somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিনা জাহান প্রিয়া
আমি সেলিনা জাহান প্রিয়া , জন্ম পুরান ঢাকা, নাজিরা বাজার , নানা বাড়িতে ।বাবার বাড়ি মুন্সী গঞ্জ , বড় হয়েছি ঢাকা ।স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জ ।ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে , কবিতা , গল্প , উপন্যাস পড়তে অজানাকে জানতে । ধর্ম বিশ্বাস করি কিন্তু ধর্ম অন্ধ না ।

গল্প @ বৃষ্টিস্নাত রাত্রির মায়া . . !

০৩ রা মে, ২০১৭ বিকাল ৩:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



টিপ টিপ নয় মুষল ধারে বৃষ্টি হচ্ছে । রাত ২ টা ক্লাব থেকে বের হয়ে গাড়িটা নিজেই চালিয়ে বাসায় ফিরছে আবির । আজ একটু বেশী খেয়ে ফেলেছে । মাতাল হয়ে গাড়ি চালাতে তাঁর খুব ভয় লাগে । কেন যে ড্রাইভার কে ছেরেছিল এখন তাঁর কাছে নিজেকেই বোকা লাগছে । বনানি থেকে বের হয়েছে গাড়ি নিয়ে । এত বৃষ্টি আজ আর পুলিশ চেক পোষ্টে কাউকে দেখছে না। মনে মনে একটু হাসে বলল যাক বাচা গেল । প্রায় রাতে পুলিশ বলে কোথায় থেকে এসেছেন । কোথায় যাবেন । আবির একটু হেসে বলে মায়ের কাচে এসেছিলাম এখন বউয়ের কাছে যাচ্ছি । পুলিশ একটু হেসে বলে যান স্যার । আবির আর যাই করুক আইনের মানুষ আর রাজনীতি যারা করে তাদের খুব সম্মান করে কথা বলে । আবিরের স্যার বলেছিল । পুলিশ আর পলিটিশিয়ান তারা বাপের পাপ । একবার হারে হারে টের পেয়েছিল কলেজে পড়ার সময় । তাঁর পর থেকে তাদের কে দেখলে সালাম দেয় । এত বৃষ্টি আর বিজলী চমকাচ্ছে সাথে বাতাস । আবির গাড়িতে একটা গান ছেরে দিল । রুনা লায়লার এই বৃষ্টি ভেজা রাতে চলে যেও না । মনে মনে ভাবতে থাকে এই গান তাঁর জন্য না। গানটা বন্ধ করে রেডিও চালিয়ে দিল । বাহ রেডিওতে একেই গান । একটু হেসে বলল মনে হয় নেশা টা বেশী হয়ে গেছে । মাতাল হলে ভালই লাগে । তখন প্রতিটা মানুষ রাজা । আবির মনে মনে বলে আমিও রাজা । গাড়ি বনানী পাড় হয়ে উত্তরা মুখী । নেভি হেট কোয়াটার পারি দিয়ে আরও সামনে এগুতে লাগলো । কালসি ফ্লাই ওভার সামনে । আবির নিজেই একটা গান গাইতে লাগলো । গাড়ি যাচ্ছে কুড়িল ফ্লাই ওভার সামনে আসতে আবিরের চোখ গেল ফ্লাই ওভারের নিচে একটা মেয়ে হাত দেখাচ্ছে । বৃষ্টির মধ্য অনেক গাড়ি ছুটে চলছে । মেয়েটার হাতের ইশারায় কোন গাড়ি থামছে না। আবির গাড়িটা সাইড করে ভাল করে মেয়েটা দেখছে । আলো আধারের মাঝে বেশ সুন্দর লাগছে । মেয়েটা কিছু টা ভিজে গেছে । আবির মেয়েটার কাছে যায় গাড়ি থেকে নেমে । পকেট থেকে সিগারেট বের করে আগুন ধরায় । মেয়েটা আবিরের দিকে তাকায় । আবিরের আর বুঝতে বাকি থাকে না । আসলে মেয়েটা ভাল না। একটা খারাপ মেয়ে । আবির মেয়েটার কাছে যায় । হেড লাইটের আলোতে মেয়েটা কে অপূর্ব লাগছে । আবির বলে কি ব্যাপার ডর ভয় নাই রাত কটা বাজে । মেয়েটা একটু হাসি দিয়ে বলে একটা সিগারেট হবে স্যার । আবির হেসে বলে- হবে নাও ।
মেয়েটা বলল ধন্যবাদ । সিগারেট ধরিয়ে বলল স্যার বৃষ্টি কেমন লাগছে । আবির বলল বৃষ্টি নিশি রাত রাস্তার লেম পোস্টের আলো সাথে একটি রমণী বাহ ! চমৎকার । তা কি নাম তোমার । মেয়েটা একটু হেসে বলে আমাদের কোন নাম নেই । রাতের বেলায় যে যার মতো নাম দিয়ে নেয় । সকালের আলোর সাথে সেই নাম হারিয়ে যায় ।
আবির বলল বাহ চমৎকার করে কথা বলত ।
----- আমরা নারিরা খুবেই চমৎকার । আমরা হলাম চাষের জমিন । যত দিন উর্বর ততদিন কেউ না কেউ চাষ করে যায় ।স্যার আপনার মুখ থেকে মালের গন্ধ আসছে । কি মাল খেয়েছেন । লোকাল না বিলাতি ।
আবির বলে নেশা করেছি এটা সত্য কিন্তু গন্ধ নিয়ে যে মাল না চিনে সে মালের মুল্য বুঝে না।
