somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিনা জাহান প্রিয়া
আমি সেলিনা জাহান প্রিয়া , জন্ম পুরান ঢাকা, নাজিরা বাজার , নানা বাড়িতে ।বাবার বাড়ি মুন্সী গঞ্জ , বড় হয়েছি ঢাকা ।স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জ ।ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে , কবিতা , গল্প , উপন্যাস পড়তে অজানাকে জানতে । ধর্ম বিশ্বাস করি কিন্তু ধর্ম অন্ধ না ।

গল্প । অ-মানব @ ২০ পর্ব

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেবিকা বলল – কেন জানি আপাকে খুব বিশ্বাস হয় । জিবনে কাউকে না কাউকে বিশ্বাস করতে হয় । বিশ্বাস না করলে চলব কি ভাবে ।
পাগল সেবিকার দিকে চেয়ে বলে – সব কিছুর একটা সীমানা থাকা উচিৎ । হউক সেটা বিশ্বাস তারও সীমানা থাকা চাই । কারো কথা বিশ্বাস করার পূর্বে দেখতে হবে যে এর আগে এমন বিশ্বাস কেউ কি করেছে । আর যারা করেছে তারা কি পেয়েছে ।
— এই ধারনা গুলো কোথায় পাওয়া যায় ।
— দেখুন মানুষের চিন্তা ভাবনা প্রায় সব সময় সমান তালে চলে । সেই সব চিন্তা মানুষ অন্যদের দরকারে লিখে গেছে । তাই বেশি করে মানুষ কে পড়তে হবে। আপনি একজন মুসলিম ধর্মে বিশ্বাসী । আর সব চেয়ে মজার ব্যাপার হল কি জানেন
আপনার পবিত্র বিশ্বাস হল একটি কিতাব । আর এই কিতাবে প্রথম যে কথাটি তার রাসুল কে মাবুদ বলেছে তা হল ~ পড় তোমার প্রভুর নামে যে তোমাকে সৃষ্টি করেছে জমাট রক্ত থেকে ”
— সেবিকা বলল , আপনি অনেক জানেন । তাই আপনার কাছে আসা ।
নাজ ও নাদিয়া চুপ করে পাগলের কথা শুনছে । পাগল বলল – বল তোমার কথা ।
— আপনি ঐ দিন হয়ত হাসপাতালে একটা ফর্মের পিছনে আমার কিছু লেখা ছিল
তা পড়েছেন ।
— হা চোখের সামনে চলে এসেছে । আপনি তাঁকে ৭ দিন সময় দিয়েছেন বিয়ে করার
জন্য ।
— হ্যা । কিন্তু ঐ ডাক্তার সাব এখন আমাকে আর বিয়ে করতে চায় না। আমি ওকে
অনেক বিশ্বাস করেছি । ঐ ডাক্তারের কাছে আমি আমার জীবনের সব কিছু
ই দিয়েছি । যখন যা বলেছে । আমি ওর সব কথা নিজের মত করে শুনেছি ।
গত তিন বছর আমাকে সেও পাগলের মত ভালবাসত । কিন্তু আজ কাল
কিছু দিন হল সে আমাকে কোন ভাবেই সহ্য করে না। খন আমার সাথে কথা
বলে না। আমি শুনলাম আগামি মাসে ওর বিয়ে । আর ও বদলি নিয়েছে ।
সিলেট থেকে । আমি ওকে না পেলে মরা ছারা কোন উপায় নেই ।
— আপনার বিষয় টা কি আপনার পরিবার কে জানিয়েছেন ।
— হ্যা জানিয়েছি । ওকে নিয়ে আমাদের গ্রামের বাড়ি নরসিংদী রায়পুর পর্যন্ত
গিয়েছি । ও সাত দিন ছিল আমাদের গ্রামের বাড়িতে । গ্রামের বাড়িতে
সবাই জানে যে আমাকে ঐ ডাক্তার বিয়ে করবে ।।
— পাগল একটু হেসে বলে দেখুন মানুষ যদি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে তখন পাগল হয় ।
ঠিক কি না।
— হ্যা পাগল হওয়া ছারা তো আর কোন পথ নেই ।
— হ্যা এই তো পথে আসছেন । আপনি পড়ে পাগল না হয়ে পাগল এখন হতে হবে ।
মনে রাখবেন পাগলের কোন লজ্জা সরম ভয় , খুদা নিদ্রা নাই । ঠিক কিনা ।
— হ্যা একদম ঠিক । কিন্তু আমি তো পাগল না।
