somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিনা জাহান প্রিয়া
আমি সেলিনা জাহান প্রিয়া , জন্ম পুরান ঢাকা, নাজিরা বাজার , নানা বাড়িতে ।বাবার বাড়ি মুন্সী গঞ্জ , বড় হয়েছি ঢাকা ।স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জ ।ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে , কবিতা , গল্প , উপন্যাস পড়তে অজানাকে জানতে । ধর্ম বিশ্বাস করি কিন্তু ধর্ম অন্ধ না ।

ধারাবাহিক গল্প । অ-মানব ( ৪র্থ পর্ব )

০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





ডিউটি অফিসার ফোনটা হাতে নিয়ে জানতে পারলো যে তাঁর মা আর দুনিয়ায় নেই । কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলল । রাতেই সে তাঁর গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য রওনা দিল । সামছু পুলিশ ঢাকা মেডিকেলের কাজ শেষ করে থানায় এসে কাগজ জমা দিয়ে জানতে চাইল যে পাগল মানুষ টা কোথায় । একজন বলল সে চলে গেছে ।
থানায় ঘুমিয়ে গেল সামছু পুলিশ ।
সকাল ৭ টা ওসি সাব ডাকল সামছু কে । সামছু তাড়াতাড়ি ওঠে হাত মুখ ধুইয়ে স্যারের সামনে গিয়ে বলল -
--- স্যার সালাম
-- হুম । সব কাজ ঠিক মত করেছ কালকে ।
-- জী সার করেছি ।
-- এই নাও এই প্যাকেট রাখ । আর ঐ পাগল কোথায় পেলে আমাকে জানাবে । যাও বাসায় যাও ।
-- স্যার এই প্যাকেটে কি ?
-- কিছু না বাসায় গিয়ে দেখ । আর একটু আগে আমার স্ত্রী এসেছে । তোমার হাতের লিখা তো
অনেক ভাল । কাল থেকে রাইটারের কাজ তুমি কর । আর আমার বিশেষ কাজ গুলো দেখবে ।
সামছু পুলিশ কিছুটা বোকা হল ।
রাস্তা দিয়ে যায় আর মনে মনে ঐ পাগল টা কে খুঁজে । বাসায় আসতেই আলেয়া বেগম বলল রাতে আসবে না এটা কি ফোন করে বলতে পারলে না।
-- আরে কি করে বলি । কত কাজ । তোমার বাড়িওয়ালা কাছে রাতে ফোন করলে আবার ভদ্র
লোক খুব মাইন্ড করে ।
--- যাও আগে গোসল করে এসো । গরম পানি করা আছে । আর তোমার হাতে কি এইটা ?
--- আর বইলো না । ওসি স্যার দিয়েছে । বলল বাসায় যেয়ে দেখতে । আলেয়া বেগম প্যাকেট টা হাতে নিয়ে খুলে দেখে অনেক টাকা । সামছু মিয়াও দেখে অনেক টাকা । গনে দেখে তো পুরাই বিশ হাজার টাকা । যাই হোক ছেলের ভর্তি আর কোন চিন্তা নাই । আলেয়া বেগম বলে তুমি তো আবার কোন বাজে কাজ কর নাই । সামছু বলে সব পুলিশ কিন্তু খারাপ না।
-- হ সব পুলিশ তোমার মত বোকা না। কিন্তু ওসি সাব তোমারে কি মাগনা মাগনা আত্ত গুলো টাকা
দিল । কোন কারন ছারা । আমি তো তোমার চাকুরি বয়সে দেখলাম না। কু পাঁচ টাকা দিতে ।
-- আরে আর কইয়ো না। এক পাগলের সাথে দেখা হইছিল । ঐ যে মানি ব্যাগ ফিরত দিতে গেলাম যেই পাগলের কোথায় । রাতে সুক্কুর দারগা স্যার তাকে ধরে আনে লকাপে রাখে । এই পাগল তো এক অদ্ভুত
পাগল । সুক্কুর স্যার বেয়াদবি করল । সুজা পুলিশ লাইন । রাইটা রফিক বেয়াদবি করল । থানায় এসে সুনি ওকে ওসি স্যার দুই থাপ্পড় দিছে । কাল থেকে আমি রাইটার । রাইটার মানে কেইস লিখলে রোজ পাঁচশ হাজার । ঐ পাগলের জন্য তো ওসি সাবের স্ত্রী এক অনেক দিন ফিরত আসলো ।
-- বল কি ?
-- আরে আজ যে টাকা পাইলাম এটাও কিন্তু ঐ পাগলের কেরামতি ।।সামছু মিয়া মনে মনে ভাবে আসলে মানুষ টা কি পাগল । না পাগল না। আলেয়া বেগম জানালা দিয়ে চেয়ে দেখে ঐ দিনের গাড়ি টা আসছে । সামছু মিয়া গারির কাছে যায় । ড্রাইভার সালাম দিয়ে বলে স্যার আপনাকে যেতে বলেছে ।।
সামছু মিয়া বলে কখন যাইতে বলছে ।
-- বিকালে
-- আচ্চা আমি চলে আসব ।
-- না স্যার আমি আপনাকে নিতে আসব ।
-- আচ্ছা ওকে । সামছু পুলিশে কে ড্রাইভার স্যার ডাকলো শুনে মনটা ভরে গেল ।
আলেয়া বেগম বলল - তুমি তো আমার সাথে কিছু লোকাচ্ছ না। আজ এত টাকা । আবার গাড়ি । দেখ
কোন দু নম্বর কাজ তো করতাছ না। দেখ আমার চিকিৎসা লাগবো না। আমার শ্বশুর খুব ভাল মানুষ ছিল ।
-- আরে আলেয়া তোমার সাথে কি আমি কোন দিন মিথ্যা বলছি । যদি বিশ্বাস না হয় । থানায় গিয়ে ওসি স্যার কে জিজ্ঞাসা করতে পার ।।
-- না তুমি মুখে বলেছ এটাই আমি বিশ্বাস করি ।। সামছু পুলিশ একটা ঘুম দিল । আলেয়া বেগমের মনটা অনেক ভাল আজ । ছেলেটা লিখা পড়ায় খুব ভাল । ভাল একটা কলেজে ভর্তি করা যাবে । ছেলের সুন্দর জিবনের কথা চিন্তা করে তাঁর নিজের চিকিৎসার কথা ভুলে যায় । জগতের সকল মায়েরা হয়ত এমন । প্রতিটা মা চায় তাঁর সন্তান একজন ভাল মানুষ হয়ে বেঁচে থাকুক ।