মেয়েটা হেসে বলে ভোঁতকার গন্ধ লোকানোর যায় না । আবির হেসে বলে বাহ চমৎকার । একটু খাবে নাকি ?
মেয়েটা বলে হাত ঘড়ি দেখুন রাত অনেক যদি পুলিশ মামু আসে আপনাকে এক মালের বদলে দুই মালের জন্য চালান দিবে ।
আবির বলে দুই মাল মানে বুঝলাম না । মেয়েটা হেসে বলে আরেকটা সিগারেট দেন
স্যার । মদ যেমন মাল আমরা নারিরাও কখনো কখনো মাল । এই আমি এক সময় বাবার রাজ কন্যা ছিলাম । প্রেমিকার তাজ মহল আর এখন ফুটপাতের মাল ।
আবির বলে তোমার কথা শুনে আমি অবাক হয়েছি । কি চমৎকার করে কথা বল তুমি । তা তোমার এক রাতের জন্য কত নাও । মেয়েটা হেসে বলে আজ রাতে নিবেন নাকি ? যেই বৃষ্টি পড়ছে । খুব ইচ্ছা করছে বৃষ্টিতে ভিজতে । কিন্তু সকালের সাথে সাথেই চাই টাকা । ইচ্ছা করলে বৃষ্টিতে ভিজতে পারছি না । তবে আপনি যদি নেন তাহলে টাকা লাগবে না ।
আবির বলে টাকা নিবে না কেন আমার কাছ থেকে ?
---আপনি সেই রকম মানুষ না । আপনাকে দেখে আমার প্রেমিকের কথা মনে পড়ে গেল ঠিক আপনার মতো কোন দিন হাত ধরার সাহস পায় নাই । আসলে সে আমাকে সম্মান করেই হাত ধরত না ।
----- তাই । তুমি তাকে মিস কর ?
----- করি স্যার ?
----- সে কোথায় ?
---- জানি না । থাক সে কথা । স্যার আপনি চলে যান । আপনে থাকলে আমার কাস্টমার আসবে না। যদি বৃষ্টি কমে তাহলে হয়ত কেউ আসবে ?
---- আবির বলে দেখ বৃষ্টি বারছে । আকাশ চিৎকার করছে । চল বৃষ্টিতে ভিজি আজ তোমার কাস্টমার আমি । বল কত টাকা নিবে ।
----- আপনি বলেন কত দিবেন ?
---- দশ হাজার ।
---- স্যার ফান করবেন না। আমার মুল্য এত না।
----আরে আজ বাজারে আগুন । মনে কর কোন মাল নেই তাই তোমার মুল্য বেশী । আজ রাত তোমার মুল্য ১০ হাজার ।
---- সার আডভান্স করবেন না?
---- আরে এত টাকা রাখবে কোথায় ? এই যে বৃষ্টি ভেজে যাবে না।
--- স্যার বুকের মধ্য যত্ন করে রাখব টাকা ভিজবে না।
---- আচ্ছা দাঁড়াও দিচ্ছি । গাড়ি থেকে নতুন ১০ টা নোট বের করে দেয় । টাকা গুলোর দিকে চেয়ে মেয়েটা বলে বাহ চমৎকার কেন এমন বৃষ্টি রোজ রোজ আসে না। আবির হেসে বলে হয়ত আমাদের রাস্তা এক হয় না তাই আসে না।
আবির বলে চলুন ভিজি । মেয়েটা বলে বলেন কি ভিজব মানে । আমাকে নিয়ে চলুন । আবির হেসে বলে আরে আমি তো আপনাকে নিয়ে যাব এই কথা বলি নাই ।
আমি শুধু আপনাকে নিয়ে ভিজব । মেয়েটা বলে আপনার তো জ্বর আসবে । আমরা ভিজলে কিছুই হবে না। আপনার জামা কাপড় ভিজে যাবে । আর বৃষ্টি দেখছেন । আবির বলে আরে চলুন রাস্তার মাঝে রাতের বেলায় বৃষ্টিতে ভিজতে কেমন লাগে দেখি । তবে নিশি কন্যা আমি কিন্তু মাতাল আর হাই ওয়ে রাস্তা বলে আবির বৃষ্টির মধ্য রাস্তায় নেমে যায় । একটা গাড়ি আবিরের উপরে আসবে আসবে এমন সময় মেয়েটা আবিরের হাত ধরে টান দেয় আবির সেফ হয়ে যায় কিন্তু অন্য একটা গাড়ি মেয়েটা কে ধাক্কা দিয়ে ফুট পাতের উপরে ফেলে দেয় । ঐ গাড়িটা উলটে যায় । আবির বৃষ্টির মধ্য বোকা হয়ে যায় । মেয়েটার মাথা থেঁতলে যায় । হাতের কাচের চুরি হলুদ লাল পারের কাপড় রক্তে একাকার । আবির চুপ হয়ে দাড়িয়ে দেখে । ভোর চারটা । চার দিক থেকে গাড়ি আর গাড়ি । পুলিশের গাড়ি আসে মেয়েটার লাশ তুলে । যেই গাড়িটা উলটে গেছে সেই গাড়ি চালক বেঁচে আছে । আবির অবাক হয়ে যায় । বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ফ্লাই ওভারের নিচে আসে । ফোনটা বের করে তাঁর ড্রাইভার নুরু কে ফোন করে । সাংবাদিক ছবি তুলছে নুরু এসে আবির কে গাড়িতে তুলে তখন ফজরের আযান হচ্ছে । আবিরের চোখে সেই মেয়েটার ছবি ভাসছে । যদি মেয়েটা তাকে না বাঁচাতে আসতো তাহলে আজ আবির মেয়েটার জায়গায় থাকত ।।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০১৭ রাত ৮:৩৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