— হে আপনি পাগল না। কিন্তু ও যদি আপনাকে বিয়ে না করে তবে কি আপনি
পাগল হবেন না। পাগল না হলে তো আত্ম হত্যাও করতে পারবেন না।
—- পাগল হলে কি ওকে পাব ।
—- আরে বোকা মেয়ে এই পাগল সেই পাগল সেই পাগল না। যদি আপনি
আমার কথা শুনেন তাহালে আপনি ডাক্তার কে পাবেন ।
— হা ওকে পাওয়ার জন্য আমি সব করতে পারি ।
— দেখুন ওকে পাওয়ার জন্য আপনি সব করতে পারবেন না। এটা আপনার
মুখের কথা । একটা মেয়ে মানুষ চাইলেই বাজারের মাঝ খানে দারিয়ে নাচতে
পারে না। আমি যেটা বলছি সেটা করলে ই হবে । আজ একটা কথার উত্তর দেন
ঐ ডাক্তার আপনার সাথে প্রেম করার জন্য যা যা বলেছে । যত স্বপ্ন দেখিয়েছে
সব মিথ্যা কি না ।
— হা আজ তো তাই দেখছি সব মিথ্যা ।
—- পাগল বলল আসলেই সব মিথ্যা না। কারন আপনি লিখা পড়া না করে প্রেম
করেছেন । সবার প্রেম করার আগে একটু লেখা পড়া করা দরকার । লাইলি
মজনু হবার জন্য আমাদের নাটক সিনেমা আর কিছু কবিরা দায়ি । তারা প্রেম
কে এমন ভাবে উপস্থাপন করে । যেন প্রেম করলে ভাত খেতে হয় না। কিন্তু
আমি খুব অবাক হই । সব ছেলে রা বা সব মেয়ে রা প্রেম কি বুঝার আগেই
একজন অন্য জনের কাছে বিক্রি হয়ে যায় । যাই হউক আপনি কিন্তু ডাক্তার কে
চান । ডাক্তার ভাবছে প্রেম করব একশত । প্রেম করতে তো কাবিনামা লাগে
না। বদমাইশ কে আমি প্রেমের সরল পথ দেখাব ।।
নাজ পাগলের কথা শুনে তারাতারি তার ঘরে যায় । নাদিয়া বলে মানুষ এত খারাপ হয় । একজন ডাক্তার । পাগল বলে ডাক্তার রা কি মানুষ না। মানুষের মধ্য আছে লোভ । আর মানুষের লোভ মানুষের শান্তি নষ্ট করে । পাগল বলল আপনার নাম জানা হল না।
— সেবিকা বলল আমার নাম দিলরুবা আর ডাক্তারের নাম জীবন ভুঁইয়া ।
— পাগল বলল আজ হল আপনার প্রথম কাজ । ডাক্তার কে বলবেন তুমি
আমাকে বিয়ে না করলে আগামি ৭ দিনের মধ্য কি কি হবে তার একটা তালিকা লিখে দিবেন । আর বলবেন এই তালিকা একটা কপি আপনার বান্ধবির কাছে আছে ।
আর বলবেন আপনার বান্ধবি হল একজন সাংবাদিক জাতিয় পত্রিকায় কাজ করে ।
চা খেতে থাকেন । রাত ৮ টায় আমি তালিকা দিয়ে আসব আনাকে । আপনি আমার তালিকা দেখে হাতে লিখবেন । এবং তাঁকে দিবেন । কাজ শুরু হলে ও আপনাকে নিয়ে হয়ত বেড়াতে যেতে চাইবে । আপনি রাজি হবেন । এই কয় দিন ও যা বলবে টা সবেই মিথ্যা । দিলরুবা কোন কিছু বিশ্বাস করবেন না। আর আপনি যে ওকে অবিশ্বাস করছেন তাও তাঁকে বুঝতে দিবেন না। এখন বিদায় দেখা হবে রাতে আপনার হাসপাতালে ।
সেবিকা দিলরুবা চলে যায় । নাজ একটু চিন্তায় পড়ে গেল । নাদিয়া বলল নাজ তকে আপা ডাকছে । নাজ তার নাজু আপার সামনে নাজু বলতে লাগলো কোচিং রেখে কোথাও যাও শুনি ।
— আপা আমি কোথাও যাই না। নাজু একটা চর দিয়ে বলল । আমার সাথে মিথ্যা বলছ তুমি । নাদিয়া এসে বলল আপু কিচু বল না । ভাইয়া আজ ওকে চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়েছে যে জীবন কেমন । যদি এর পর ভাল না হয় তবে তার কপাল । নাদিয়া বলল – নাজ তুমি কোথায় যাও কি কর । আমার কাছে সব খবর আছে। আপুর সাথে কথা বলে দেখি যদি আপু ভাল মনে করে তাহলে আমার আগেই তকে বিয়ে দিয়ে দিব । কাল আমাকে কোচিং এ নিয়ে যাইস । নাজ চুপ চাপ অন্য ঘরে চলে যায় । নাদিয়া জানালা দিয়ে পুকুর দিকে তাকিয়ে থাকে । পুকুরে পার গুলো খুব সুন্দর
