনি জানেন না। ৬০ বছরের পুরোনো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে এই রকম নোংরা রাজনীতি খেলা তাদের মোটেই শোভা পা্য় না। তারা রাজনীতি অঙ্গনের সবচেয়ে পুরানো কর্মী। তারা খুবই ভাল করে বুঝবেন যে স্কুলের/কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা এই রকম চাল চালতে জানে না, যেই রকম খেলা আমাদেরকে নিয়ে এখন খেলা হচ্ছে।

আজকের কালের কন্ঠে পড়লামঃ
শিক্ষক পরিমল জয়ধরের ছাত্রী নিপীড়নের কেলেঙ্কারির পর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সৃষ্ট সংকট সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, এ সংকটের পেছনে কোনো মহলের ইন্ধন রয়েছে। অপসারিত অধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগমও দাবি করছেন, প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি-বাণিজ্য বন্ধ করার কারণে একটি মহল এ ঘটনার জন্ম দিয়েছে_পরিমল উপলক্ষ মাত্র।

হাস্যকর একটা ব্যাপার। আমাদের স্কুলের অধ্যক্ষা সবসময় স্কুল/কলেজ থেকেই সবসময় নিয়োগ পেয়ে এসেছেন। হামিদা আলী আপার পরে কলেজের রোয়েনা হোসেন, তারপর কলেজের রোকেয়া আকতার বেগম। কিছু সময়ের জন্য শায়লা আপা আর তাহমিনা আপাও নিয়োগ পেয়েছিলেন। ইনারা সবাই স্কুল কলেজ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। তারা জানেন মেয়েরা কি চায়। তারা স্কুলকে যেভাবে ভালবাসবেন, একজন বাহিরের শিক্ষক এসে সেই ভালবাসাকে ধরে রাখতে পারেন নাই, এবং সেইটাই আমরা হোসনে আরা বেগম এর প্রতিটা পদক্ষেপ-এ দেখেছি। আমরা স্কুল থেকে বের হয়ে এসেছি মানে এই না যে স্কুলের খবর আমরা পাই না। আমাদের সবারই কারো না কারো বোন এই স্কুলে পড়ে। কারো মেয়ে এই স্কুলে পড়ছে। ওদের মুখ চেয়েই আমরা বার বার স্কুলে অনিয়ম হলে প্রতিবাদ করি। আমরা কেউই রাজনীতি করি না। কারণ বাংলাদেশের মত দেশে যুবসমাজকে শুধুমাত্র ব্যবহার করা হয়। সুস্থ রাজনীতি এই দেশে একসময় হত, এখন আর হয় না।
আমাদের রাজনীতিতে বিন্দুমাত্র আকর্ষণ নাই। এই কথাটি তারা যেন হৃদয়ের অন্তঃস্থলে ঢুকিয়ে নেন।

কালের কন্ঠে আরো লিখছেঃ
একজন অভিভাবক বলেন, এসব ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে, ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি নোংরা রাজনীতির শিকার হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ভিকারুননিসায় এসব করা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। না হলে যেদিন সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শোক প্রকাশের কর্মসূচি, সেদিন কিভাবে ভিকারুননিসায় বড় বড় দুটি কেক কাটা হয়?'
আমাদের স্কুলে সবসময়ই কোন ভাল খবর আসলে আমরা কেক কেটে আনন্দ করি। এটার জন্য কোন তৃতীয় পক্ষের দরকার আমাদের পরে না। আমরা নিজেরাই তার জন্য যথেষ্ঠ। শিক্ষামন্ত্রী বার বার কেক কাটার কথা বলছেন। একজন সন্তান যখন জন্ম নেয়, আর সেই দিন যদি তার মা মারা যায়, তবে কি ঐ সন্তানটির জন্মদিন কখনোই কি পালন করা হবে না? শুধু কি শোক দিবসই পালিত হবে? আমরা ১৫ দিনের দুর্যোগপূর্ণ দিন পার করে যখন দেখলাম যে ভিকারুন নিসা এখন একটি সুরক্ষার বেড়াজালে যাচ্ছে, তখন স্বভাবতই মেয়েরা চাইবে আনন্দ করতে। এটার পিছনে ২য়/৩য়/৪র্থ কোন ব্যক্তি কিভাবে কোন দিক দিয়ে কিসের কারণে যুক্ত হবে এটা আমার বোধগম্যের বাহিরে। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী যদি বুঝিয়ে দেন বিস্তারিতভাবে, তাহলে বড়ই উপকৃত হতাম।

পরিমলের বিচার এখন আমরা দেখতে চাই। তাকে কোন জায়গায় সুরক্ষিত অবস্থায় রাখা হয়েছে আমরা সেটা জানতে চাই। এটা আমাদের নৈতিক অধিকার। এ থেকে সরকার আমাদের বিরত রাখতে পারেন না। শুধু পরিমল নয়, আমরা হোসনে আরা বেগম, লুৎফর রহমান-এদের কর্তব্য অবহেলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। পরিমলের সহকারী ছিল যারা তাদের সকলের বিচার হবে, এই এখনকার দাবী। আশা করি সরকার নিজের লোকের সুবিধা দেখা বাদ দিয়ে সত্যটিকে চোখ দিয়ে দেখবেন।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"..

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"
-একজন গুমের শিকার মানুষের চোখে একটি ভয়াবহ সত্যের দলিল।

“আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: দ্য আয়নাঘর ফাইলস”- নামটি যতটা আকর্ষণীয়, বইটির ভেতরের সত্য তার চেয়েও বেশি নির্মম, বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা ফোন কলের দূরত্বে ১০ হাজার মানুষের চাকরি!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



একটা ফোন কলের দূরত্বে ১০ হাজার মানুষের চাকরি!
বিষয়টি আপনি সমাধান করছেন না কেন, পিএম সাহেব? আপনার তো মাত্র একটা ফোন কলই যথেষ্ট—অন্তত ভুক্তভোগীদের এতদিনের অপেক্ষা দেখে সেটাই মনে হয়!
একটা ভুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

কার জন্য; কেন এতো লেখালেখি

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:২১

লিখে রাখো বৎস'রা ; এ দূর্মুর্খ আর বর্ন ব্লাইন্ড ও বেইমানদের বাংলাদেশ-এ ভালো কিছুই তৈরী হবে না ! লিখে রাখো বৎস'রা !!
যে যে ব্যক্তির মনে বিষাক্ত রাজনীতির বীজ ঢুকেছে;... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষের অহংকার ও বুদ্ধিমত্তার ভ্রান্ত ধারণা

লিখেছেন শেরজা তপন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫২


উৎসর্গঃ ব্লগার রাজীব নুর( ঈশ্বর বিশ্বাসের কোল ঘেঁষে যাওয়া কোন লেখা এলেই যিনি লেখককে ভীষন সন্দেহের চোখে দেখেন- ভাবেন; কি অদ্ভুত কথা- ইনি দেখি ঈশ্বর বিশ্বাসী!!))
ধর্ম ও বিজ্ঞান: সংঘর্ষ না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঠেলায় নাম বাবাজি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৯


সময়টা সরকারের জন্য মোটেও ভালো যাচ্ছে না। একদিকে গ্যাস আর বিদ্যুতের সংকটে মানুষ প্রতিদিন কষ্টে দিন কাটাচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের একের পর এক সিদ্ধান্ত নেটিজেনদের বাধার মুখে পড়ছে। ফলে সরকার নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×