somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্ত্রীর মানসিক চাহিদা ও ইসলাম

১৫ ই জানুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইসলামী শরীয়ত স্ত্রীদের বস্তুগত, শারীরিক প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি মনস্তাস্ত্বিক প্রয়োজন পূরণও স্বামীদের জন্যে ওয়াজিব করেছে। এ জন্যে বিশেষ তাকিদ দেয়া হয়েছে।

কোরআনে নারী জাতির সৃষ্টির উদ্দেশ্য বর্ণনা প্রসঙ্গে মানসিক শান্তি প্রেম ভালোবাসার কথাই বলা হয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,
'তার (কুদরতের) নিদর্শনসমূহের (মাঝে) এও একটি যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে (তোমাদের) সঙ্গিনীদের বানিয়েছেন, যাতে করে তোমরা তাদের কাছে সুখ শান্তি লাভ করতে পারো, (উপরন্তু) তিনি তোমাদের মাঝে ভালোবাসা ও (পারস্পরিক) সৌহার্দ্য সৃষ্টি করে দিয়েছেন।' (সূরা আর রোম, আয়াত ২১)

এই আয়াতে বিবাহিত জীবনের উদ্দেশ্য লক্ষ্যের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর সংসারে ভালোবাসা, প্রেম, শান্তির পরিবেশ কায়েম করার কথাই বলা হয়েছে। বিবাহিত জীবনে যদি মানসিক শান্তি এবং আবেগ উচ্ছ্বাসের উপাদান না থাকে তবে সেই বিবাহিত জীবন কোরআনের ইপ্সিত বিবাহিত জীবন হতে পারে না।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,
'তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবন যাপন করো। (সূরা আন নেসা, আয়াত ১৯)

এই আয়াতের আলোকে সেই সকল স্বামী প্রচন্ড ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছেন, যারা মনে করেন যে, স্ত্রীকে ভরণ পোষণের অর্থাৎ ভাত কাপড়ের ব্যবস্থা করে দিয়েই স্বামীর দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এ রকম স্বামীরা ভুলে গেছেন যে, স্ত্রীরা ভাত কাপড় ছাড়াও আরো কিছু পেতে চায়। স্ত্রীর জন্যে ভাত কাপড় যতোটা প্রয়োজন ঠিক ততোটাই প্রয়োজন হাসি তামাশা আদর সোহাগ ছোটোখাটো দুষ্টুমি, প্রেম ভালোবাসা এবং যৌন সম্পর্ক ইত্যাদি।

হযরত রসূল (স.) তাঁর স্ত্রীদের সাথে আচার ব্যবহারে এই মানসিক দিকটির প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতেন। নীচে রসূল (স.)-এর পবিত্র জীবনের কিছু খন্ডচিত্র উল্লেখ করা যাচ্ছে -

বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, রসূল (স.)-এর কোনো কোনো স্ত্রী কখনো তার সাথে রুক্ষভাষায় কথা বলতেন। কিন্তু তিনি স্ত্রীদের তিক্ত কথার জবাব প্রেমপূর্ণভাবে দিতেন।

হযরত রসূল (স.) স্ত্রীদের সাথে হাসি তামাশাও করতেন। স্ত্রীর বুদ্ধি বিবেচনা অনুযায়ী তাদের সাথে ব্যবহার করতেন। তাদের সাথে ক্রীড়া কৌতুক করতেন। এ রকম বর্ণনাও রয়েছে যে, রসূল (স.) হযরত আয়শা (রা.)-এর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।

রসূল (স.) বলেন, সেই ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালা ঘৃণা করেন, যে ব্যক্তি নিজের পরিবারের লোকদের সাথে রূঢ়ভাবে কথা বলে এবং নিজের মধ্যে অহংকার পোষণ করে।

হযরত রসূল (স.)-এর উদাহরণ আমাদের জন্যে উত্তম উদাহরণ। তিনি নিজেও নবুওতী দায়িত্ব এবং বহুমুখী রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন সত্ত্বেও স্ত্রীদের অধিকার আদায়ে কখনো কার্পণ্য করতেন না। তিনি সব সময় স্ত্রীদের আবেগকে গুরুত্ব দিতেন এবং তাদের মনস্তাত্তিক প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন। ইমাম ইবনে কাইয়েম এ প্রসঙ্গে লিখেছেন, স্ত্রীদের সঙ্গে রসূল (স.)-এর ব্যবহার ছিলো সৌহার্দপূর্ণ এবং আন্তরিক। আনসার বালিকারা হযরত আয়শা (রা.)-এর সাথে খেলাধুলা করতে আসতো। রসূল (স.) কখনোই হযরত আয়শা (রা.)-কে ওই বালিকাদের সাথে খেলতে নিষেধ করেননি। আপত্তিকর কোনো বিষয় হলে সেটা ছিলো ভিন্ন কথা।