করে বেধেছে । শিমুল গাছের পাতা গুলো শীতে ঝরে গেছে । চোখ ফিরিয়ে জানালা দিয়ে চেয়ে দেখে পাগলের সাথে সেই কুকুর টা বাসার গেইটের সামনে । কুকুর টা সব সময় পাগলের কাছে কাছেই থাকে । নাদিয়া চিন্তা করে এই মানুষ টা আসলেই কে । কোন কিছু নিয়ে চিন্তা করে না। সব কিছুর মাঝে কেমন একটা সুন্দর ব্যাখ্যা দেয় ।
জানালা থেকে মুখ সরিয়ে পাগল মানুষটার কাছে হেঁটে হেঁটে যায় ।
— পাগল মানুষ টার দিকে চেয়ে বলে ভাইয়া বাহিরে যাবেন ।
— হা দিলরুবা কে একটু সাহায্য করি ।
— আমি সাথে যাব ।
— আমি তো হেঁটে হেঁটে যাব ।
— আমি আপনার সাথে হেঁটেই যাব ।
— আপু কে বলে নাও । যদি যেতে দেয় তবেই এসো ।
— আপু তোমার সাথে গেলে না করবে না। আজ তোমার জন্য একটা
দারুন জিনিস রান্না করেছে ।
— হা গন্ধ পেলাম । মনে হয় পায়েস ।
— ঠিক বলেছ । আপুর হাতের পায়েস খুব মজা । অবশ্য দুলা ভাই কেন জানি পছন্দ
করে না।
— আচ্ছা কেন করে না জানতে চাও । চল হাঁটতে হাটেতে বলি ।
দু জন মিলেই হাঁটছে । নাদিয়া বলল -আচ্ছা ভাইয়া অনেক দূর তো রিক্সা নিচ্ছেন
না কেন ।
— আমার কাছে টাকা নেই ।
— আমার কাছে আছে ।
— আমার কাজে তুমি টাকা ব্যয় করবে কেন ।
— আপনি একটা ভাল কাজ করছেন । তাই ।দুজন মিলে রিক্সায় উঠল । নাদিয়া
বলল দুলা ভাই পায়েস কেন খায় না।
— তোমার দুলা ভাই একবার পায়েস খেয়ে একটু আসুস্থ হয়ে ছিল । ঐ ভয় এখনো আছে । কারো মধ্যে একবার ভয় চলে আসলে । সেই ভয় সহজে তাঁর জীবন থেকে যায় না । মানুষের সব কিছুতেই ভয় কাজ করে । তবে অনেক মানুষ কে আজ এই ভয় পাপ কাজ হতে বিরত রেখেছে । জগতের সকল ধর্মের মধ্য প্রথমে ভাল কাজের কথা বলা আছে আর মন্দ কাজের জন্য তাদের পরকাল বা পুনঃজন্ম হবে তখন তকে
কঠিন সাজা পেতে হবে । সরল মানুষ তারাই যারা ভয় পায় । এবং সরল মানুষরা জিবনে সুখ পায় ।
— ভাইয়া কি সুন্দর করে কথা বল তুমি । তোমার কাছে অনেক কিছু শেখার আছে ।
— চলে আসলাম নাদিয়া তুমি এই কাগজ টা দিলরুবার কাছে দিয়ে এসো । আর তোমার ফোন নাম্বার টা । দরকার হলে যেন ফোন করে ।
নাদিয়া দিলরুবার রুমে গিয়ে একটা কাগজ দিতেই । দিল রুবা হাতে নিয়ে পড়তে থাকে । দিলরুবা কাগজটা পড়ে একটা হাসি দেয় । আসলেই তো । অনেক সুন্দর একটা আইডিয়া ।

চলমান———–——
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৫৯
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাকে দিয়ে সেলস হবে না

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৫৫

আমাকে বাংলাদেশের এক ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি তাদের সেলসে সহায়তা করার অনুরোধ করেছে। কোম্পানি ভালো, বাজে কোন রেকর্ড নেই। আমার কাজ হচ্ছে, আমার পরিচিত মানুষদের সাথে তাদের মার্কেটিং টিমের যোগাযোগ করায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×