somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিনা জাহান প্রিয়া
আমি সেলিনা জাহান প্রিয়া , জন্ম পুরান ঢাকা, নাজিরা বাজার , নানা বাড়িতে ।বাবার বাড়ি মুন্সী গঞ্জ , বড় হয়েছি ঢাকা ।স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জ ।ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে , কবিতা , গল্প , উপন্যাস পড়তে অজানাকে জানতে । ধর্ম বিশ্বাস করি কিন্তু ধর্ম অন্ধ না ।

রহস্য অণু গল্প । ------ রাজ প্রসাদের সেই নুপুর

১৬ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


------------------------------------------------------

সজল ঘুম থেকে উঠে অবাক হল বাসায় কেউ নেই । ভাবতে লাগলো মা হয়ত অন্য ফ্ল্যাটে গেছে । বাবা অফিসে চলে গেছে হয়ত । ছোট বোন লিলি কি তাহালে স্কুলে ?
অল্প সময়ে মধ্য সব চিন্তা করে নীল । কিন্তু অবাক হল যখন দেখল যে অন্য কোন বাসায় । তাঁর চোখ গেল খাটে এটা তাঁর না। সকল ফার্নিচার ভিন্ন । বিশাল বড় একটা বাড়ি । জানালায় চোখ যেতেই সে আরও অবাক এটা যেন কোন রাজ বাড়ি ।
তাহালে কি সে স্বপ্ন দেখছে । স্বপ্নের মধ্য তো স্বপ্ন মনে করা সম্ভব না। ঘর থেকে বের হয়ে সে বারান্দায় এলো । জীবনে এত সুন্দর বাড়ি আগে সে কোন দিন দেখে নাই । একটু ভয় পেল কোন মানুষ নেই কেন । কিন্তু একটা ঘর থেকে তবলার শব্দ আসছে । সেই শব্দ শুনে সে খুঁজতে লাগলো কোন ঘর থেকে সেই শব্দ আসছে তা বের করার জন্য । এত বড় বাড়ি কোন কিছুই সে চিনে না। এমন সময় দেখল একজন তাকে দেখে সালাম দিয়ে দূরে সরে দাঁড়ালো । সজল বলল
- কে আপনি ।
-- হুজুর আমি আপনার গোলাম আছি ।
-- গোলাম !
-- মাথা নিচু করে কেন !
-- হুজুর আপনি মনিব আছেন । মনিবের সামনে মাথা উচু করা পাপ হবে ।
-- ওকে ঠিক আছে । কিন্তু তবলার শব্দ আসছে কোন ঘর থেকে । আমাকে নিয়ে চল
। বাড়িতে আর কি কোন মানুষ নেই ?
-- হুজুর আপনি অন্ধর মহলে । এখানে সবার আসতে পারে না।
-- ঠিক আছে ।
-- আমি কে ?
-- হুজুর আপনি কি বলেন ? আপনি আমাদের রাজার পুত্র আছেন ।
-- আপনার হতে এটা কি ?
-- হুজুর আপনার পায়ের জুতা । আপনি খালি পায়ে আছেন ।
অবাক হল সত্যি তো !! ও যেই জুতা নিয়ে নিয়ে আসছে খুব সুন্দর । জুতা গুলো পায়ে দিয়ে বলল সুন্দর । তা নিয়ে চল আমাকে যেই ঘর থেকে শব্দ হচ্ছে ।
--- জি হুজুর চলেন । খুব আদবের সহিত সজল কে নিয়ে সে হাটতে লাগলো । সজল অবাক হয়ে শুধু দেখছে অনেক নারী বিষের ধরনের শাড়ী পরা । সবাই কোন না কোন কাজ করছে । তাকে দেখা মাত্র সবাই সরে দাঁড়াচ্ছে । যে ঘর থেকে তবলার শব্দ আসছিল সে সেই ঘরে প্রবেশ করতেই তবলা বাজানো থেমে গেল । উঠে সবাই সালাম দিল । প্রায় দশ জন মানুষ । একটা মেয়ে সামনে আর ঐ মেয়ের পিছনে বেশ কিছু মেয়ে । সবাই হাঁটু ঘেরে বসা । সবাই চুপ । সজল বলল- এই মেয়ে উঠে দারাও ।
মেয়েটা সালামের সহিত উঠে দাঁড়ালো । সজল সবার দিকেই তাকাতেই সবাই মাথা নিচু করে সালাম দিয়ে ঘরের বাহিরে চলে গেল । মেয়েটা চোখে দিকে তাকিয়ে অবাক হল । তাঁর গায়ের অলঙ্কার পায়ের ঝুমকা নুপুর । বেণী করা চুল । লেহেঙ্গা পরা । কিন্তু তাঁর চোখ দিয়ে পানি ঝরছিল ।
-- কি ব্যাপার কান্না করছেন কেন ?
-- কে আপনি ?
মেয়েটা আবার মাথা নিচু করে বলল- হুজুর আমি একজন নারী ।
-- তা তো দেখে বুঝতে পারছি ।
-- তাহালে হে নারী আপনি বলুন আমি কে ?
-- হুজুর আমাকে কেন লজ্জা দিচ্ছেন । আমি এই আপনার বাবার কেনা একজন বাদি তবে আমাকে
নর্তকী হিসাবে নাচ শিক্ষা দেয়া হচ্ছে ।
--- অহ । তবে চোখে জল কেন ।
--- কাঁদতে কাঁদতে বলল হুজুর । আমি একজন বাঞ্জারান নারী । আমাকে আমাদের দলের এক
লোক আপনারদের নিকট বিক্রয় করে দিয়েছে । আমার পিতা মাতা আমার জন্য কাঁদতে