হযরত আয়শা (রা.) বরতনের যে জায়গায় পানি পান করতেন, রসূল (স.) সেই জায়গায় ঠোঁট লাগিয়ে পানি পান করতেন।

তিনি হযরত আয়শা (রা.)-এর কোলে মাথা রেখে কোরআন পাঠ করতেন। তার কোলে মাথা রেখে আরাম করতেন। মাসজিদে নববীর কয়েকজন হাবশী ক্রীড়া কৌতুক প্রদর্শন করছিলো। রসূল (স.) হযরত আয়শাকে সেই খেলা দেখান। রসূল (স.)-এর পেছনে দাঁড়িয়ে তাঁর কাঁধের ওপর দিয়ে হযরত আয়শা (রা.) সেসব ক্রীড়া কৌতুক উপভোগ করেন।

হযরত রসূল (স.) বলেন, তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম। আমি আমার ঘরের লোকদের জন্যে উত্তম। (যাদুল মাআ'য়েজ)

আছরের নামাজের পর রসূল (স.) সকল স্ত্রীদের ঘরে যেতেন এবং কিছু সময় তাদের সান্নিধ্যে কাটাতেন। তারপর যার পালা থাকতো তার ঘরে রাত্রি যাপন করতেন। এ বিষয়ে তিনি কখনোই অমনোযোগিতা প্রদর্শন করেননি। তবে তিনি হযরত আয়শা (রা.)-এর প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতেন। কারণ হযরত আয়শা (রা.) ছিলেন সবার চেয়ে কম বয়সী এবং কুমারী। এটা কোনো গোপন কথা নয় যে, বিধবা এবং তালাকপ্রাপ্তাদের চেয়ে অল্পবয়স্ক কুমারী স্ত্রীর প্রতি বেশী মনযোগ দেয়া স্বাভাবিক কারণেই প্রয়োজন ছিলো।

নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, রসূল (স.) স্ত্রীদের বস্তুগত প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি কিভাবে তাদের মানসিক চাহিদা পূরণ করতেন। এ ব্যাপারে তিনি কতোটা আন্তরিক ছিলেন।

তিনি বলেছেন, "যে উত্তম চরিত্রের অধিকারী সে পূর্ণ মুমিন আর তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যাক্তি সর্বাধিক উত্তম যে তার স্ত্রীর নিকট সর্বাধিক উত্তম ।" (তিরমিযি)

সাহাবায়ে কেরামও রসূল (স.)-এর পদাংক অনুসরণ করতেন। রুক্ষ্ম স্বভাব এবং কঠোর মেজাজের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও হযরত ওমর (রা.) বলেছেন, স্বামীদের উচিত স্ত্রীদের সাথে শিশুর মতো আচরণ করা, তাদের সাথে খেলাধুলা করা এবং তাদের সাথে ভালোবাসা স্থাপন করা।

আমাদের জন্যে রসূল (স.) এবং সাহাবায়ে কেরামের উদাহরণের চেয়ে বড়ো উদাহরণ আর কি হতে পারে?


সূত্র: Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:২৮
১৪টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডায়োজেনিস সিন্ড্রম

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১২:০১



ডায়োজেনিস সিন্ড্রমে আক্রান্ত মানুষের ঘর

আমার একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের কিছু অদ্ভুত আচরণ দেখে বুঝতে চাচ্ছিলাম যে তার এমন আচরণ কোনো মানসিক সমস্যা কিনা। তার আচরণের বর্ণনা দেই ইন্টারনেটে, আর তখন জানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৩০)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৩



সূরাঃ ৩০ রূম, ৩২ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। যারা নিজেদের দীনে মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে।প্রত্যেক দল নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উৎফুল্ল।

সূরাঃ ৩০ রূম, ২৯ নং... ...বাকিটুকু পড়ুন

হামে শিশুদের মৃত্যুর দায় ডঃ ইউনুস গভার্নমেন্টের

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৪

ইউনিসেফ হামের টিকা কেনার জন্যে গত তত্তবধায়ক সরকার প্রধান ড' ইউনুসকে বারবার অনুরোধ করেছিলো। আমরা এখনো ইউনুস স্যারের উত্তর পাই নাই। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে, ইউনিসেফকে প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত যেতে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

ভূমিকা:

মানুষ যখন প্রথম আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিল তখন সেই বিশাল নীলিমা তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুগে যুগে সারদা দেবী

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



নদীর নাম রুপসা।
জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায়ও রূপসা নদীর কথা বলেছেন। এই নদীতে স্নান করেছেন- রবীন্দ্রনাথের মা এবং স্ত্রী। বর্ষাকালে রুপসা নদী যেন যৌবনে ফিরে যায়। কি তেজ! কি জলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×