
মৃত্যুর পর বাঁশের খাটিয়াতে চড়েই যেতে হবে। দাফনের পর মাটিচাপা দেওয়ার আগেও বাঁশ লাগবে। অর্থাৎ জীবনের কোনো প্রান্তেই বাঁশ থেকে মুক্তি নেই। কিংবা বলা যেতে পারে, আমাদের জীবন কোনোভাবেই বাঁশমুক্ত নয়। আমাদের সাহিত্যে বাঁশের ব্যবহার আছে। রাধা-কৃষ্ণের অমর প্রেমকাহিনীর সঙ্গেও কী চমৎকারভাবে জড়িয়ে গেছে বাঁশ! বাঁশ থেকে যে বাঁশি তৈরি হয়, সেই বাঁশিতে সুর তুলতেন কৃষ্ণ।
বাঁশ জিনিসটা যে অতি প্রয়োজনীয় সেটা আমরা যেমন বুঝেছি, আমাদের মতো বিদেশিদের কাছেও বাঁশ অতি প্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে আজকের দিনে যখন 'পরিবেশবান্ধব' কথাটা সবার কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে, তখন বাঁশও প্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। এখন লাঠিখেলা একটি শিল্পসম্মত ক্রীড়া।বাঁশ শব্দের ব্যবহারেও পরিবর্তন লক্ষ করি আমরা। কারো বাঁশ যাচ্ছে, কেউ বাঁশ খাচ্ছে, কেউ বাঁশ দিচ্ছে। কোনো ঘটনা কারো জন্য বাঁশ হয়ে যাচ্ছে। অমুক বাঁশ খেয়েছে, অমুক বাঁশ দিয়েছে, অমুক সেধে বাঁশ নিয়েছে- এমন অনেক কথা আমরা শুনে থাকি। কদাচিৎ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বাঁশকেও অস্থায়ী ভাবে অবৈধ বলে থাকেন।বাঁশ কোন ফলজ বৃক্ষ নয়, ফুলের জন্য তার কোন সুনাম-সুখ্যাতি নাই ।১৯৬৩ সালে শিকাগো শহরে ৪৩ তলা বিশিষ্ট ‘চেস্টনাট ডিউইট অ্যাপার্টমেন্ট’ নির্মিত হয়। এ ভবনটির ডিজাইনার গোলাকার ভাবে সেটিকে তৈরি করেন। এই ভবন তৈরি হবার পর পুরো দুনিয়ায় হই চই পরে যায়।১৯৭৩ সালে তিনি আমেরিকার শিকাগো শহরে ১১০ তলাবিশিষ্ট ১৪৫৪ ফুট উঁচু ‘সিয়ার্স টাওয়ার’ নির্মাণ করে বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। ১৯৭৩ থেকে ৯০ দশক পর্যন্ত এটিই বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন ছিল। টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পরে বর্তমানে এটিই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অট্টালিকা। এসব অতি উচ্চ ও মনোরম অট্টালিকা তৈরি করে তিনি প্রমাণ করেন, বাঁশ থেকে প্রাপ্ত বিদ্যা কোন তামাশা-মশকরার বিষয় ছিলনা। । বাঁশ থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি দুনিয়ায় ইঞ্জিনিয়ারিং বিদ্যায় বিশাল অবদান এবং সর্বোচ্চ ভবন তৈরির জন্য বহু তথ্য-প্রমাণ রেখে গেছেন। যার কারণে তাঁকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার বলা হয়
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০১৬ বিকাল ৪:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