কাঁদতে অন্ধ হবার পথে । কিন্তু এ রাজ বাড়ি থেকে আমার মুক্তি নেই । আজ দু বছর
হল । আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি যদি আপনি আমাকে মুক্তি দেন । আমি যদি আমার বৃদ্ধা
মিতা মাতার নিকট যেতে পারি । তবে কথা দিলাম এই বাদি । আমার পিতা মাতার মৃত্যুর পর
বাকি জীবন আমি আপনার দাসী হিসাবে থাকব । আমি ছারা আমার পিতা মাতার কেউ নেই ।
আর প্রতি রাতে আমি আপনার সাক্ষাৎ পাওয়ার জন্য প্রভুর নিকট অনেক কেঁদেছি । হয়ত প্রভু
আমার ডাক শুনেছে ।
--- সজল ঘরে দরজার দিকে তাকাতেই । একজন প্রহরী এসে সালাম দিল । সজল বলল - ওকে তাঁর
দলের নিকট পৌছে দেয়া হউক ।। মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে সজলের পায়ের নিকট এসে বসল ।
দু হাতে সজলের পা ছুয়ে বলল- আমি নিজেকে আপনার নিকট অর্পণ করলাম । আমি বাঞ্জারান
মেয়ে আমার নাম মোহিনী । মেয়েটি তাঁর পা থেকে একটা নুপুর খুলে সজলের পায়ে কাছে রাখল ।
এর মধ্য একজন সালাম দিয়ে বলল হুজুর পালকি এসে গেছে । মেয়েটি চোখের পানি মুছে সালাম
দিয়ে নিয়ে চলে গেল । যাবার সময় বার বার সজলের দিকে ভেজা চোখে তাকিয়ে কাঁদছিল ।
সজল সেই ঘর থেকে বের হয়ে দেখল অনেক মানুষ দারিয়ে । একজন ভয়ে বলল - হুজুর আপনি আপনার ঘরে জান । রাজা মহাশয় খুব ক্ষিপ্ত হয়েছেন আজ আপনার উপর । কেন আপনি মোহিনী কে মুক্তি দিয়েছেন । রানি মা খুব চিন্তায় আছে । একজন সজল কে তাঁর ঘরে নিয়ে গেল । হাতে মেয়েটির পায়ের সেই নুপুর । ঘরে এসে দেখে তাঁর খাবার নিয়ে অনেক নারী দারিয়ে । সবার দিকে তাকাতেই খাবার রেখে সবাই সালাম দিয়ে বাহিরে গেল । সজল পায়ের জুতা পরে সজল খাটে শুয়ে পড়লো । নুপুর তা বালিশের নিচে রাখল । ভাবতে লাগলো এটা কোথায় এলাম । আমি কাউকে চিনি না সবাই আমাকে চিনে । আসলে মনে হয় আমি স্বপ্ন দেখছি । ভাবতে ভাবতে সজলের ঘুম চলে আসে ।
হাঁটৎ একটা ডাকে সজলের ঘুম ভাঙল । সজলের মা কি রে পায়ে জুতা পরে বিছানায় কেউ ঘুমায় ।
ভার্সিটিতে যাবি না ? সজল ছানা ভরা চোখে মায়ের দিকে তাকিয়ে । আরে সত্যি ই তো তাঁর পায়ে সেই জুতা । তারা তারি বালিশের নিচে হাত দেয় । অবাক ও ভয়ে গা কাঁটা দিয়ে উঠে । দেখে সেই একটা ঝুমকা নুপুর । সজলের মা বলল - লিলি কে তোমার আব্বু স্কুলে নিয়ে গেছে । এত বেলা করে কেউ ঘুম থেকে উঠে এখন সকাল !! সজল নাস্তা করে নুপুর টা পকেটে নিল । ভাবতে লাগলো এটা কি করে সম্ভব । কাউকে বললে তাকে পাগল বলবে । এর মধ্য আবার তবলার শব্দ । মা কে তবলা বাজায় ? আমাদের পাশের ফ্ল্যাটে একটা মেয়ে এসেছ । উনাদের ভাগ্নি হয় । রাজশাহী থেকে
শিল্পকলা একাডেমীতে কি জানি নাচের প্রতিযোগিতা আছে ঐ খানে সেও প্রতিযোগী । সজল
শুনে খুব অবাক হয় । দরজা খুলে পাশের ফ্ল্যাটে কলিংবেল বাজায় । দরজা খুলে কাজের মেয়ে । সজল তবলার সাথে তাল মিলয়ে পা ফেলে আসতে আসতে মেয়েটার রুমে দিকে যায় । মেয়েটা নাচছে তো নাচছে । সজল মেয়েটা দিকে তাকায় কি সুন্দর মেয়ে সেই বেণী করা চুল । সজল মেয়েটা পায়ের দিকে তাকায় । অবাক হয়ে দেখে পকেটের নুপুরের মত তাঁর পায়ের নুপুর । মেয়েটা সজলের দিকে তাকিয়ে নাচ থামায় । সজল পকেট থেকে নুপুর টা বের করে। মেয়েটি অবাক হয়ে নুপুরে দিকে তাকিয়ে থাকে ।।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১১:০১
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্যায়া হুয়া ? হুক্কা হুয়া; হুক্কা হুক্কা হুক্কা হুয়া

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫


২৪ বছর ধরে ঢাবিতে অনার্স পড়ছে; তা-ও নাকি ভাষা শিক্ষা বিভাগে উর্দূ নিয়ে !!! আজতক তার পড়া শেষ হয় নাই !!! এ ভার্সিটিতে নাম লিখালে পন্ডিত মশাই'রা কি কোনও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×