থাক অহমিকায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


তোমার রঙিন আকাশে নেই
যে অমাবস্যার- অন্ধকার
ঝলমল করছে শুধু চাঁদ-
ডুবছ ডুবছ সুখমারী রাত!
উড়ছ শঙ্খচিলের ডানায়;
তোমার আকাশে অমাবস্যা নাই।

আমি মাটি বন্দি হয়েছি
মরার আগেই- মরার আগেই-
স্বপ্ন দেখি শুধু হুতুম পেঁচা হব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন[

শেখ মুজিব ইতিহাসের খলনায়ক।
জাতীয় বেইমান।
পাকিস্তান ভাঙার অপরাধী।
- এই কথাগুলো আপনি বিশ্বাস করেন?
তাহলে আজ আপনাকে একটা অনুরোধ করব- একবার শুধু থামুন।

রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৫

ফারাজা তাবাসসুম খান-
অনেকদিন তোমাকে নিয়ে লিখি না। খুব ব্যস্ত আছি। আমার সব সময় নিয়ে নিচ্ছে অফিস। আমি অফিস থেকে তোমাকে ফোন করলে তুমি কথা বলতে চাও না। আবার আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Mystic River – জোয়ারে ফিরে আসে সবকিছু

লিখেছেন রাজসোহান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩১



১৯৭৫ সালের বোস্টন। শ্রমজীবী মানুষের সাধারণ পাড়া। রাস্তায় হকি খেলছিল তিনটে বাচ্চা ছেলে। হঠাৎ বল গড়িয়ে পড়ল ড্রেনে। খেলা ওখানেই শেষ। ফুটপাতের একপাশে তখন সদ্য ঢালা ভেজা সিমেন্ট। ছেলেগুলো কাঠি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×