*********
শীতের বিকাল শহরের মানুষ কিন্তু রোদ পোয়াতে পছন্দ করে না। কিন্তু মিলি বেগম অন্য রকম শীতের দিন বিকালে সে প্রতিদিন একটা বেতের মোড়া তে বসে গায়ে রোদ লাগাবে । তিনি আবার আচার বানাতে খুব পছন্দ করে । ভিবিন্ন রকমের আচার বানিয়ে ছাদে রোদে দিবে । বসে বসে আবার রাস্তার মানুষ দেখবে । আশপাশের মহিলারা তাকে খুব অপছন করে । কারন মহল্লার ছোট ছোট ছেলে রা মিলি খালা মনি বলতে অন্ধ । তাঁর আবার নিজের সন্তান নেই । কিন্তু মহল্লার ছোট বড় সব ছেলে মেয়ে রা তাঁর কাছে আসে কারন সে সবাইকে আদর করে সন্তানের মতো। এটা অনেক মহিলারা পছন্দ করে না। মিলির স্বামী একজন জটিল মানুষ । সব কিছু তেই কিন্তু খুঁজে । কিন্তু মিলির সব আচরণ মেনে নেয় । কারন মিলির বাবা মরে যাওয়ার আগে এই বাড়িটা মিলি কে দিয়ে যায় । মিলি অনেক ক্ষণ যাবত লক্ষ করছে ছাদে বসে একটা লোক রাস্তায় মোরে দাড়িয়ে আকাশের দিকে চেয়ে আছে । যে যায় তাঁর দিকে একবার তাকায় । একটা মানুষ কত ক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারে । মিলি তাই দেখছিল । পাশের বাসার ১১ বছরের তুতুল এসে বলল - মিলি খালা কাল ভোর রাত থেকে লোক টা এই জায়গায় দাঁড়ানো । মনে হয় পাগল । এখন বেলা কত চিন্তা কর ?
--- আসলেই তো
--- মনে হয় নেশা টেশা করে ।
--- আরে না মিলি খালা । যারা নেশা করে ওদের চোখ লাল থাকে । ব্যবহার খারাপ হয় । ও কিন্তু
অন্য রকম । আমি বললাম কি তুমি । ও বলল আমি তুমি কে । আমি বললাম আমি তুতুল ।
বলল না তুমি হলে তুতুল নামে পরিচিত আসলে তুমি একজন মানুষের জাত মাত্র । কেমন
পাগলের মত কথা না ! মিলি খালা মনি ।। আম্মু বলে ও নাকি ছেলে ধরা ।।
--- শুন তুতুল । মা ঠিক বলেছে । মা চায় না যে তুমি পাগলের কাছে যাও । তুমি বরং একটা কাজ
কর আমি কিছু খাবার দেই । তুমি ওকে যেয়ে দাও ।
মিলি ছাদ থেকে নেমে ঘর থেকে এক বোতল পানি আর একটা বক্সে কিছু খাবার দিলো তুতুলের হাতে। পাগলটা কে দেয়ার জন্য । তুতুল বলল- মিলি খালা তুমি না! পারও। মানুষের সেবা করতে।
তুতুল খাবার নিয়ে পাগল টার কাছে এলো । অনেক মানুষ এই অদ্ভুত মানুষ টা কে দেখছে ।
পাগল খাবার দেখে বলল - যার খাবার তাকে আনতে বল । সে না আসলে আমি এই খাবার খাব না

চলমান------

সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ২:৩৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিনাকী ভট্টাচার্য কেন দেশে আসে না, জানেন?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯


Pinaki Bhattacharya - পিনাকী ভট্টাচার্য তিনিঞ্চি কেন দেশে আসে না জানেন? তার পাসপোর্টই তাকে সে অনুমতি দেয় না। Meghna Alam থেকে প্রাপ্ত এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে তার পাসপোর্টে স্পষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের সেই এন্টিনিয়ার।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৮

কিছু স্বপ্ন, কিছু স্মৃতি এবং নানীর বাড়ি



আমি বেশ কিছুদিন ধরে একটি বিশেষ ধরনের স্বপ্ন দেখছি। স্বপ্নের কথায় যাওয়ার আগে কিছু পেছনের গল্প বলা প্রয়োজন।

ক্লাস নাইনে পড়ার সময় থেকে অনার্স... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×