-----------------------------------
প্রেমের কিছু সূত্র গাঁথা ছিল নকশী কাঁথার ভাজে ভাজে
কত রাত, কত দিন, কত আবিরে সেই রঙ্গিন সুই সুতায় বুনা !
কত স্বপ্ন দেখছে বুননের সারিতে সারিতে নকশী করে কাঁথা
বর্ষার বৃষ্টি ঝরে ঝরে পরে নকশীর ভাজে ভাজে আবিরে
এক সময় প্রেমের নকশী কাঁথা শেষ হয় ভালবাসার ছুঁয়াতে ।
সুললিত নীরব হাত ছানির টানে মহুয়ার বনে প্রেমের পরশে
চেয়ে থাকে লাজুক রমণী নাগর তাঁর আসবে পুকুরে পথ ধরে !
নগ্ন চাঁদ সোনালি নির্জনতায় মনের কথা ছড়ায় রমণীর বুকে
আকাশের নীচে বুকময় নিঃসারে শুধু অপেক্ষা করে রাত জেগে !
শীতের বার্তা নিয়ে কাশ বন ঝরে পরে সবুজের ফসলের মাঠে
ভিজে যায় সবুজ মাঠ রূপোগলা আলো মেখে শিশির ফেলে ।
জোনাকি সন্ধ্যা ঝি ঝি শব্দ দূরে ডাহুকের ডাক কানে আসে ভেসে
যেখানে ঘন রাতে জিনপরী নেমে আসে গোপনে মনের কুটীরে ।
অলেখা নিয়ম মেনে প্রেমের সুধা মেখে চেয়ে থাকে রমণী তাঁর ঘরে
নকশীর জমিনে কত প্রেম সুর গান করে মনে চেয়ে দেখে বারং বার !
আকাশ, রূপোঝুরি আলো, পরিব্যাপ্ত মাঠ, মননে রমণীর স্বপ্ন হাসে
হঠাত ডেকে ওঠা রাতচর পাখির অস্তিত্ব চিৎকারে প্রেমের হৃদয়ে
কাঁচা ঘরে কেরোসিনের কুপি জেলে রমণী স্বপ্ন দেখে নাগর আসবে !!
নাগর তাঁর কানের দুল আলতা চুরি ফিতা আর নুপুর নিয়ে
পাশ পারের শাড়ী আর বাসনা সাবান আলতা নিয়ে আসবে
নকশী কাঁথায় তাকে ঘুম পারিয়ে চুলে হাত ভুলাবে রাত জেগে জেগে
রেশমি চুড়ির কিছু শব্দ মাঝে তাঁর নাগরের ঘুম নিয়ে খেলবে ।
চেতনায় বাস্পী হয় গ্রামের রমণীর কত গুনগুন গানের সেই সুর
অন্য কোনো দেশে তাঁর নাগর তখন হয়ত তাকে ভাবে কাজের ফাকে
শীতল গন্ধ মাখা ঠোটে এসে প্রেমের স্বপ্ন ছুঁয়ে যায় কত স্বপ্নের মাঝে
নিতান্ত গ্রামের সেই মানুষীর বুকে কত নকশী কাঁথা হয় শুধু ভেবে ভেবে
সানে বাঁধা পুকুরে রমণী ডুব দিয়ে পিছন ফিরে দেখে
নাগর তাঁর বহু দিন পর নোঙর কারেছে তাঁর ঘাটে
ভেজা কাপরে লাজুক রমণী রুপ লোকায় লাজুক আঁচলে
নাগর তাঁর প্রেমের নয়নে ভালবাসার মুগ্ধতায় হাসে ।।

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




