somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিনা জাহান প্রিয়া
আমি সেলিনা জাহান প্রিয়া , জন্ম পুরান ঢাকা, নাজিরা বাজার , নানা বাড়িতে ।বাবার বাড়ি মুন্সী গঞ্জ , বড় হয়েছি ঢাকা ।স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জ ।ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে , কবিতা , গল্প , উপন্যাস পড়তে অজানাকে জানতে । ধর্ম বিশ্বাস করি কিন্তু ধর্ম অন্ধ না ।

অনু গল্পঃ- অন্ধের আখি

১০ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সকালের রোদ মিষ্টি তাই আখি রোজ সকালে মিনিট পাঁচেক রোদে থাকে । তিন তলার ছোট বারান্দা দখিন দিকে চলে গেছে একটা রাস্তা । রাস্তার শেষ মাথায় একটা কাঁঠাল গাছ । সেই গাছের নিচে এক জন লোক বসে ভিক্ষা করে । আখি রোজ দেখে একবার লোকটাকে । মনে হয় ফজরের নামাজে শেষ করে এসে গাছ তলায় বসে । ঠিক ১১ টায় ভিক্ষা শেষ করে চলে যায় । আজ সকাল থেকে বেশ বৃষ্টি আখি একবার বারান্দায় যায় । আখির চোখ যায় সেই কাঁঠাল গাছ তলে দেখে লোকটি বৃষ্টির মধ্য ভিজে বসে আছে । আখির কাজের মেয়ের কাছে জানতে পারে লোকটি অন্ধ । আখি ছাতা দিয়ে কাজের মেয়ে হিমু কে লোকটির কাছে পাঠায় । বেশ কয়দিন এই ছাতা নিয়ে গাছ তলে আসে ভিক্ষুক । আজ বৃষ্টি নাই । আখি সকালে অন্ধ লোকটির জন্য গরম রুটি সবজি চা পাঠায় । এমন করে রোজ সকালে নাস্তা পাঠায় আখি অন্ধ লোকটির জন্য ।
কিন্তু আখি কোন দিন অন্ধ লোকটিকে দেখতে যায় নাই । ঠিক এক বছর পরের কথা আখি নিজ হাঁতে পায়েস রান্না করে তার কাজের মেয়ে কে দিয়ে পাঠায় । কাজের মেয়ে অন্ধ মানুষটি কে বলে মেম সাব নিজের হাঁতে রান্না করেছে । আর আপনার জন্য পাঠিয়েছে সবার আগে । আখি বারান্দায় গেলে অন্ধ লোকটি হাত উপরে তুলে । আখি ভাবে হয়ত সে সময়টা মনের মধ্যে গেঁথে রেখেছে । তাই আমি আসলেই হাত তুলে । আখি রোজ একটা সময় বারান্দায় আসে ।। যেই দিন পায়েস খেল ঠিক তার পর থেকে
অন্ধ লোকটি আর আসে না গাছের নিচে । আখি বারান্দায় গেলে তার চোখ যায় ঐ গাছের দিকে । কিন্তু পনের দিন হয়ে গেল অন্ধ মানুষটি কেন আসে না আখির খুব চিন্তা হতে লাগলো । শেষ পর্যন্ত আখি তার কাজের মেয়ে কে নিয়ে অন্ধ মানুষটিকে খুজতে লাগলো । অনেক খোঁজার পর শেষ পর্যন্ত সেই অন্ধ মানুষ টির ঘর খুজে পেল ।
একজন বৃদ্ধা মহিলা বস্তি ঘর থেকে বের হয়ে জানালো সে মারা গেছে । বৃদ্ধা মহিলার মামা হতো সেই অন্ধু লোকটি । আখি যখন বিদায় নিবে তখন বৃদ্ধা মহিলা বলল আপনি কি রোজ মামার জন্য রুটি পাঠাতেন । আখি বলল হ্যা । বৃদ্ধা মহিলা বলল একটা কথা বলি শুনবেন । আখি বলল হা বলুন ? আসলে মামা অন্ধ ছিল না। সে একটা কালো চশমা পরে বসে থাকত । শুধু আপনাকে দেখার জন্য ।
আখি অবাক হয়ে বলল আমাকে দেখার জন্য ?
---- হ্যা মেম সাব আপনাকে দেখার জন্য । কারন সে আপনার বাবা । আপনার মা কে বাঁচাতে অনেক টাকা লাগবে জেনে একদিন আপনাকে এক ধনি পরিবারে বিক্রি করে দেয় । কিন্তু আপনার মা আর বাঁচে না। অনেক খুজার পর একদিন আপনার দেখা পায় । কিন্তু আপনার সামনে যাবার মতো সাহস ছিল না। তার শেষ ইচ্ছা ছিল আপনার হাতের পায়েস খাবার । যেই দিন আপনার হাতের পায়েস খেল সেই দিন আমাকে বলল যে রান্না টা মধ্যে ওর মায়ের গন্ধ পাই । আর সেই সকালে সে মারা গেল ।। আমাকে কসম দিয়েছেছিল না বলার জন্য । মামা বলেছিল দেখবি আমাকে না দেখলে আমার মেয়ে আমাকে খুজতে আসবে । রক্তের একটা টান আছে ।।
আখি চিৎকার করে কাদতে লাগলো সারা জীবন সে মনে মনে তার বাবা বাবা কে খুজেছে কিন্তু এত কাছে পেয়েও সে তাকে ছিনতে পারে নাই ।
আখি চিৎকার করে বলে এক বার তোমাকে বাবা ডাকতে পারলাম না।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:২৪
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×